Ajker Patrika

গাবতলীতে চালু হলো দেশের প্রথম ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২: ৩২
গাবতলীতে চালু হলো দেশের প্রথম ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট
প্ল্যান্টটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১২ টন আম প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। প্রতি কেজি আম প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যয় হবে মাত্র ৩ টাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) স্থাপন করেছে আধুনিক ‘ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (ভিএইচটি) প্ল্যান্ট। এটি এমন একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, যেখানে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বাষ্প ব্যবহার করে ফলমূল ও শাকসবজিকে পোকা ও জীবাণুমুক্ত করা হয়।

আজ সোমবার এই প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিসচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিপণ্য রপ্তানির সব ধরনের প্রক্রিয়া এক জায়গা থেকে সম্পন্ন করার জন্য গাবতলীর ভিএইচটি সেন্টারে কোয়ারেন্টাইন অফিস চালু করা হচ্ছে। আমরা রপ্তানির ক্ষেত্রে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করছি। এখানে পণ্য আসবে, ধোয়া হবে, প্যাকিং হবে এবং এখানেই কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠানো যাবে।’

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, বিমানবন্দরে রপ্তানি করা ফল সংরক্ষণের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আমসহ দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্যের গুণগত মান বজায় থাকবে। রপ্তানি খরচ কমাতে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইনসের সঙ্গে কার্গো সুবিধা বৃদ্ধি এবং আগাম কার্গো স্পেস সংরক্ষণের বিষয়েও আলোচনা করা হবে।

আজ এই প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ এই প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএডিসির তথ্য অনুসারে, প্ল্যান্টটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১২ টন আম প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। প্রতি কেজি আম প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যয় হবে মাত্র ৩ টাকা। প্ল্যান্টটিতে স্বয়ংক্রিয় কনভেয়ারভিত্তিক প্যাকেজিং লাইনও স্থাপন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করবে।

প্ল্যান্ট-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যে উত্তপ্ত করা হয়। এতে ফলের গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকে, কিন্তু পোকামাকড় ও রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে আম আন্তর্জাতিক কোয়ারেন্টিন মান পূরণ করে এবং কঠোর আমদানি নীতির দেশগুলোতে রপ্তানির উপযোগী হয়ে উঠবে।

বিএডিসির কর্মকর্তারা জানান, গাবতলীর প্ল্যান্টে প্রতি ব্যাচে প্রায় তিন টন আম বা অন্যান্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করা যাবে। ট্রিটমেন্ট শেষে ফল ও সবজি ৩০ মিনিট পানি দিয়ে ধুয়ে শুকানো হবে। এতে ফলের রং উজ্জ্বল হবে, গুণগত মান বজায় থাকবে এবং সংরক্ষণকাল ৮ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত বাড়বে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় তিন টন আমের ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কমলা, মাল্টা, লেবু, বরই, লিচু, আনারস, পেয়ারা, ড্রাগন ফল এবং আলু, টমেটো, শসা, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজির ওপরও এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত