
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যানের মেয়াদ বাড়াতে চান কয়েকজন রাজনীতিবিদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করেছে। কাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল থাকবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গানম্যান-সুবিধার বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রস্তুত করার কাজ চলছে। বিশেষ এই নিরাপত্তার সুবিধা কাদের জন্য অব্যাহত থাকবে এবং কাদের সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে তা নির্ধারণ করেই পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। এই সুবিধার মেয়াদ ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচনের পর ইতিমধ্যে কয়েকজন রাজনীতিবিদ ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা গানম্যান ও আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব লাইসেন্স ও নিরাপত্তার সুবিধা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্বাচনের আগে আবেদনের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শর্তসাপেক্ষে গানম্যান ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিষয়টি এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন (গত ১২ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে দুর্বৃত্তদের গুলি করার ঘটনায় অনেক নেতা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান। অনেকে নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিরাপত্তার সুবিধা অনুমোদন করে, যা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল। ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান।
সূত্র জানায়, ওই সময় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাসুদ অরুণ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতাসহ আরও অনেকে।
গত ১৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে। নীতিমালার আওতায় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র রক্ষী নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার একটি সূত্র জানায়, সরাসরি মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৬২ জনকে গানম্যান বা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হয়। নির্বাচন শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি এসব লাইসেন্স ও নিরাপত্তার সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়। তবে কয়েকজন মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন, যা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকেরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
জোনায়েদ সাকি নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বিধি অনুযায়ী এখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এই সুবিধা পাওয়া যাঁরা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার সুবিধা বহাল থাকবে কি না, তা নিয়েই আলোচনা চলছে।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের বিষয়গুলো দেখভাল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৪ শাখা। সংশ্লিষ্ট শাখার উপসচিব আবেদা আফসারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি চিঠি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় সবার জন্য একই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ঝুঁকির মাত্রা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রকৃত ঝুঁকিতে থাকা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি এই সুবিধা কিছুদিনের জন্য পেতে পারেন। বিষয়টি সংবেদনশীল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, নির্বিচারে অস্ত্র বিতরণ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, বরং এতে নতুন ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যাঁদের সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর হুমকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আলাদা নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। কার্ড নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার আগের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি ছয়টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। দায়িত্ব পালনের দেড় বছরে এগুলোসহ মোট ১৩২টি অধ্যাদেশ জারি করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। এগুলোর মধ্যে সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কিছু অধ্যাদেশও রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি। তবে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এখন কোথায় আছেন? তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকলে সেখানে কতদিন থাকবেন?
৩ ঘণ্টা আগে
মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা পদে, নবম গ্রেডে বেতন স্কেল সর্বশেষ ধাপের বেতনে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর...
৪ ঘণ্টা আগে