Ajker Patrika

সুন্দরবনে দস্যুতা, মাদক ও মানব পাচার দমনে কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড: মহাপরিচালক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎বাগেরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ২২: ২৭
সুন্দরবনে দস্যুতা, মাদক ও মানব পাচার দমনে কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড: মহাপরিচালক
সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক। ছবি: কোস্ট গার্ড

সুন্দরবনে দস্যুতা দমন, মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

আজ বৃহস্পতিবার সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জিয়াউল হক এসব কথা জানান।

জিয়াউল হক বলেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বনদস্যুতা নির্মূলে সরকারের নির্দেশনায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দস্যু চক্রগুলো অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তাঁর সহযোগীরা সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়া স্থাপনের ফলে তাদের রসদ, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

তবে সম্প্রতি জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় একদল দুর্বৃত্তের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর স্থাপনায় হামলা শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টা।

মহাপরিচালক জানান, ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিয়াউল হক বলেন, কোনো গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে না পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে অপরাধসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সব সময় অঙ্গীকারবদ্ধ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত