Ajker Patrika

প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়ার পালে হাওয়া

  • পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আইন সংশোধনের সুপারিশ চেয়ারম্যানের।
  • ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিপিসির কার্যালয়ের নির্মাণ শেষ চট্টগ্রামে। কার্যালয় সরানো নিয়ে প্রশ্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়ার পালে হাওয়া
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে বিপিসি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ১৭ জুন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো মতামতে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধান কার্যালয় ঢাকায় গেলে প্রশাসনিক, নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয় কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। এ জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আইন সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিপিসির কার্যালয় স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে কথা হয়। তবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ৩০ মে জানিয়েছিলেন, বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানো হবে না। মন্ত্রীর মেহেদিবাগের বাসায় চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকের নেতৃত্বে চেম্বার নেতাদের এক বৈঠকে ওই ঘোষণা এসেছিল।

সম্প্রতি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিপিসির নিজস্ব কার্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডসংলগ্ন জয়পাহাড়ের কোলে বিপিসির জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা এই ভবন। এই বিষয়ে বিপিসি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক বিপিসির উপমহাব্যবস্থাপক মো. আপেল মামুন বলেন, চট্টগ্রামে বিপিসির নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এত টাকা খরচ করে কার্যালয় নির্মাণের পর এখন কেন তা সরিয়ে ঢাকায় নেওয়া হবে, এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কাছে পাঠানো বিপিসির সংশোধিত মতামতে চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বর্তমানে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকলেও অধিকাংশ নীতিনির্ধারণী, প্রশাসনিক ও সমন্বয় কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং অডিট-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্মকর্তাদের মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। এতে আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে।

মতামতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে মোংলা ও পায়রা বন্দর দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়লে সারা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও বিস্তