
কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রথমবারের মতো আইন প্রণয়নের পর সার্চ কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেই সার্চ কমিটির সুপারিশ থেকেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিলেন রাষ্ট্রপতি। এ কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল।
স্বাধীনতার পরে এখন পর্যন্ত ১২ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিককালে সিইসিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বরাবরই তাঁরা নিজেদের সফল বলেই দাবি করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত ১২ সিইসি ও ২৭ জন নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি ও আমলা।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সিইসির দায়িত্ব পান বিচারপতি মো. ইদ্রিস। এরপর পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পরপর সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত সাতজন বিচারপতি সিইসির দায়িত্ব পালন করেন। আমলাদের মধ্যে মোহাম্মদ আবু হেনা সিইসির দায়িত্ব পালন করেন। তিনিসহ মোট পাঁচজন আমলা সিইসির দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের প্রথম সিইসি মো. ইদ্রিস সিইসি হিসেবে নিয়োগ পান ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই। তাঁর অধীনেই ১৯৭৩ সালের সাতই মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তীও এই কমিশন দায়িত্ব পালন করে। ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্বে ছিলেন।
সামরিক শাসকের আমলে ১৯৭৭ সালের ৮ জুলাই দ্বিতীয় সিইসি হিসেবে বিচারপতি একেএম নূরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অধীনেই ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি প্রায় আট বছর সিইসি ছিলেন। ১৯৮৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব ছাড়েন।
তৃতীয় সিইসি হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পান বিচারপতি বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মসউদ। এই সিইসির অধীনে ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই নির্বাচনেই বিজয়ী হয় সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
১৯৯০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। তিনিই প্রথম সিইসি যাঁর অধীনে কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে বছরের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের পঞ্চম সিইসি হিসেবে বিচারপতি আবদুর রউফ ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেন। তাঁর অধীনে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। তিনি দায়িত্বে থাকাকালেই মাগুরা ও মিরপুরের দুটি বিতর্কিত উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ এপ্রিল ১৯৯৫ পর্যন্ত সিইসির দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আবদুর রউফ।
ওই বছরের ২৭ এপ্রিল বিচারপতি একেএম সাদেক সিইসি হিসেবে ইসিতে যোগ দিয়ে ৬ এপ্রিল ১৯৯৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অধীনে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগসহ বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে সরকার গঠনের পরেও নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় বিএনপি।
১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরামর্শে সংসদ ভেঙে দেন তখনকার রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস। পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ১৯৯৬ সালের ৬ এপ্রিল বিদায় নেন বিচারপতি একেএম সাদিকের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
আমলাদের মধ্যে প্রথম মোহাম্মদ আবু হেনাকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হেনা কমিশনের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ২১ বছর পরে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। আবু হেনা কমিশন ২০০০ সালের ৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে।
২০০০ সালের ২৩ মে দেশের অষ্টম সিইসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক সচিব এমএ সাঈদ। এ কমিশনের অধীনে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট। ২০০৫ সালের ২২ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে সাঈদ কমিশন।
২০০৫ সালের ২৩ মে সিইসির দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি এমএ আজিজ। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের বিরোধিতা করে আন্দোলনের ডাক দেয় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট। আজিজ কমিশন ২০০৭ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করে। কিন্তু ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সেই সময় রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। যেটি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামেই পরিচিত। ২১ জানুয়ারি বিদায় নেয় আজিজ কমিশন।
২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের ১০ম সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক আমলা ড. এটিএম শামসুল হুদা। শামসুল হুদা কমিশনের অধীনেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। শামসুল হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
১১ তম সিইসি হিসেবে ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ। রকিব কমিশনের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যে নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিজয়ী হন। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয় রকিব কমিশনের।
২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। চলতি মাসের ১৪ তারিখে তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়। হুদা কমিশনের অধীনেই ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। নিরঙ্কুশভাবে জয় পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখে আওয়ামী লীগ। বিএনপিসহ বিরোধী দলের অভিযোগ ছিল, ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। আগের রাতেই অধিকাংশ ভোট কেটে নেওয়ার অভিযোগ করে দলগুলো। যদিও মেয়াদের শেষাবধি পর্যন্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুদা কমিশন। চলতি মাসের ১৪ তারিখ তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়। শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে নিজেদের সফলই দাবি করেছে হুদা কমিশন।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। তবে নদীতে জেলেদের মাছ ধরা ঠেকাতে এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক অভিযান যতই জোরদার হোক, স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন না
৫ ঘণ্টা আগে
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
৭ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়াতে যাত্রীবাহী ক্যারেজের তুলনায় মালবাহী ক্যারেজের সংখ্যা বাড়ানো। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে রেলের আয় বাড়ানো এবং রেল খাতকে লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে কমিটি...
৭ ঘণ্টা আগে
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন হলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘটে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ৬৪ বছর পরও তাঁকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য দাবি জানাতে হচ্ছে
৮ ঘণ্টা আগে