Ajker Patrika

শিক্ষা, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
শিক্ষা, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বঙ্গভবনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমের স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি শুভেচ্ছা বার্তার জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজার প্রতি তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথ শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন জোরদার ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর যৌথ উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এই ধারাকে উত্তরোত্তর শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও অতিরিক্ত তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত অবাধ প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডেটা বিনিময়ের একটি নতুন উদ্যোগ সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে পূর্বাভাস আরও নিখুঁত করা এবং বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার, উন্নয়ন পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত