সৌগত বসু, ঢাকা

দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশেলে ভরা একটি বছর ২০২৪ সাল। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল এই বছরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। নজিরবিহীন এই ঘটনায় ট্রাফিক ব্যবস্থার ভেঙে পড়ে। এর আগেই মেট্রোরেলে নাশকতার ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। বছরজুড়েই ছিল সড়কে দুর্ঘটনায় দুঃসহ মৃত্যুর মিছিল। তবে বছরের শেষে রেলপথে নতুন সংযোগের উদ্যোগ কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে।
সড়কে মৃত্যুর মিছিল
দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হয়েছে, অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে সড়কে ঘটে গেছে ৬ হাজার ৪৭৪টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৯ জন, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ০৬১ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন মানুষের প্রাণ ঝরেছে সড়কে।
নিহতের বড় অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। একইসঙ্গে বাস-ট্রাক-প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, অটোরিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনাও প্রতিদিন প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্বলতা আর নানাবিধ ত্রুটি দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
বছরের শেষ মাসেও সড়কে রক্ত ঝরেছে। ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় টোল পরিশোধে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসকে একটি বেপরোয়া বাস ধাক্কা দেয়। এতে পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ২২ ডিসেম্বর ঘন কুয়াশার কারণে শ্রীনগরের শিংপাড়া এলাকায় সাতটি গাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। ২৩ ডিসেম্বর একই এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার কাছে ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রাইভেটকারের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এক নারী নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ২৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন নিহত হন।
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা এবং বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকার পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সরকার পতনের পর সড়কে বিশৃঙ্খলার রাজত্ব
২০২৪ সালে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা যেন নিয়ন্ত্রণহীন এক মহাযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়।’ নগর পরিবহন’ সেবা শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। ই-টিকেটিং পদ্ধতির আশা ছিল বাস ভাড়া নৈরাজ্য কমাবে, কিন্তু বছরের শুরুতেই তা মিলিয়ে যায়।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকার সড়ক যেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারায়। রাজধানী দখল করে নেয় অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ঢাকায় ঢুকে পড়ে হাজার হাজার অটোরিকশা, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে পঙ্গু করে দেয়। প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পরও এগুলো নির্বিঘ্নে ফ্লাইওভার ও ভিআইপি সড়কে চলাচল শুরু করে। এমনকি সরকারি উদ্যোগও অটোরিকশার অবৈধ দৌরাত্ম্য রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এতটাই ভেঙে পড়ে যে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়। রাজধানীর শাহবাগ, কাকরাইল, মহাখালী, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে একের পর এক সড়ক অবরোধের ঘটনায় যানজট দুর্বিষহ দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অবরোধ আর ট্রাফিক পুলিশের ব্যর্থতায় ঢাকার সড়ক একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। তবে বছরের শেষ দিকে আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কিছুটা কমায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সামান্য উন্নতির আভাস পাওয়া যায়।
মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল ঢাকার ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায়, যেখানে সড়ক ও রেলপথে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিআরটিএ ভবন ও মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে তাণ্ডব চলে, পাশাপাশি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলা হয়।
মেট্রোরেলে তাণ্ডব
১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সেখানকার পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর-১০ ফুটওভার ব্রিজের ওপর মেট্রোরেল স্টেশনে। ১৯ জুলাই মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, কাজীপাড়া এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয়। পুরো মেট্রোরেল সেবা বন্ধ হয়। সেবা বন্ধ থাকার পর প্রায় ৩৭ দিন ধরে ঢাকার মেট্রোযাত্রীদের স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে। রাজধানীজুড়ে যানজটের তীব্রতা বাড়ে, মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
বিআরটিএ ভবনে আগুন
১৯ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর (বিআরটিএ) বনানীতে প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। মিরপুরে বিআরটিএ ভবনের ভেতরে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে। হামলার ফলে বিআরটিএর মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ ও মালিকানা পরিবর্তনসহ সব ধরনের সেবা প্রায় এক মাস বন্ধ থাকে।
সেতু ভবনে হামলা
১৮ ও ১৯ জুলাই বনানীর সেতু ভবনে হামলা চালিয়ে যানবাহনসহ ভবনের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার তাণ্ডব শেষে ৫৫টি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ভবনের বঙ্গবন্ধু কর্নার, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, মিলনায়তনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পুরো সেতু ভবনও পুড়ে যায়। এতে বিপুল ক্ষতি হয় প্রতিষ্ঠানটির।
জোড়াতালির বিআরটি চালু
কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বছরের শেষ দিকে জোড়াতালি দিয়ে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের বাস পরিষেবা চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নিজস্ব কোম্পানির বাস চলার কথা থাকলেও বিআরটিসির ১০টি এসি বাস চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের ২৫টি স্টেশনের কোনোটিরই কাজ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসভিত্তিক দ্রুত গতির পরিবহন বিআরটি। এর জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তার বদলে বিআরটিসি বাস নামানো এক ধরনের ‘তামাশা।’
মেট্রোরেলে টিকিট সংকট
বছরের শুরুতে ২০ জানুয়ারি মেট্রোরেল পুরোপুরি উত্তরা থেকে মতিঝিল চলাচল শুরু করে। রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আনা এই পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের জন্য দুই ধরনের টিকিট রয়েছে। একটি হলো এমআরটি পাস বা র্যাপিড পাস, অন্যটি একক যাত্রার টিকিট। র্যাপিড পাস কেনা যাত্রীরা টাকা না ফুরানো পর্যন্ত যেকোনো সময় যাত্রা করতে পারেন। আর একক যাত্রা করা যাত্রীদের স্টেশন থেকে তাৎক্ষণিক টিকিট কিনে যাত্রা করতে হয়। তবে বছরের শেষ দিকে একক যাত্রার টিকিট সংকটে পড়ে মেট্রোরেল। এর জন্য সাময়িক বন্ধ রাখতে হয় স্টেশনগুলো।
গত অক্টোবরে ডিএমটিসিএল জানায়, ২ লাখ ৪০ হাজারের মতো একক যাত্রার টিকিট খোয়া গেছে বা নষ্ট হয়েছে। খোয়া যাওয়া টিকিটগুলো যাত্রীরা ফেরত না দিয়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন।
বন্ধ ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চলাচল
জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১ আগস্ট স্বল্প দূরত্বের ট্রেনগুলো চালু হয়, কিন্তু আন্দোলন তীব্র হওয়ায় ৩ আগস্ট ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১২ আগস্ট মালবাহী ট্রেন আবার চালু হয়। ১২ আগস্ট থেকে মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু করে। আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস আবার চালু হয় ১৫ আগস্ট থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবা ফের চালু করার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করলেও ইন্ডিয়ান রেলওয়ে বোর্ড তাদের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়নি।
পদ্মা সেতু রেলসংযোগ পুরোপুরি চালু
ঢাকা-ভাঙ্গা অংশ উদ্বোধনের ১৪ মাস পর গত ২৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়। প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন এই রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও বেনাপোল রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে দুটি রুটে ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ এবং ‘রূপসী বাংলা’ নামের দুটি আন্তনগর ট্রেনও যুক্ত হয়েছে। কিন্তু নাম ভিন্ন হলেও ইঞ্জিন-কোচের সংকটে ট্রেন দুটি চলবে একটি রেক দিয়ে। নতুন রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনায় ট্রেনে যেতে লাগবে পৌনে চার ঘণ্টা, যেখানে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে এই যাত্রায় সময় লাগে সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বেনাপোলে যেতে ট্রেনে সময় লাগে সাড়ে সাত ঘণ্টা। নতুন রেলপথে যেতে লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা।
শ্বেতপত্রে উঠে আসে বেহিসাবি খরচ
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ— যোগাযোগ খাতের এই পাঁচ মেগা প্রকল্পে সব মিলে ব্যয় বেড়েছে ৫৬ হাজার ৬০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রাথমিক খরচের চেয়ে অনেক বেশি। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরা শ্বেতপত্রে মেগা প্রকল্পের খরচের এমন চিত্র উঠে এসেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বলেছে, কয়েকটি প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। ফলে খরচ আরও বাড়তে পারে।

দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশেলে ভরা একটি বছর ২০২৪ সাল। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল এই বছরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। নজিরবিহীন এই ঘটনায় ট্রাফিক ব্যবস্থার ভেঙে পড়ে। এর আগেই মেট্রোরেলে নাশকতার ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। বছরজুড়েই ছিল সড়কে দুর্ঘটনায় দুঃসহ মৃত্যুর মিছিল। তবে বছরের শেষে রেলপথে নতুন সংযোগের উদ্যোগ কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে।
সড়কে মৃত্যুর মিছিল
দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হয়েছে, অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে সড়কে ঘটে গেছে ৬ হাজার ৪৭৪টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৯ জন, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ০৬১ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন মানুষের প্রাণ ঝরেছে সড়কে।
নিহতের বড় অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। একইসঙ্গে বাস-ট্রাক-প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, অটোরিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনাও প্রতিদিন প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্বলতা আর নানাবিধ ত্রুটি দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
বছরের শেষ মাসেও সড়কে রক্ত ঝরেছে। ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় টোল পরিশোধে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসকে একটি বেপরোয়া বাস ধাক্কা দেয়। এতে পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ২২ ডিসেম্বর ঘন কুয়াশার কারণে শ্রীনগরের শিংপাড়া এলাকায় সাতটি গাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। ২৩ ডিসেম্বর একই এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার কাছে ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রাইভেটকারের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এক নারী নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ২৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন নিহত হন।
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা এবং বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকার পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সরকার পতনের পর সড়কে বিশৃঙ্খলার রাজত্ব
২০২৪ সালে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা যেন নিয়ন্ত্রণহীন এক মহাযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়।’ নগর পরিবহন’ সেবা শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। ই-টিকেটিং পদ্ধতির আশা ছিল বাস ভাড়া নৈরাজ্য কমাবে, কিন্তু বছরের শুরুতেই তা মিলিয়ে যায়।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকার সড়ক যেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারায়। রাজধানী দখল করে নেয় অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ঢাকায় ঢুকে পড়ে হাজার হাজার অটোরিকশা, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে পঙ্গু করে দেয়। প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পরও এগুলো নির্বিঘ্নে ফ্লাইওভার ও ভিআইপি সড়কে চলাচল শুরু করে। এমনকি সরকারি উদ্যোগও অটোরিকশার অবৈধ দৌরাত্ম্য রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এতটাই ভেঙে পড়ে যে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়। রাজধানীর শাহবাগ, কাকরাইল, মহাখালী, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে একের পর এক সড়ক অবরোধের ঘটনায় যানজট দুর্বিষহ দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অবরোধ আর ট্রাফিক পুলিশের ব্যর্থতায় ঢাকার সড়ক একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। তবে বছরের শেষ দিকে আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কিছুটা কমায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সামান্য উন্নতির আভাস পাওয়া যায়।
মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল ঢাকার ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায়, যেখানে সড়ক ও রেলপথে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিআরটিএ ভবন ও মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে তাণ্ডব চলে, পাশাপাশি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলা হয়।
মেট্রোরেলে তাণ্ডব
১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সেখানকার পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর-১০ ফুটওভার ব্রিজের ওপর মেট্রোরেল স্টেশনে। ১৯ জুলাই মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, কাজীপাড়া এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয়। পুরো মেট্রোরেল সেবা বন্ধ হয়। সেবা বন্ধ থাকার পর প্রায় ৩৭ দিন ধরে ঢাকার মেট্রোযাত্রীদের স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে। রাজধানীজুড়ে যানজটের তীব্রতা বাড়ে, মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
বিআরটিএ ভবনে আগুন
১৯ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর (বিআরটিএ) বনানীতে প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। মিরপুরে বিআরটিএ ভবনের ভেতরে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে। হামলার ফলে বিআরটিএর মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ ও মালিকানা পরিবর্তনসহ সব ধরনের সেবা প্রায় এক মাস বন্ধ থাকে।
সেতু ভবনে হামলা
১৮ ও ১৯ জুলাই বনানীর সেতু ভবনে হামলা চালিয়ে যানবাহনসহ ভবনের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার তাণ্ডব শেষে ৫৫টি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ভবনের বঙ্গবন্ধু কর্নার, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, মিলনায়তনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পুরো সেতু ভবনও পুড়ে যায়। এতে বিপুল ক্ষতি হয় প্রতিষ্ঠানটির।
জোড়াতালির বিআরটি চালু
কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বছরের শেষ দিকে জোড়াতালি দিয়ে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের বাস পরিষেবা চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নিজস্ব কোম্পানির বাস চলার কথা থাকলেও বিআরটিসির ১০টি এসি বাস চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের ২৫টি স্টেশনের কোনোটিরই কাজ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসভিত্তিক দ্রুত গতির পরিবহন বিআরটি। এর জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তার বদলে বিআরটিসি বাস নামানো এক ধরনের ‘তামাশা।’
মেট্রোরেলে টিকিট সংকট
বছরের শুরুতে ২০ জানুয়ারি মেট্রোরেল পুরোপুরি উত্তরা থেকে মতিঝিল চলাচল শুরু করে। রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আনা এই পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের জন্য দুই ধরনের টিকিট রয়েছে। একটি হলো এমআরটি পাস বা র্যাপিড পাস, অন্যটি একক যাত্রার টিকিট। র্যাপিড পাস কেনা যাত্রীরা টাকা না ফুরানো পর্যন্ত যেকোনো সময় যাত্রা করতে পারেন। আর একক যাত্রা করা যাত্রীদের স্টেশন থেকে তাৎক্ষণিক টিকিট কিনে যাত্রা করতে হয়। তবে বছরের শেষ দিকে একক যাত্রার টিকিট সংকটে পড়ে মেট্রোরেল। এর জন্য সাময়িক বন্ধ রাখতে হয় স্টেশনগুলো।
গত অক্টোবরে ডিএমটিসিএল জানায়, ২ লাখ ৪০ হাজারের মতো একক যাত্রার টিকিট খোয়া গেছে বা নষ্ট হয়েছে। খোয়া যাওয়া টিকিটগুলো যাত্রীরা ফেরত না দিয়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন।
বন্ধ ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চলাচল
জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১ আগস্ট স্বল্প দূরত্বের ট্রেনগুলো চালু হয়, কিন্তু আন্দোলন তীব্র হওয়ায় ৩ আগস্ট ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১২ আগস্ট মালবাহী ট্রেন আবার চালু হয়। ১২ আগস্ট থেকে মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু করে। আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস আবার চালু হয় ১৫ আগস্ট থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবা ফের চালু করার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করলেও ইন্ডিয়ান রেলওয়ে বোর্ড তাদের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়নি।
পদ্মা সেতু রেলসংযোগ পুরোপুরি চালু
ঢাকা-ভাঙ্গা অংশ উদ্বোধনের ১৪ মাস পর গত ২৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়। প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন এই রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও বেনাপোল রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে দুটি রুটে ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ এবং ‘রূপসী বাংলা’ নামের দুটি আন্তনগর ট্রেনও যুক্ত হয়েছে। কিন্তু নাম ভিন্ন হলেও ইঞ্জিন-কোচের সংকটে ট্রেন দুটি চলবে একটি রেক দিয়ে। নতুন রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনায় ট্রেনে যেতে লাগবে পৌনে চার ঘণ্টা, যেখানে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে এই যাত্রায় সময় লাগে সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বেনাপোলে যেতে ট্রেনে সময় লাগে সাড়ে সাত ঘণ্টা। নতুন রেলপথে যেতে লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা।
শ্বেতপত্রে উঠে আসে বেহিসাবি খরচ
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ— যোগাযোগ খাতের এই পাঁচ মেগা প্রকল্পে সব মিলে ব্যয় বেড়েছে ৫৬ হাজার ৬০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রাথমিক খরচের চেয়ে অনেক বেশি। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরা শ্বেতপত্রে মেগা প্রকল্পের খরচের এমন চিত্র উঠে এসেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বলেছে, কয়েকটি প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। ফলে খরচ আরও বাড়তে পারে।
সৌগত বসু, ঢাকা

দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশেলে ভরা একটি বছর ২০২৪ সাল। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল এই বছরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। নজিরবিহীন এই ঘটনায় ট্রাফিক ব্যবস্থার ভেঙে পড়ে। এর আগেই মেট্রোরেলে নাশকতার ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। বছরজুড়েই ছিল সড়কে দুর্ঘটনায় দুঃসহ মৃত্যুর মিছিল। তবে বছরের শেষে রেলপথে নতুন সংযোগের উদ্যোগ কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে।
সড়কে মৃত্যুর মিছিল
দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হয়েছে, অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে সড়কে ঘটে গেছে ৬ হাজার ৪৭৪টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৯ জন, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ০৬১ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন মানুষের প্রাণ ঝরেছে সড়কে।
নিহতের বড় অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। একইসঙ্গে বাস-ট্রাক-প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, অটোরিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনাও প্রতিদিন প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্বলতা আর নানাবিধ ত্রুটি দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
বছরের শেষ মাসেও সড়কে রক্ত ঝরেছে। ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় টোল পরিশোধে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসকে একটি বেপরোয়া বাস ধাক্কা দেয়। এতে পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ২২ ডিসেম্বর ঘন কুয়াশার কারণে শ্রীনগরের শিংপাড়া এলাকায় সাতটি গাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। ২৩ ডিসেম্বর একই এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার কাছে ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রাইভেটকারের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এক নারী নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ২৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন নিহত হন।
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা এবং বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকার পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সরকার পতনের পর সড়কে বিশৃঙ্খলার রাজত্ব
২০২৪ সালে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা যেন নিয়ন্ত্রণহীন এক মহাযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়।’ নগর পরিবহন’ সেবা শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। ই-টিকেটিং পদ্ধতির আশা ছিল বাস ভাড়া নৈরাজ্য কমাবে, কিন্তু বছরের শুরুতেই তা মিলিয়ে যায়।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকার সড়ক যেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারায়। রাজধানী দখল করে নেয় অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ঢাকায় ঢুকে পড়ে হাজার হাজার অটোরিকশা, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে পঙ্গু করে দেয়। প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পরও এগুলো নির্বিঘ্নে ফ্লাইওভার ও ভিআইপি সড়কে চলাচল শুরু করে। এমনকি সরকারি উদ্যোগও অটোরিকশার অবৈধ দৌরাত্ম্য রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এতটাই ভেঙে পড়ে যে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়। রাজধানীর শাহবাগ, কাকরাইল, মহাখালী, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে একের পর এক সড়ক অবরোধের ঘটনায় যানজট দুর্বিষহ দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অবরোধ আর ট্রাফিক পুলিশের ব্যর্থতায় ঢাকার সড়ক একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। তবে বছরের শেষ দিকে আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কিছুটা কমায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সামান্য উন্নতির আভাস পাওয়া যায়।
মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল ঢাকার ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায়, যেখানে সড়ক ও রেলপথে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিআরটিএ ভবন ও মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে তাণ্ডব চলে, পাশাপাশি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলা হয়।
মেট্রোরেলে তাণ্ডব
১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সেখানকার পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর-১০ ফুটওভার ব্রিজের ওপর মেট্রোরেল স্টেশনে। ১৯ জুলাই মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, কাজীপাড়া এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয়। পুরো মেট্রোরেল সেবা বন্ধ হয়। সেবা বন্ধ থাকার পর প্রায় ৩৭ দিন ধরে ঢাকার মেট্রোযাত্রীদের স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে। রাজধানীজুড়ে যানজটের তীব্রতা বাড়ে, মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
বিআরটিএ ভবনে আগুন
১৯ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর (বিআরটিএ) বনানীতে প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। মিরপুরে বিআরটিএ ভবনের ভেতরে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে। হামলার ফলে বিআরটিএর মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ ও মালিকানা পরিবর্তনসহ সব ধরনের সেবা প্রায় এক মাস বন্ধ থাকে।
সেতু ভবনে হামলা
১৮ ও ১৯ জুলাই বনানীর সেতু ভবনে হামলা চালিয়ে যানবাহনসহ ভবনের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার তাণ্ডব শেষে ৫৫টি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ভবনের বঙ্গবন্ধু কর্নার, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, মিলনায়তনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পুরো সেতু ভবনও পুড়ে যায়। এতে বিপুল ক্ষতি হয় প্রতিষ্ঠানটির।
জোড়াতালির বিআরটি চালু
কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বছরের শেষ দিকে জোড়াতালি দিয়ে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের বাস পরিষেবা চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নিজস্ব কোম্পানির বাস চলার কথা থাকলেও বিআরটিসির ১০টি এসি বাস চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের ২৫টি স্টেশনের কোনোটিরই কাজ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসভিত্তিক দ্রুত গতির পরিবহন বিআরটি। এর জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তার বদলে বিআরটিসি বাস নামানো এক ধরনের ‘তামাশা।’
মেট্রোরেলে টিকিট সংকট
বছরের শুরুতে ২০ জানুয়ারি মেট্রোরেল পুরোপুরি উত্তরা থেকে মতিঝিল চলাচল শুরু করে। রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আনা এই পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের জন্য দুই ধরনের টিকিট রয়েছে। একটি হলো এমআরটি পাস বা র্যাপিড পাস, অন্যটি একক যাত্রার টিকিট। র্যাপিড পাস কেনা যাত্রীরা টাকা না ফুরানো পর্যন্ত যেকোনো সময় যাত্রা করতে পারেন। আর একক যাত্রা করা যাত্রীদের স্টেশন থেকে তাৎক্ষণিক টিকিট কিনে যাত্রা করতে হয়। তবে বছরের শেষ দিকে একক যাত্রার টিকিট সংকটে পড়ে মেট্রোরেল। এর জন্য সাময়িক বন্ধ রাখতে হয় স্টেশনগুলো।
গত অক্টোবরে ডিএমটিসিএল জানায়, ২ লাখ ৪০ হাজারের মতো একক যাত্রার টিকিট খোয়া গেছে বা নষ্ট হয়েছে। খোয়া যাওয়া টিকিটগুলো যাত্রীরা ফেরত না দিয়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন।
বন্ধ ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চলাচল
জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১ আগস্ট স্বল্প দূরত্বের ট্রেনগুলো চালু হয়, কিন্তু আন্দোলন তীব্র হওয়ায় ৩ আগস্ট ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১২ আগস্ট মালবাহী ট্রেন আবার চালু হয়। ১২ আগস্ট থেকে মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু করে। আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস আবার চালু হয় ১৫ আগস্ট থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবা ফের চালু করার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করলেও ইন্ডিয়ান রেলওয়ে বোর্ড তাদের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়নি।
পদ্মা সেতু রেলসংযোগ পুরোপুরি চালু
ঢাকা-ভাঙ্গা অংশ উদ্বোধনের ১৪ মাস পর গত ২৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়। প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন এই রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও বেনাপোল রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে দুটি রুটে ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ এবং ‘রূপসী বাংলা’ নামের দুটি আন্তনগর ট্রেনও যুক্ত হয়েছে। কিন্তু নাম ভিন্ন হলেও ইঞ্জিন-কোচের সংকটে ট্রেন দুটি চলবে একটি রেক দিয়ে। নতুন রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনায় ট্রেনে যেতে লাগবে পৌনে চার ঘণ্টা, যেখানে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে এই যাত্রায় সময় লাগে সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বেনাপোলে যেতে ট্রেনে সময় লাগে সাড়ে সাত ঘণ্টা। নতুন রেলপথে যেতে লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা।
শ্বেতপত্রে উঠে আসে বেহিসাবি খরচ
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ— যোগাযোগ খাতের এই পাঁচ মেগা প্রকল্পে সব মিলে ব্যয় বেড়েছে ৫৬ হাজার ৬০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রাথমিক খরচের চেয়ে অনেক বেশি। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরা শ্বেতপত্রে মেগা প্রকল্পের খরচের এমন চিত্র উঠে এসেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বলেছে, কয়েকটি প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। ফলে খরচ আরও বাড়তে পারে।

দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশেলে ভরা একটি বছর ২০২৪ সাল। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল এই বছরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। নজিরবিহীন এই ঘটনায় ট্রাফিক ব্যবস্থার ভেঙে পড়ে। এর আগেই মেট্রোরেলে নাশকতার ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। বছরজুড়েই ছিল সড়কে দুর্ঘটনায় দুঃসহ মৃত্যুর মিছিল। তবে বছরের শেষে রেলপথে নতুন সংযোগের উদ্যোগ কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে।
সড়কে মৃত্যুর মিছিল
দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হয়েছে, অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে সড়কে ঘটে গেছে ৬ হাজার ৪৭৪টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৯ জন, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ০৬১ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন মানুষের প্রাণ ঝরেছে সড়কে।
নিহতের বড় অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। একইসঙ্গে বাস-ট্রাক-প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, অটোরিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনাও প্রতিদিন প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্বলতা আর নানাবিধ ত্রুটি দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
বছরের শেষ মাসেও সড়কে রক্ত ঝরেছে। ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় টোল পরিশোধে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসকে একটি বেপরোয়া বাস ধাক্কা দেয়। এতে পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ২২ ডিসেম্বর ঘন কুয়াশার কারণে শ্রীনগরের শিংপাড়া এলাকায় সাতটি গাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। ২৩ ডিসেম্বর একই এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার কাছে ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রাইভেটকারের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এক নারী নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ২৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন নিহত হন।
