Ajker Patrika

আরও দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আরও দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। ফাইল ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানা) পৃথক দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত তাঁকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। অন্যদিকে আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পৃথক দুই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরিফ হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় লর্ড হার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. আরিফের চোখে গুলি লাগে। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আরিফের বাবা মো. ইউসুফ যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।

রুবেল হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে গার্মেন্টস কর্মী মো. রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।

আদালতে শুনানি:

দুপুরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। শুনানির সময় তিনি কাঠগড়ায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানো পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি। প্রধান বিচারপতি হয়ে তিনি দলীয়করণ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন। পঞ্চম সংশোধনী সংবিধানে সব বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট তৈরি করেছেন। যার কারণে মানুষ তাঁর ভোটার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এসব কারণে সরকার তাকে সব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। মামলার তদন্ত স্বার্থে আসামিকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

খায়রুল হকের পক্ষে তাঁর আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন শুনানিতে বলেন, আসামি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি। তিনি জুডিশিয়াল মব সন্ত্রাসীর স্বীকার। তাঁকে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাঁকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

গত ৫ মার্চ পাঁচ মামলায় তিনি জামিন পান। জামিন পাওয়ার পরপরই তাঁকে আরও দুই হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। আসামি জামিন পাওয়ার পরেও তাঁকে অন্য মামলায় কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। আসামির ৮১ বছর বয়স। প্রায় এক বছর ধরে তিনি জেলহাজতে আটক রয়েছেন। গ্রেপ্তার দেখানো বিরোধিতা করে তাঁর জামিনের প্রার্থনা করেন।

একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘এই আদালতে জামিন বিষয়ে শুনানি হবে না। শুধুমাত্র গ্রেপ্তার সংক্রান্ত শুনানি হয়েছে। আপনার জামিন সংক্রান্ত শুনানি নথিভুক্ত করা হলো। আর আসামিকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।’

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় জালিয়াতি সংক্রান্ত তিন মামলা, একটি হত্যা মামলায় ও দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। গত পাঁচ মার্চ হাইকোর্ট থেকে সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে যাত্রাবাড়ী থানার আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ আরও দুটি বাংলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ফলে তিনি আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত