
২০ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনটি যখন জারি হলো, তখন ঢাকার পাম্পগুলোতে গাড়ির লম্বা সারি হচ্ছিল। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল লিটারে ১১৫ থেকে ১৩৫, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার পণ্যেই এক রাতে ২০ টাকা বৃদ্ধি। ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ একক সমন্বয়।
সরকারের গৃহীত এ সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই সঠিক নয়। কিন্তু নীতিনির্ধারণে প্রশ্নটি কখনোই ভালো বা মন্দের বিষয় নয়; প্রশ্নটি সব সময়ের জন্য হলো বিকল্প কী এবং বাড়তি দাম কে দেবে? সেই তুলনামূলক হিসাবটি না কষে এই সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন সম্ভব নয়।
২০২৬ সালের জ্বালানি বাজারকে বুঝতে হলে মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির দিকে তাকাতে হবে। ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত, জ্বালানি ট্যাংকারে হামলা, ইরানি রপ্তানির ওপর নতুন অবরোধ এবং সৌদি আরবের একটি প্রধান পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া—এ কয়েকটি ঘটনা বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান মতে, আগস্টে ব্রেন্টের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে উঠেছে, যা জুলাইয়ের চেয়ে ৭ ডলার বেশি; চলতি বছরে বৈশ্বিক মজুত কমেছে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রেন্ট ১০৩-১০৫ ডলারেও লেনদেন হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অর্থ দিয়েও জ্বালানি তেল মিলছে না। একাধিক শিপমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
এই ঢেউ বাংলাদেশের কোষাগারে কীভাবে আছড়ে পড়ল, তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৪ কোটি ডলার, আগের অর্থবছরের ৫১৪ কোটি ডলারের বিপরীতে এ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৭ শতাংশ। পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতেই ব্যয় ৯৪৪ কোটি ডলার, বৃদ্ধি ১০৯ শতাংশ। এক বছরে বাড়তি সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমান অর্থ কেবল জ্বালানি তেল কেনার জন্য বাড়তি গুনতে হয়েছে।
এখানে একটি কারিগরি বিষয় সাধারণ আলোচনায় প্রায়ই বাদ পড়ে, অথচ নীতিনির্ধারকের জন্য সেটিই মূল। বাংলাদেশ মূলত অপরিশোধিত তেল কেনে না, কেনে পরিশোধিত পণ্য। যেমন ডিজেল। ফলে আমাদের আমদানি বিলে শুধু ব্যারেলের দাম নয়, পরিশোধন মার্জিন বা ক্র্যাক স্প্রেডও যুক্ত হয়। ২০২৬ সালের বাজারে ডিজেলের সংকট অপরিশোধিত তেলের সংকটের চেয়েও তীব্র হয়েছে। অর্থাৎ ব্রেন্ট যদি ৫৫ শতাংশ বাড়ে, বাংলাদেশের ডিজেলের প্রকৃত ক্রয়মূল্য তার চেয়েও বেশি বাড়ে। এখানে বাংলাদেশের দুর্বলতা হলো অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতার অভাব। চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। এর ধাক্কাই এসে পড়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ২০২৬ সালের ধাক্কাটি একমাত্রিক নয়, দ্বিমাত্রিক। তেলের দাম ডলারে নির্ধারিত হয়, কিন্তু বিল পরিশোধ করতে হয় টাকায়। ফলে ব্যারেলের দাম স্থির থাকলেও টাকার অবমূল্যায়ন একাই আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়; আর দুটি একসঙ্গে ঘটলে প্রভাবটি যোগফল নয়, গুণফলে হিসাব করতে হয়। গত কয়েক বছরে টাকা-ডলার বিনিময় হারে যে সমন্বয় হয়েছে, তার প্রভাব প্রতিটি আমদানি করা লিটারে স্থায়ীভাবে বসে গেছে। নীতিনির্ধারকের জন্য এর অর্থ হলো, জ্বালানির মূল্যনীতি আর নিছক জ্বালানি বিভাগের বিষয় নয়, এটি একই সঙ্গে মুদ্রানীতি, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক ভারসাম্যের বিষয়। ফলে সমাধানও আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়।
ধরা যাক, দাম অপরিবর্তিত রাখা হলো। তাহলে লিটারপ্রতি ঘাটতি কোথাও না কোথাও থেকে নিতে হবে। যেমন বিপিসির মুনাফা, বাজেটের ভর্তুকি, অথবা ব্যাংকঋণে। মোটা দাগের হিসাব করা যাক। দেশে বছরে ডিজেলের ব্যবহার প্রায় ৫০ লাখ টনের কাছাকাছি; এক টনে প্রায় ১,১৯০ লিটার ধরলে তা প্রায় ৬০০ কোটি লিটার। লিটারে ২০ টাকা ঘাটতি মানে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এটি কোনো বিমূর্ত সংখ্যা নয়, এটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কিংবা প্রাথমিক শিক্ষার বাজেটের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করা অর্থ।
ভর্তুকি অদৃশ্য নয়, কেবল স্থানান্তরিত হয়। ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কা আমাদের হাতে-কলমে দেখিয়েছে, জ্বালানির দাম রাজনৈতিক কারণে ধরে রাখলে সংকট দামে আসে না, আসে সরবরাহে মানে লাইনে, লোডশেডিংয়ে, এলসি খুলতে না পারায়। বাংলাদেশ ইতিপূর্বে ডলার-সংকটে এলসি জটিলতা ও সরবরাহকারীদের বকেয়া নিয়ে যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মূল্য সমন্বয়ই ছিল কম ক্ষতিকর পথ। অর্থনীতিতে এই পছন্দকে বলে ‘ন্যূনতম অনিষ্টের নীতি’। অর্থাৎ ভালো বিকল্প না থাকলে কম খারাপটিকে বেছে নেওয়া।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত অভিঘাত বুঝতে হলে দেখতে হবে, ডিজেল কোথায় ব্যবহৃত হয়। দেশের মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের সিংহভাগই ডিজেল এবং তার প্রধান গন্তব্য তিনটি ক্ষেত্র—পণ্য ও যাত্রী পরিবহন, কৃষি সেচ এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়ে ক্যাপটিভ জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ ডিজেলের দাম কোনো বিচ্ছিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম নয়; এটি একটি মধ্যবর্তী উপকরণের দাম, যা খাদ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও শিল্পের উৎপাদন খরচে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে।
এ কারণেই প্রথম দফার প্রভাবের চেয়ে দ্বিতীয় দফার প্রভাব বেশি বিপজ্জনক। প্রথম দফা হলো পরিবহন ভাড়া ও সরাসরি জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি, যা পরিমাপযোগ্য ও পূর্বানুমেয়। দ্বিতীয় দফা হলো মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা, যখন ব্যবসায়ী ও ভোক্তা ধরে নেন সামনে সবকিছুর দাম বাড়বে এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দাম নির্ধারণ শুরু করা হয়। প্রথম দফা ঠেকানো যায় না। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ঠেকানো সম্ভব। এ জন্য বাজার তদারকি, সরবরাহ শৃঙ্খলে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশের জ্বালানি মূল্যকাঠামোর সবচেয়ে বড় ন্যায্যতার ত্রুটি হলো, ডিজেল ও অকটেনকে কার্যত একই নীতির চোখে দেখা হয়। অথচ এ দুটির ভোক্তা এক নয়। ডিজেল চলে বাস, ট্রাক, লঞ্চ, সেচপাম্প ও জেনারেটরে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন ও গণপরিবহনের ধমনিতে। অকটেন ও উচ্চ অকটেনের পেট্রল মূলত ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি, যার ভোক্তা আয়বণ্টনের ওপরের স্তরে।
অকটেন ও পেট্রলে বাজারভিত্তিক, এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চতর মার্জিন রাখা হোক এবং সেই বাড়তি আয়কে বাজেটে মিশিয়ে না ফেলে একটি সুনির্দিষ্ট ‘জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীলকরণ তহবিলে’ জমা রাখা হোক, যেখান থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কম করা সম্ভব। এটি ভর্তুকি নয়, এটি পুনর্বণ্টন এবং রাজস্বনিরপেক্ষ অথচ প্রগতিশীল। একটি সতর্কতা অবশ্য মাথায় রাখতে হবে, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসী বাহন নয়, বরং নিম্ন-মধ্যবিত্তের জীবিকার বাহন। তাই ক্রস-ভর্তুকির ভার সাধারণ পেট্রলের চেয়ে উচ্চ-অকটেন গ্রেডে বেশি বসানোই ন্যায্য। এ জন্য পাম্পে গ্রেডভিত্তিক মূল্যপার্থক্য আরও প্রসারিত করা যেতে পারে।
২০২২ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে নীতির একটি স্পষ্ট বিবর্তন ঘটেছে। দামে ভর্তুকি থেকে সরে গিয়ে আয়ের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স প্রথমে সবার জন্য লিটারপ্রতি ছাড় দিয়ে দেখেছে যে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে উচ্চ আয়ের পরিবার; পরে তারা সেটি বাতিল করে নিম্ন আয়ের কর্মজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ ‘জ্বালানি ভাতা’ দেয়। জার্মানি জ্বালানি কর সাময়িক কমানোর পাশাপাশি সারা দেশে স্বল্পমূল্যের মাসিক গণপরিবহন টিকিট চালু করে চাহিদাকেই সরিয়ে দিয়েছিল। জাপান পাম্পের দাম নিয়ন্ত্রণের বদলে পরিশোধন ও পাইকারি স্তরে ভর্তুকি দিয়ে ভোক্তামূল্যের ওঠানামা মসৃণ করেছে। ইন্দোনেশিয়া ভর্তুকি সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গেই দরিদ্র পরিবারের জন্য সরাসরি নগদ সহায়তা চালু করেছে এবং ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানি কে কিনতে পারবে তা নির্ধারণ করেছে। শ্রীলঙ্কা সংকটের গভীরে গিয়ে কিউআর-ভিত্তিক কোটা ও একটি প্রকাশ্য মূল্যনির্ধারণী সূত্র চালু করেছে। ফলে দাম বাড়লে যেমন বাড়ে, বিশ্ববাজারে কমলে তেমনি কমে।
এই অভিজ্ঞতাগুলোর সারকথা একটিই বার্তা দেয়, দাম দিয়ে দারিদ্র্য মোকাবিলা করা যায় না, আয় দিয়ে যায়। দামকে সত্য বলতে দিন, আর ক্ষতিগ্রস্তকে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দিন।
প্রথমত, লক্ষ্যভিত্তিক নগদ হস্তান্তরব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ জন্য টিসিবির পারিবারিক কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক ডেটাবেইস ব্যবহার করে সবচেয়ে নিচের শ্রেণির মানুষকে তিন থেকে ছয় মাসের জন্য একটি ‘জ্বালানি অভিঘাত ভাতা’ দেওয়া যেতে পারে, যা তারা সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে পাবে। দ্বিতীয়ত, কৃষির সুরক্ষা। বোরো মৌসুমের আগে ডিজেলের জন্য কৃষি কার্ডভিত্তিক রিবেট চালু করা এবং সৌরচালিত সেচপাম্পে রূপান্তরের অর্থায়ন বরাদ্দ করা। তৃতীয়ত, গণপরিবহন ভাড়ার স্বচ্ছতা আনার জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে এর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পণ্য পরিবহনের চাপ কমাতে রেল ও নৌপথে কনটেইনার ও খাদ্যশস্য পরিবহনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা। পঞ্চমত, কেরোসিনের বিষয়ে আলাদা বিবেচনা করতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণের পরও প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশের কাছে কেরোসিন এখনো আলো ও রান্নার জ্বালানি; তাদের জন্য কার্ডভিত্তিক সীমিত পরিমাণের ছাড় দিতে হবে। ষষ্ঠত, মুদ্রানীতির সমন্বয়—জ্বালানির প্রথম দফার মূল্যপ্রভাব অনিবার্য, কিন্তু দ্বিতীয় দফার সাধারণ মূল্যস্ফীতি ঠেকানো সম্পূর্ণভাবে নীতিনির্ধারকের হাতে।
ন্যায্যতা আসবে তিনটি শর্তে: প্রতি লিটারের খরচ-কাঠামো জনসমক্ষে প্রকাশ, বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশেও কমানোর বিশ্বাসযোগ্য অঙ্গীকার, এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে মাপা ও সময়সীমাবদ্ধ ক্ষতিপূরণ পৌঁছানো।
হরমুজ প্রণালির ঢেউ আমরা থামাতে পারব না। কিন্তু সেই ঢেউ যখন ঢাকার পাম্পে এসে আছড়ে পড়ে, তখন জাহাজটি কতটা টলবে—তা নির্ধারণ করে আমাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। এই সংকটকে যদি আমরা শুধু একটি প্রজ্ঞাপন হিসেবে দেখি, তবে পরের ঢেউয়েও একই আলোচনা হবে। আর যদি একে সূত্রভিত্তিক মূল্যনির্ধারণ, স্থিতিশীলকরণ তহবিল ও লক্ষ্যভিত্তিক সুরক্ষাজাল গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখি, তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জ্বালানি নীতির একটি বাঁকবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হবে।
এম এম মুসা, উন্নয়নকর্মী, গবেষক ও সাংবাদিক

ধরে নিন, আপনি প্রিয় কোনো সুরসাধক বা শিল্পীর জমকালো কনসার্ট দেখতে মাঠে ঢুকলেন। আপনার টিকিটের গায়ে কোনো আসন নম্বর লেখা নেই, তবে আপনি নিশ্চিত জানেন টিকিটগুলো পর্যায়ক্রমে ১ নম্বর থেকে বিক্রি শুরু হয়েছিল। এখন মাঠে বসে আপনি কি নিজেকে ১ নম্বর কিংবা একেবারে শেষের টিকিটধারী দর্শক বলে দাবি করবেন? নিশ্চয়ই না।
২ ঘণ্টা আগে
একদম ঠিক শুনছেন। জি, ১৩ মাস বয়সী শিশুটির বাবার কথাই বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, বাবা। আপনারা বিন্দুমাত্র ভুল করেননি শুনতে। মায়ের কোল থেকে এই বাবা শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিস্কুট কিনে দেবেন বলে। তারপর লাপাত্তা! লাপাত্তা হওয়ার আগে অবশ্য স্ত্রীকে একটা ফোন করেছিলেন তিনি। তা-ও আবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর।
২ ঘণ্টা আগে
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি কেবল দশম শ্রেণিতে উঠেছি। ১৯৭১ সালের শুরুতে ক্লাস ঠিকমতো শুরু হয়নি। আমরা সেভাবে ক্লাস করতে পারিনি। আমার প্রথম অভিজ্ঞতা হয় ১ মার্চে। সেদিন আমি একরকম ঘটনাক্রমেই এর সঙ্গে জড়িয়ে যাই। স্কুলে যাচ্ছিলাম, পথে স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছিল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ।
১ দিন আগে
মানবসভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কৃষির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে জানতে ইচ্ছে হয়, কে প্রথম জমির মাটি আলগা করতে লাঙল আবিষ্কার করেছিল? সেই লাঙল আবিষ্কারের মাধ্যমেই কৃষিতে প্রথম যন্ত্রের ছোঁয়া লেগেছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে কৃষির ধরনেও এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
১ দিন আগে