Ajker Patrika

ডাকসু সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার আহ্বান উদীচীর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪৬
ডাকসু সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার আহ্বান উদীচীর

ডাকসু সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগ্রহশালাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার জায়গা না বানানোর দাবি জানিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠনটি। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে এটি জানিয়েছে তারা।

উদীচী বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা সংস্কারের পর পুনরায় চালু হয়েছে। সংগ্রহশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস, বিভিন্ন গণ-আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের নানা আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে বলে সংবাদপত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি নতুন করে সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্রের উপস্থাপনে পরিবর্তনের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা কেবল ছবি প্রদর্শনের স্থান নয়, এটি একটি জাতির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিশেষ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহশালায় কোন ছবি থাকবে, কোন ঘটনাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে কী প্রেক্ষাপটে দেখানো হবে—এসব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।

উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব, ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা একটি অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। একইভাবে পাকিস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থা, তার রাজনৈতিক চরিত্র ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে তার সম্পর্কও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব বা আলোকচিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হলে তা ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিহাসকে মুছে ফেলা নয়, ইতিহাসকে তার পূর্ণ প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং আলোকচিত্র যথাযথ মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা জরুরি। ইতিহাসের নির্বাচিত অংশকে সামনে এনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে আড়াল করা হলে একটি সংগ্রহশালা তার শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে না।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ডাকসু কর্তৃপক্ষের প্রতি বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত সব ঐতিহাসিক ছবি ও দলিলের সঠিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তথ্যসূত্র নিশ্চিত করা; ভাষা আন্দোলন, গণ-আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বাধীনতাসংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির ঐতিহাসিক দলিল যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা; সংগ্রহশালার ভবিষ্যৎ সংস্কার ও কিউরেশনে ইতিহাসবিদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতামত নেওয়া; সংগ্রহশালাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার জায়গা না বানিয়ে তথ্য, দলিল, গবেষণা ও বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক স্মৃতির একটি উন্মুক্ত শিক্ষাক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা।

উদীচী বিশ্বাস করে, একটি জাতির ইতিহাস তার সংগ্রাম, অর্জন, ভুল, বেদনা ও প্রতিরোধের সমন্বিত স্মৃতি। সেই স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের খণ্ডিত উপস্থাপন, রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা ইতিহাসের পুনর্লিখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত