
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি দল। তাদের পক্ষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এই প্রস্তাব দিয়ে বলেন, সরকারি দলের পক্ষে ১২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বিএনপির ১২ জন এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও অন্যান্য দলের পাঁচজন রয়েছেন।
সরকারি দল প্রত্যাশা করছে, বিরোধী দলও এই কমিটির জন্য পাঁচ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবে। বিরোধী দল নাম প্রস্তাব করলে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এই মুহূর্তে নাম দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, প্রস্তাবটি তাঁরা নিলেন। আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। পরে আইনমন্ত্রী বিরোধী দলকে স্বাগত জানিয়ে কমিটি গঠনের জন্য আগামী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে সংসদকে জানান।
আজ দুপুরে মধ্যাহ্ন বিরতির পর সংসদের বৈঠকে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবে আলোচনার জন্য আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে ফ্লোর দেন। এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য দেওয়ার আগে একটি বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। এ জন্য তাঁকে আলাদা করে দুই মিনিট সময় দেবেন।’
পরে ডেপুটি স্পিকার ফ্লোর দিলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ সংবিধানের চর্চা চলে চায়ের দোকান পর্যন্ত। বিশেষ কমিটি করার বিষয়ে ১২ জনের নামের তালিকা ঠিক করেছি। বাইরে যে সাংবিধানিক চর্চা হয়, সেই চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই। সেই চর্চার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে আমি ও আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংসদে উপস্থাপন করেছিলাম—আমরা সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি করতে চাই। রুল ২২৬ অনুসারে সেই কমিটির বিষয়ে আমরা ১২ জনের তালিকা ঠিক করেছি। যেখানে বিএনপি আছে, গণঅধিকার পরিষদ আছে, গণসংহতি আছে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি আছে এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরও রাখা হয়েছে।’
কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যের আনুপাতিক হারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শতাংশ হিসাবে করতে গেলে বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ আসে। সেখানে আমরা উনাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাচ্ছি। আমরা ১২ জনের একটি তালিকা করেছি। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপির সাতজন আর পাঁচজন অন্য দল থেকে দেওয়া হয়েছে। এখন উনাদের (বিরোধী দল) পক্ষ থেকে যদি পাঁচজন দেওয়া হয়, তাহলে এই কমিটি-সম্পর্কিত বিষয় আমরা আগামীকাল উপস্থাপন করতে চাই। উনারা দিলে আমরা সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চাই।’
আইনমন্ত্রীর প্রস্তাবের পরে ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘বিএনপি থেকে সাতজন ও অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন নিয়ে এই ১২ জনের তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারি দল। আপনাদের বিরোধী দল থেকে পাঁচজনের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সুতরাং এই ১৭ জনকে নিয়ে বিশেষ কমিটি করবেন। দয়া করে যদি আপনি আপনাদের পাঁচজনের তালিকা দেন, তাহলে ওই কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।’
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি সংসদ নেতার সালাম দিয়েই কথা বলেছেন। আমি উনাকে বলেছি, এই বিষয়ে আমাদের মাঝে আলোচনার বিষয় আছে। কারণ, এখানে আমাদের ধারণাগত পার্থক্য আছে। আমরা আলোচনা করে জানাব। আজকেই হয়ে যাবে, বোধ হয় এটা হবে না। এখন মত দিতে পারব না। কারণ, আমরা চেয়েছি সংস্কার, কিন্তু এখানে হচ্ছে সংশোধন। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের মতপার্থক্য ছিল, এখনো এটা রয়েছে। প্রস্তাব উনারা দিয়েছেন, সেটা আমরা নিলাম, শুনলাম; কিন্তু পরে জানাব। এখনই কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।’
বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এটাতে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করব। আমরা জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনে এগিয়ে যাব। সুতরাং, এ জন্য যদি আমাদের অপেক্ষা করতে হয়, পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না।’
শেষে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তাহলে সংসদ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে যে, কমিটিতে সরকারি দল থেকে ১২ জনের সদস্য প্রস্তুত আছে এবং বিরোধী দল (পাঁচজন) এ-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসবে। সে জন্য সরকারি দল প্রস্তুত রয়েছে।

আমরা যে লড়াইটা করেছি, যে সংগ্রামটা করেছি, এই সংগ্রামের পেছনে কত মানুষের অবদান, কত মানুষের ত্যাগ, সেটি আমাদের তরুণ বন্ধুরা হয়তো জানে না। তারা হয়তো মনে করেছে ফুটবলের ৯০ মিনিটের খেলায় হয়তো চান্সে কেউ ৫ মিনিটে গোল দিয়ে...
২৪ মিনিট আগে
মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা এলাকায় গেলে উন্নয়ন ও সড়ক সংস্কারের দাবির মুখে পড়েন। গত দুই মাসে তিনি যে ডিও লেটার পেয়েছেন, তাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এসব রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য...
৩৩ মিনিট আগে
সংশোধনীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর—তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন নেজামে ইসলামী এবং আলবদর, আলশামস বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যে সমস্ত দামাল ছেলে, যাঁরা সংগ্রাম করেছেন—তাঁদের বীর মুক্তিযোদ্ধা...
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ ও স্বতন্ত্র জোটের একজনসহ মোট ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে