অধস্তন আদালতে এজলাস সংকট

এজলাস সংকটে দেশের অধস্তন আদালতের প্রায় ৫০০ বিচারককে বিচারকাজে এজলাস ভাগাভাগি করতে হয়। অনেক বিচারকের প্রয়োজনীয় কর্মী, চেম্বার, প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জাম নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সংকটের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্টের প্রভাব পড়ছে বিচারকাজে। বাড়ছে মামলাজট, ভোগান্তি হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশের জেলা আদালতে ২৪১টি এজলাসের সংকট রয়েছে। এতে ৪৮২ জন বিচারককে এজলাস ভাগাভাগি করতে হয়। এর মধ্যে ঢাকার আদালতে ১৭টি, খুলনার আদালতে ১৩টি, চট্টগ্রামের আদালতে ১২টি, কক্সবাজারে ১১টি, ফেনীতে ১০টি, বরিশালে ৯টি, কিশোরগঞ্জে ৮টি, রাজশাহীতে ৮টি এজলাসের সংকট রয়েছে। এ ছাড়া অনেক জেলায় ১টি থেকে ৭টি পর্যন্ত এজলাস সংকট রয়েছে।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মাজহারুল হক সারা দেশে এজলাস সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে ২৩২ জন বিচারকের পদ সৃজন ও পদায়ন হওয়ায় এজলাস সংকট আরও বেড়েছে। এসব পদের বিপরীতে অফিস, চেম্বার, এজলাস—তথা অবকাঠামো তৈরি, সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ প্রয়োজন। অনেক জেলার পুরোনো আদালতগুলোয় অনুমোদন করা সহায়ক জনবলের পদ শূন্য ও সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, সহায়ক জনবল নিয়োগ চলমান রয়েছে। আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে অন্যান্য সমস্যার অনেকটাই উত্তরণ ঘটবে।
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪১ জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। অন্য ২৩ জেলায় আদালতে ভবন নির্মাণ নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও চিঠি চালাচালি হয়। জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য চাওয়া হয় আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে। মন্ত্রণালয় থেকে ২৩ এপ্রিল প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারী, নরসিংদী, নড়াইল, বাগেরহাট, কক্সবাজার, শরীয়তপুর, নাটোর, শেরপুর, মাদারীপুর, ফেনী, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা, চাঁদপুর, বান্দরবান, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ, খাগড়াছড়ি, বরগুনা, ঠাকুরগাঁও, গাজীপুর, লালমনিরহাট ও নেত্রকোনায় সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ হয়নি।
জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কয়েকটি জেলায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা আছে। তবে আমরা দ্রুত এসব ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। আর যেসব জেলায় এজলাস, চেম্বার, স্টাফসহ উপকরণের সমস্যা আছে—সেগুলো অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীকে জানানো হবে। কারণ এসব তো মন্ত্রণালয়কেই করতে হবে। আইনমন্ত্রী নিজেও এখন একনেকের সদস্য। আশা করি, বাজেটের পর এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
৬৪ জেলায় সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয় ২০০৯ সালে। প্রথম পর্যায়ে তিন দফায় পাঁচবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। এর আওতায় ৪১ জেলায় ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ বেশ আগেই চূড়ান্ত হয়েছে।
অন্য ২৩ জেলায় সিজেএম ভবন নির্মাণ, এজলাসসহ নানান সংকটের বিষয়ে জানতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও আইনসচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু বলেন, অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ দীর্ঘ সময়েও বিচার না পেয়ে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। তাই বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে তাঁদের এজলাস, চেম্বার, স্টাফসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। বিচার বিভাগ থেকে আসা রাজস্বের উল্লেখযোগ্য অংশ বিচার বিভাগের উন্নয়নে বরাদ্দ করতে হবে। এখন বাজেটের জন্য মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) সংকট আর ত্রুটির কারণে ঈদের ফিরতি যাত্রায় ভুগেছেন ট্রেনের যাত্রীরা। এসব কারণে ১ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগেই অন্তত ৩০টি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। কিছু ট্রেনের দেরি হয়েছে এক থেকে চার ঘণ্টা। সংকেত ত্রুটিতে বিলম্ব হয় ১৩ ট্রেনের।
৪ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশ- সীমায় একের পর এক বজ্রপাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশি-বিদেশি উড়োজাহাজ। গত ১৫ দিনেই অন্তত তিনটি উড়োজাহাজ বজ্রপাতের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উড্ডয়নের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মনে করা হচ্ছে, যন্ত্রাংশ কেনা ও মেরামতের ব্যয় এবং ফ্লাইট সূচি ব্যাহত...
৪ ঘণ্টা আগে
বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘এখন বলা হচ্ছে–আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে, ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক–ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম–ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামী...
৫ ঘণ্টা আগে
জোর-জবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে এই শেয়ারগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অনতিবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে আবার শেয়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অতীতে বিশেষ একটি গোষ্ঠী চাপ সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল...
৬ ঘণ্টা আগে