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা এবং বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকার পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সরকার পতনের পর সড়কে বিশৃঙ্খলার রাজত্ব
২০২৪ সালে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা যেন নিয়ন্ত্রণহীন এক মহাযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়।’ নগর পরিবহন’ সেবা শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। ই-টিকেটিং পদ্ধতির আশা ছিল বাস ভাড়া নৈরাজ্য কমাবে, কিন্তু বছরের শুরুতেই তা মিলিয়ে যায়।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকার সড়ক যেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারায়। রাজধানী দখল করে নেয় অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ঢাকায় ঢুকে পড়ে হাজার হাজার অটোরিকশা, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে পঙ্গু করে দেয়। প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পরও এগুলো নির্বিঘ্নে ফ্লাইওভার ও ভিআইপি সড়কে চলাচল শুরু করে। এমনকি সরকারি উদ্যোগও অটোরিকশার অবৈধ দৌরাত্ম্য রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এতটাই ভেঙে পড়ে যে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়। রাজধানীর শাহবাগ, কাকরাইল, মহাখালী, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে একের পর এক সড়ক অবরোধের ঘটনায় যানজট দুর্বিষহ দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অবরোধ আর ট্রাফিক পুলিশের ব্যর্থতায় ঢাকার সড়ক একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। তবে বছরের শেষ দিকে আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কিছুটা কমায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সামান্য উন্নতির আভাস পাওয়া যায়।
মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল ঢাকার ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায়, যেখানে সড়ক ও রেলপথে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিআরটিএ ভবন ও মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে তাণ্ডব চলে, পাশাপাশি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলা হয়।
মেট্রোরেলে তাণ্ডব
১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সেখানকার পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর-১০ ফুটওভার ব্রিজের ওপর মেট্রোরেল স্টেশনে। ১৯ জুলাই মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, কাজীপাড়া এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয়। পুরো মেট্রোরেল সেবা বন্ধ হয়। সেবা বন্ধ থাকার পর প্রায় ৩৭ দিন ধরে ঢাকার মেট্রোযাত্রীদের স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে। রাজধানীজুড়ে যানজটের তীব্রতা বাড়ে, মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
বিআরটিএ ভবনে আগুন
১৯ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর (বিআরটিএ) বনানীতে প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। মিরপুরে বিআরটিএ ভবনের ভেতরে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে। হামলার ফলে বিআরটিএর মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ ও মালিকানা পরিবর্তনসহ সব ধরনের সেবা প্রায় এক মাস বন্ধ থাকে।
সেতু ভবনে হামলা
১৮ ও ১৯ জুলাই বনানীর সেতু ভবনে হামলা চালিয়ে যানবাহনসহ ভবনের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার তাণ্ডব শেষে ৫৫টি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ভবনের বঙ্গবন্ধু কর্নার, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, মিলনায়তনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পুরো সেতু ভবনও পুড়ে যায়। এতে বিপুল ক্ষতি হয় প্রতিষ্ঠানটির।
জোড়াতালির বিআরটি চালু
কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বছরের শেষ দিকে জোড়াতালি দিয়ে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের বাস পরিষেবা চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নিজস্ব কোম্পানির বাস চলার কথা থাকলেও বিআরটিসির ১০টি এসি বাস চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের ২৫টি স্টেশনের কোনোটিরই কাজ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসভিত্তিক দ্রুত গতির পরিবহন বিআরটি। এর জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তার বদলে বিআরটিসি বাস নামানো এক ধরনের ‘তামাশা।’
মেট্রোরেলে টিকিট সংকট
বছরের শুরুতে ২০ জানুয়ারি মেট্রোরেল পুরোপুরি উত্তরা থেকে মতিঝিল চলাচল শুরু করে। রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আনা এই পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের জন্য দুই ধরনের টিকিট রয়েছে। একটি হলো এমআরটি পাস বা র্যাপিড পাস, অন্যটি একক যাত্রার টিকিট। র্যাপিড পাস কেনা যাত্রীরা টাকা না ফুরানো পর্যন্ত যেকোনো সময় যাত্রা করতে পারেন। আর একক যাত্রা করা যাত্রীদের স্টেশন থেকে তাৎক্ষণিক টিকিট কিনে যাত্রা করতে হয়। তবে বছরের শেষ দিকে একক যাত্রার টিকিট সংকটে পড়ে মেট্রোরেল। এর জন্য সাময়িক বন্ধ রাখতে হয় স্টেশনগুলো।
গত অক্টোবরে ডিএমটিসিএল জানায়, ২ লাখ ৪০ হাজারের মতো একক যাত্রার টিকিট খোয়া গেছে বা নষ্ট হয়েছে। খোয়া যাওয়া টিকিটগুলো যাত্রীরা ফেরত না দিয়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন।
বন্ধ ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চলাচল
জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১ আগস্ট স্বল্প দূরত্বের ট্রেনগুলো চালু হয়, কিন্তু আন্দোলন তীব্র হওয়ায় ৩ আগস্ট ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১২ আগস্ট মালবাহী ট্রেন আবার চালু হয়। ১২ আগস্ট থেকে মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু করে। আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস আবার চালু হয় ১৫ আগস্ট থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবা ফের চালু করার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করলেও ইন্ডিয়ান রেলওয়ে বোর্ড তাদের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়নি।
পদ্মা সেতু রেলসংযোগ পুরোপুরি চালু
ঢাকা-ভাঙ্গা অংশ উদ্বোধনের ১৪ মাস পর গত ২৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়। প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন এই রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও বেনাপোল রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে দুটি রুটে ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ এবং ‘রূপসী বাংলা’ নামের দুটি আন্তনগর ট্রেনও যুক্ত হয়েছে। কিন্তু নাম ভিন্ন হলেও ইঞ্জিন-কোচের সংকটে ট্রেন দুটি চলবে একটি রেক দিয়ে। নতুন রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনায় ট্রেনে যেতে লাগবে পৌনে চার ঘণ্টা, যেখানে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে এই যাত্রায় সময় লাগে সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বেনাপোলে যেতে ট্রেনে সময় লাগে সাড়ে সাত ঘণ্টা। নতুন রেলপথে যেতে লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা।
শ্বেতপত্রে উঠে আসে বেহিসাবি খরচ
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ— যোগাযোগ খাতের এই পাঁচ মেগা প্রকল্পে সব মিলে ব্যয় বেড়েছে ৫৬ হাজার ৬০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রাথমিক খরচের চেয়ে অনেক বেশি। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরা শ্বেতপত্রে মেগা প্রকল্পের খরচের এমন চিত্র উঠে এসেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বলেছে, কয়েকটি প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। ফলে খরচ আরও বাড়তে পারে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি)। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনে করেন, ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সব প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করা গেলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
৪ ঘণ্টা আগে
সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও-সংক্রান্ত আইন পাস করা নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর উদ্বেগ জানায় বিএনপি। নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিরত থাকারও আহ্বান জানায় দলটি।
৮ ঘণ্টা আগে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া ভিভিআইপি মর্যাদা জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পাবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
৮ ঘণ্টা আগে
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
১০ ঘণ্টা আগেশাহরিয়ার হাসান, ঢাকা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি)। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনে করেন, ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সব প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করা গেলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
রাজধানীর রাজারবাগে আজ বৃহস্পতিবার সদ্য পদায়ন পাওয়া ৬৪ জেলার এসপি, কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সব নতুন এসপির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বক্তব্য দেওয়া এসপিদের সবার আলোচনাতেই কমবেশি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। আইজিপি বাহারুল আলম বৈঠকে তাঁর বক্তব্যে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে পুলিশ শতভাগ নিরপেক্ষ থাকবে। জেলায় জেলায় এসপিরা সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং সবাইকে সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে। আইজি এসপিদের বলেছেন, যার যার জেলা ও আসন ধরে ধরে নির্বাচনের সকল প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। এতে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলার এসপি জানান, নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের প্রশিক্ষণ ঠিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন আইজিপি। তিনি বলেন, প্রত্যেক সদস্যকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত বা উত্তেজনার তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের এক এসপি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তাঁর মতে, এসব অস্ত্র উদ্ধার করা গেলে সহিংসতার ঝুঁকিও কমে আসবে বলে মনে করে পুলিশ সদর দপ্তর।
বৈঠকের আলোচনা নিয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জের এসপি ইয়াসমিন খাতুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের কিছু সমস্যার কথা বলা হয়েছে। ভোটার, ভোট, ভোটের কেন্দ্র নিয়ে আইজি স্যার আমাদের বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
এর আগে সকালে এসপিদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের সূচনা করবে।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে। এই জন্ম দিতে আপনারা (এসপি) ধাত্রীর ভূমিকা পালন করবেন। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আপনাদের দায়িত্ব।’
অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ এসেছে। যেন দেশে-বিদেশে সবাই বলতে পারে, বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এ নির্বাচন কেবল রুটিন নির্বাচন নয়; এটি গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী নির্বাচন। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ আত্মত্যাগ করেছে, সেই স্বপ্নের স্থায়ী ভিত্তি তৈরির সুযোগ এই নির্বাচন।
গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের চিঠির প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেই চিঠি দায়িত্ববোধের বার্তা দিয়ে গেছে। এসপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে আনাসের চিঠিটা কাছে রাখবেন। সেটাই আপনাদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দেবে।’
পুলিশ সুপারদের পদায়নে লটারির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এর লক্ষ্য ছিল পক্ষপাতহীনতা নিশ্চিত করা। এতে ব্যক্তিগত অসুবিধা হলেও দায়িত্ব পালনে মনোযোগ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি)। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনে করেন, ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সব প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করা গেলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
রাজধানীর রাজারবাগে আজ বৃহস্পতিবার সদ্য পদায়ন পাওয়া ৬৪ জেলার এসপি, কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সব নতুন এসপির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বক্তব্য দেওয়া এসপিদের সবার আলোচনাতেই কমবেশি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। আইজিপি বাহারুল আলম বৈঠকে তাঁর বক্তব্যে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে পুলিশ শতভাগ নিরপেক্ষ থাকবে। জেলায় জেলায় এসপিরা সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং সবাইকে সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে। আইজি এসপিদের বলেছেন, যার যার জেলা ও আসন ধরে ধরে নির্বাচনের সকল প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। এতে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলার এসপি জানান, নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের প্রশিক্ষণ ঠিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন আইজিপি। তিনি বলেন, প্রত্যেক সদস্যকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত বা উত্তেজনার তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের এক এসপি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তাঁর মতে, এসব অস্ত্র উদ্ধার করা গেলে সহিংসতার ঝুঁকিও কমে আসবে বলে মনে করে পুলিশ সদর দপ্তর।
বৈঠকের আলোচনা নিয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জের এসপি ইয়াসমিন খাতুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের কিছু সমস্যার কথা বলা হয়েছে। ভোটার, ভোট, ভোটের কেন্দ্র নিয়ে আইজি স্যার আমাদের বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
এর আগে সকালে এসপিদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের সূচনা করবে।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে। এই জন্ম দিতে আপনারা (এসপি) ধাত্রীর ভূমিকা পালন করবেন। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আপনাদের দায়িত্ব।’
অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ এসেছে। যেন দেশে-বিদেশে সবাই বলতে পারে, বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এ নির্বাচন কেবল রুটিন নির্বাচন নয়; এটি গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী নির্বাচন। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ আত্মত্যাগ করেছে, সেই স্বপ্নের স্থায়ী ভিত্তি তৈরির সুযোগ এই নির্বাচন।
গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের চিঠির প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেই চিঠি দায়িত্ববোধের বার্তা দিয়ে গেছে। এসপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে আনাসের চিঠিটা কাছে রাখবেন। সেটাই আপনাদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দেবে।’
পুলিশ সুপারদের পদায়নে লটারির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এর লক্ষ্য ছিল পক্ষপাতহীনতা নিশ্চিত করা। এতে ব্যক্তিগত অসুবিধা হলেও দায়িত্ব পালনে মনোযোগ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বছরজুড়ে সড়কে মৃত্যুর মিছিল, সড়ক ব্যবস্থাপনায় অরাজকতা, মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা আলোচনায় ছিল। পাশাপাশি, পদ্মা সেতু রেল সংযোগের পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধন ও কিছু নতুন উদ্যোগ আশার আলো জাগালেও, মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে শ্বে
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও-সংক্রান্ত আইন পাস করা নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর উদ্বেগ জানায় বিএনপি। নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিরত থাকারও আহ্বান জানায় দলটি।
৮ ঘণ্টা আগে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া ভিভিআইপি মর্যাদা জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পাবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
৮ ঘণ্টা আগে
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
১০ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা সত্ত্বেও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ও এনজিও-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও-সংক্রান্ত আইন পাস করা নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর উদ্বেগ জানায় বিএনপি। নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিরত থাকারও আহ্বান জানায় দলটি।
সেদিন সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, তাড়াহুড়ো করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাস করাতে চাইছে। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন, অন্যটি এনজিও-সংক্রান্ত আইন। আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগে এই আইনগুলো পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে; যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না। আমরা মনে করি, উপরোক্ত বিষয়ে আইনগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে। সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য।’
বিএনপির আপত্তি আমলে না নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে প্রধান করে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাঁচ সদস্যের পুলিশ কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) দুটি ক্ষেত্রেও সংশোধনী আনা হয়।
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
উপদেষ্টা জানান, পুলিশ কমিশনে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ছাড়াও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি কর্মরত হতে পারেন বা অবসরপ্রাপ্তও হতে পারেন এবং মানবাধিকার ও সুশাসন বিষয়ে অন্তত ১৫ বছর অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন একজন ব্যক্তি থাকবেন।
পুলিশকে জনবান্ধব করতে করণীয় সম্পর্কে সরকারকে সুপারিশ করবে কমিশন। এ ছাড়া পুলিশ যাতে সংবেদনশীল হয়, সে জন্য তাদের আধুনিকায়ন কোথায় কোথায় দরকার, কী ধরনের প্রশিক্ষণ দরকার—সেগুলোও চিহ্নিত করবে কমিশন।
কমিশনের কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে—পুলিশের বিষয়ে নাগরিকদের যেসব অভিযোগ থাকবে, সেগুলো তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা এবং পেশাগত বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সেগুলোর নিষ্পত্তি করা। পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনা, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান ইত্যাদি কাজও হবে এ কমিশনের।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুপারিশ-পরামর্শ কেউ কখনো মানতে বাধ্য না। পুলিশের সঙ্গে জনগণের একটি ব্রিজ (সেতু) করে দেওয়ার জন্যই এ কমিশন। আর পুলিশের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে, আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে, মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সরকারের একটা যোগসূত্র স্থাপন করে দেওয়ার কাজ হচ্ছে এ কমিশনের।
আরপিও সংশোধন করে কোন কোন ভোট বিবেচনায় নেওয়া হবে না এবং পোস্টাল ব্যালটের ভোটগুলো গণনা পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ব্যালটে যেখানে একটা সিল পড়ার কথা, সেখানে একাধিক সিল পড়লে গণনা করা হবে না। যদি সিল না দেয়, তাহলে গণনা করা হবে না। যখন পোস্টাল ভোট দেওয়া হয়, তখন একটা ডিক্লারেশন স্বাক্ষর করা হবে। ওই ডিক্লারেশনে যদি স্বাক্ষর না থাকে, তাহলে গণনা করা হবে না। আর আমাদের ভোটের দিন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেবে নির্বাচন কমিশন। সেই সময়ে যে ব্যালটগুলো এসে পৌঁছাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে—সেগুলো একইভাবে গণনা করা হবে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা সত্ত্বেও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ও এনজিও-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও-সংক্রান্ত আইন পাস করা নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর উদ্বেগ জানায় বিএনপি। নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিরত থাকারও আহ্বান জানায় দলটি।
সেদিন সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, তাড়াহুড়ো করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাস করাতে চাইছে। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন, অন্যটি এনজিও-সংক্রান্ত আইন। আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগে এই আইনগুলো পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে; যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না। আমরা মনে করি, উপরোক্ত বিষয়ে আইনগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে। সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য।’
বিএনপির আপত্তি আমলে না নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে প্রধান করে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাঁচ সদস্যের পুলিশ কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) দুটি ক্ষেত্রেও সংশোধনী আনা হয়।
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
উপদেষ্টা জানান, পুলিশ কমিশনে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ছাড়াও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি কর্মরত হতে পারেন বা অবসরপ্রাপ্তও হতে পারেন এবং মানবাধিকার ও সুশাসন বিষয়ে অন্তত ১৫ বছর অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন একজন ব্যক্তি থাকবেন।
পুলিশকে জনবান্ধব করতে করণীয় সম্পর্কে সরকারকে সুপারিশ করবে কমিশন। এ ছাড়া পুলিশ যাতে সংবেদনশীল হয়, সে জন্য তাদের আধুনিকায়ন কোথায় কোথায় দরকার, কী ধরনের প্রশিক্ষণ দরকার—সেগুলোও চিহ্নিত করবে কমিশন।
কমিশনের কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে—পুলিশের বিষয়ে নাগরিকদের যেসব অভিযোগ থাকবে, সেগুলো তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা এবং পেশাগত বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সেগুলোর নিষ্পত্তি করা। পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনা, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান ইত্যাদি কাজও হবে এ কমিশনের।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুপারিশ-পরামর্শ কেউ কখনো মানতে বাধ্য না। পুলিশের সঙ্গে জনগণের একটি ব্রিজ (সেতু) করে দেওয়ার জন্যই এ কমিশন। আর পুলিশের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে, আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে, মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সরকারের একটা যোগসূত্র স্থাপন করে দেওয়ার কাজ হচ্ছে এ কমিশনের।
আরপিও সংশোধন করে কোন কোন ভোট বিবেচনায় নেওয়া হবে না এবং পোস্টাল ব্যালটের ভোটগুলো গণনা পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ব্যালটে যেখানে একটা সিল পড়ার কথা, সেখানে একাধিক সিল পড়লে গণনা করা হবে না। যদি সিল না দেয়, তাহলে গণনা করা হবে না। যখন পোস্টাল ভোট দেওয়া হয়, তখন একটা ডিক্লারেশন স্বাক্ষর করা হবে। ওই ডিক্লারেশনে যদি স্বাক্ষর না থাকে, তাহলে গণনা করা হবে না। আর আমাদের ভোটের দিন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেবে নির্বাচন কমিশন। সেই সময়ে যে ব্যালটগুলো এসে পৌঁছাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে—সেগুলো একইভাবে গণনা করা হবে।’

২০২৪ সালে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বছরজুড়ে সড়কে মৃত্যুর মিছিল, সড়ক ব্যবস্থাপনায় অরাজকতা, মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা আলোচনায় ছিল। পাশাপাশি, পদ্মা সেতু রেল সংযোগের পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধন ও কিছু নতুন উদ্যোগ আশার আলো জাগালেও, মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে শ্বে
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি)। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনে করেন, ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সব প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করা গেলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
৪ ঘণ্টা আগে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া ভিভিআইপি মর্যাদা জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পাবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
৮ ঘণ্টা আগে
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
১০ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ভিভিআইপি (অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তবে জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন না।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া ভিভিআইপি মর্যাদা জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পাবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন না।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গত ২৩ নভেম্বর থেকে চিকিৎসা নেওয়ার মধ্যেই তাঁকে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়।
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, তাঁদের দৈহিক নিরাপত্তা দেওয়া এ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হবে। এ ছাড়া বাহিনী বাংলাদেশে অবস্থানরত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও নিরাপত্তা দেবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ভিভিআইপি (অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তবে জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন না।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া ভিভিআইপি মর্যাদা জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পাবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন না।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গত ২৩ নভেম্বর থেকে চিকিৎসা নেওয়ার মধ্যেই তাঁকে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়।
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, তাঁদের দৈহিক নিরাপত্তা দেওয়া এ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হবে। এ ছাড়া বাহিনী বাংলাদেশে অবস্থানরত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও নিরাপত্তা দেবে।

২০২৪ সালে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বছরজুড়ে সড়কে মৃত্যুর মিছিল, সড়ক ব্যবস্থাপনায় অরাজকতা, মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা আলোচনায় ছিল। পাশাপাশি, পদ্মা সেতু রেল সংযোগের পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধন ও কিছু নতুন উদ্যোগ আশার আলো জাগালেও, মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে শ্বে
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি)। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনে করেন, ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সব প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করা গেলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
৪ ঘণ্টা আগে
সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও-সংক্রান্ত আইন পাস করা নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর উদ্বেগ জানায় বিএনপি। নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিরত থাকারও আহ্বান জানায় দলটি।
৮ ঘণ্টা আগে
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
১০ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে (আরপিও) দুটি ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রথম—এখন থেকে পোস্টাল ভোট সাধারণ ভোটের সঙ্গে একই সঙ্গে গণনা করা হবে। দ্বিতীয়—ব্যালট পেপারে একাধিক সিল থাকলে সেই ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশও পাস হয়েছে। পুলিশকে জনবান্ধব করার জন্য এই কমিশন সরকারকে সুপারিশ করবে। পাশাপাশি, পেশাগত ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও এই কমিশন দেখবে।
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিশ্চিত করেন, ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তবে তিনি আরও জানান, জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন না।
উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর পরিবার বিদেশে নিতে চাইলে তার সব প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। তিনি জানান, সরকার এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে এবং বিএনপি চাইলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে (আরপিও) দুটি ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রথম—এখন থেকে পোস্টাল ভোট সাধারণ ভোটের সঙ্গে একই সঙ্গে গণনা করা হবে। দ্বিতীয়—ব্যালট পেপারে একাধিক সিল থাকলে সেই ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশও পাস হয়েছে। পুলিশকে জনবান্ধব করার জন্য এই কমিশন সরকারকে সুপারিশ করবে। পাশাপাশি, পেশাগত ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও এই কমিশন দেখবে।
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিশ্চিত করেন, ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তবে তিনি আরও জানান, জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন না।
উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর পরিবার বিদেশে নিতে চাইলে তার সব প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। তিনি জানান, সরকার এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে এবং বিএনপি চাইলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

২০২৪ সালে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বছরজুড়ে সড়কে মৃত্যুর মিছিল, সড়ক ব্যবস্থাপনায় অরাজকতা, মেট্রোরেল ও বিআরটিএ ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা আলোচনায় ছিল। পাশাপাশি, পদ্মা সেতু রেল সংযোগের পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধন ও কিছু নতুন উদ্যোগ আশার আলো জাগালেও, মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে শ্বে
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি)। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনে করেন, ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সব প্রার্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করা গেলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
৪ ঘণ্টা আগে
সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও-সংক্রান্ত আইন পাস করা নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর উদ্বেগ জানায় বিএনপি। নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিরত থাকারও আহ্বান জানায় দলটি।
৮ ঘণ্টা আগে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া ভিভিআইপি মর্যাদা জিয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পাবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটি গেজেট জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
৮ ঘণ্টা আগে