প্রবাসী আয়ে অবদান রাখছেন নারীরাও। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ নারীকর্মী বিভিন্ন দেশে কর্মরত। তাঁদের অর্ধেকই আছেন সৌদি আরবে। পরিবারে সচ্ছলতা আনতে বিদেশে যাওয়া এই নারীদের অনেকে প্রতারণা, মানব পাচারসহ শারীরিক-মানসিক-যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলছেন কেউ কেউ।
ভাগ্যবদলের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ গিয়ে অনেককে ফিরতে হচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারও কারও ফেরা হচ্ছে না পরিবারে। গত ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা নারীদের মধ্যে একজন ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং আরেকজন ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন। বিমানবন্দর থেকে দুজনকেই পাঠানো হয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে। একজন পরে ফেরেন পরিবারের কাছে।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারীকর্মী নানা সংকট ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১০ লাখ নারী বিদেশে কর্মরত। দেশ থেকে প্রথম নারীকর্মী পাঠানো শুরু হয় ১৯৯১ সালে। শুরুতে বছরে কয়েক হাজার নারী যেতেন। ২০০৪ সালের পর এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০১৩ সালে প্রথম এক বছরে ৫০ হাজারের বেশি নারীকর্মী বিদেশে যান। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর চুক্তির পর এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। ওই বছরে ১ লাখ ৩ হাজার ৭১৮ জন, ২০১৬ সালে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জন, ২০১৭ সালে ১ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ জন, ২০১৮ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৬৯৫ জন এবং ২০১৯ সালে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৬ জন নারী বিদেশে যান। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৯৩৪ জনে এবং ২০২১ সালে যান ৮০ হাজার ১৪৩ জন নারী। ২০২২ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬৬ জন নারী বিদেশে যান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীকর্মী পাঠানো আবার কমেছে। ২০২৩ সালে ৭৬ হাজার ১০৮ জন, ২০২৪ সালে ৬১ হাজার ১৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী বিদেশে গেছেন।
এই নারী কর্মীদের বড় অংশই গেছে সৌদি আরবে। গত এক দশকে প্রায় ৫ লাখ নারী ওই দেশে গেছেন। তাঁদের অনেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করেছেন। তবে অনেকে নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন।
বিদেশ থেকে এ পর্যন্ত কতজন নারীকর্মী দেশে ফিরেছেন, তার সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে ব্র্যাকের তথ্য বলছে, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারীকর্মী দেশে ফিরেছেন। শুধু ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় ফিরেছেন ৪৯ হাজার ২২ জন নারী।
ঢাকা বিমানবন্দরের সূত্র জানায়, বন্দী বা ডিপোর্টি হিসেবে ২০১৯ সালে ৩ হাজার ১৪৪ জন, ২০২১ সালে ১ হাজার ৮১১ জন, ২০২২ সালে ৬ হাজার ২৯ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৯১৬ জন, ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৩৭৫ জন এবং ২০২৫ সালে অন্তত ১ হাজার ৮৯১ জন নারী দেশে ফিরেছেন।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরে শুধু সৌদি আরব থেকে ১৫ হাজারের বেশি নারীকর্মী দেশে ফিরেছেন।
দেশে ফেরা নারীকর্মীদের বড় অংশই বিদেশে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে। তাদের অনেকে নিয়মিত বেতন, পর্যাপ্ত খাওয়ার পাননি এবং চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্র্যাক বলেছে, বিদেশফেরত অন্তত ১২১ নারীকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় সেবা দেওয়া হয়েছে। হাজারো নারী বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে অন্তত ৭৯৯ নারীকর্মীর মরদেহ দেশে এসেছে। অধিকাংশ মৃত্যুর সনদে আত্মহত্যা উল্লেখ রয়েছে। তবে পরিবারগুলোর দাবি, এসব মৃত্যুর পেছনে নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে।
জানতে চাইলে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম) শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশে কত নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তার সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। কারণ, সামাজিক লজ্জা ও ভয় অনেককে অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করে। বিদেশে নারী শ্রমিকদের সমস্যাগুলো মূলত তিন ধরনের—কাজ ও বেতনসংক্রান্ত সমস্যা, শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতা। অনেক ক্ষেত্রে দূতাবাস শুধু ট্রাভেল পাস দিয়ে দেশে ফেরত পাঠায়, কিন্তু নির্যাতনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত হয় না।
শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর আগে তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নির্যাতনের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং দেশে ফিরে আসা নারীদের পুনর্বাসনের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরা ব্যক্তিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাঁদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে এদের পথ খরচা, কিছু খাদ
১ ঘণ্টা আগে
দেশে বর্তমানে কতজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন কর্মরত আছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তবে, ২০২০ সালের একটি হিসাব উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, তখন দেশে মসজিদের সংখ্যা ছিল...
১ ঘণ্টা আগে
আগামী ৫০ বছরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য (ময়মনসিংহ-৭) মাহবুবুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
২ ঘণ্টা আগে
অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপির সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বলেছেন, যাঁরা জুলাই চেতনা বিক্রি করেন, তাঁদের অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় ময়মনসিংহ-১০ আসনের...
২ ঘণ্টা আগে