Ajker Patrika

বিচারব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা কাম্য

সম্পাদকীয়
বিচারব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা কাম্য

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকারের পতনের পর সারা দেশে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেসব মামলা থেকে কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপি, স্থানীয়পর্যায়ের নিরপরাধ নেতা-কর্মী কেউই রেহাই পাননি। এভাবে হরেদরে মামলা দেওয়ার কারণে সেই সময় ব্যাপারটি নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কোনো গুরুত্ব দেয়নি।

সম্প্রতি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্তৃক শেষ হওয়া ৮২টি মামলার তদন্ত থেকে দেখা গেছে, অভিযুক্ত আসামিদের প্রায় ৬৩ শতাংশ নির্দোষ। মামলাগুলো যে প্রতিশোধস্পৃহা থেকে করা হয়েছিল, সেটা এখন স্পষ্ট হয়েছে।

সংবাদ মারফত জানা গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাদী নিজেই হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত রফাদফার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টাও দেখা গেছে। হয়রানির উদ্দেশ্যে কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট বাদীর বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অভিযোগকারী যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইনি ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করেন, তবে তাঁকে আইনের আওতায় না আনলে মিথ্যা মামলা দেওয়ার এই প্রবণতা কোনোভাবেই কমবে না।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলের সবাই অপরাধ, দুর্নীতি ও লুটপাটে যুক্ত ছিলেন না। অনেক নিরপরাধ নেতা-কর্মী শুধু আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার কারণে রাজনৈতিক ঈর্ষার জায়গা থেকে হয়রানির শিকার হয়েছেন। সে সময় মামলার ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কয়েকটি দলের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে।

যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধের বিচার হওয়ার কথা সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে। অথচ দেখা গেছে, সেসব মামলায় জড়ানো হয়েছিল শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনীতির বাইরের সাধারণ নাগরিকদেরও। আন্দোলনের সপক্ষে বা বিপক্ষে থাকাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে অনেককে মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

যখন একটি মামলায় শত শত মানুষকে অপ্রাসঙ্গিক ও ভিত্তিহীনভাবে আসামি করা হয়েছিল, তখনই মূল অপরাধীরা আড়ালে চলে গিয়েছিল। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর আওয়ামী লীগ শাসনামলের সব অপকর্মের মূল হোতা অনেক মন্ত্রী-এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের আটক করতে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ছিল বৈষম্যের বিরোধ, দুর্নীতি ও অপকর্মের মূলোৎপাটন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেস্তে যেতে দেখতে দেশবাসীর বেশি সময় লাগেনি সে সময়।

একজন নিরপরাধ ব্যক্তি যখন মামলার আসামি হন, তখন তাঁকে জেল-জুলুম, সামাজিক লাঞ্ছনা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। পিবিআইয়ের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়াটা স্বস্তির হলেও চার্জশিট থেকে নাম বাদ পড়ার আগপর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের যে মানসিক ও সামাজিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার দায়ভার কে নেবে?

আমরা আশা করব, তদন্ত সংস্থাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচারকার্য সম্পন্ন করবে। নিরপরাধ ব্যক্তিরা আর যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত