শহীদ সেনা দিবস আজ

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় দণ্ডিতদের এবং রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি আপিল বিভাগে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলাটি ঘটনার ১৭ বছর পরও বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আসামিদের স্বজন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বিডিআর বিদ্রোহ ও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজসংকেত ছিল এবং ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
নবগঠিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করা হবে জানিয়ে গত সোমবার বলেছেন, প্রয়োজনে স্বাধীন কমিশন গঠন করে তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার-প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। বিএনপির ইশতেহারেই বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের অঙ্গীকার রয়েছে।
২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার কিছু দিন পর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি ঘটে। ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। নারকীয় সেই হত্যাযজ্ঞের ১৭তম বার্ষিকী আজ। গত বছর দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা দেয় সরকার।
পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২৫৬ জনকে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন।
একই ঘটনায় করা বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ২০ জন। বিচারিক আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বাহিনীর নিজস্ব আইনেও বিচার হয়, যা সামারি ট্রায়াল (সংক্ষিপ্ত বিচার) নামে পরিচিত। ওই বিচারে ১০ হাজার ৯৭৩ জনের বিভিন্ন ধরনের সাজা হয়। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৫৯ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অন্যরা প্রশাসনিক দণ্ড শেষে আবার চাকরিতে যোগ দেন। এ ছাড়া সারা দেশে বিশেষ আদালত গঠন করে বিচার করা হয়। বিশেষ আদালতে ৫৭টি মামলায় ৫ হাজার ৯২৬ জন জওয়ানের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। বিচার চলাকালে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।
হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। সাজার বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরা জেল আপিল ও আপিল করেন। এ ছাড়া ৬৯ জনের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের দেওয়া রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। এ ছাড়া ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত ২৮৩ জন খালাস পান। হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি।
হাইকোর্টের রায়ের পর দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসামিরা। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া এবং সাজা কমা ৮৩ আসামির বিষয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। উভয়পক্ষের করা আবেদন আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায়।
ওই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্যনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা বিচারিক আদালতে চলছে। ইতিমধ্যে ৩০০–এর বেশি আসামির জামিন হয়েছে। আরও যাঁরা জামিন পাওয়ার মতো তাঁদেরও হয়তো জামিন হবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করছেন। কারণ, তাঁরা কারাগারে আছেন অনেকটা বিনা বিচারে। তাই তাঁর প্রত্যাশা, আপিল বিভাগে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিস্ফোরক আইনের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সেখানকার প্রসিকিউশনকে অনুরোধ জানান তিনি।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন আসামিদের স্বজনেরা এবং আইনজীবীরাও। আসামিপক্ষের আইনজীবী পারভেজ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, হত্যা মামলায় ১০ বছরের নিচে সাজা হওয়া আসামিরাও জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরাও জামিন পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের জামিনের জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। এ ছাড়া মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য রিমান্ডে চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ইতিমধ্যে ৩০২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
পারভেজ হোসেন আরও বলেন, সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ঘটনায় জড়িত হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের আইনের আওতায় আনতে তাঁরা আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন।
আপিল নিষ্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রওফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলাটি কার্যতালিকায় এলে সে অনুযায়ী শুনানি হবে।
স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন
পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত ছিল। ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন শেখ ফজলে নূর তাপস। পুরো ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত ছিল। ওই ঘটনায় ভারতেরও সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন।
কমিশনের সভাপতি প্রতিবেদনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় শেখ হাসিনা ও তাপস ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর জড়িত ছিলেন।
পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনেরা ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরদিন সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এখনই কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

ভাগ্যবদলের আশায় সৌদি আরবে পাড়ি দিয়ে উল্টো ভাগ্যবিড়ম্বিত হয়েছেন বরিশালের এক নারী। গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া ওই নারী দিনরাত কাজ করেও খাবার পাননি ঠিকমতো। শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চারবার হাতবদল হওয়া ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে ফিরেছেন; কিন্তু বাড়ি ফেরা হয়নি।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ সরকারের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রীর নিজ বাসভবনে এ সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়...
৬ ঘণ্টা আগে
অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
৬ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য। ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন।
৬ ঘণ্টা আগে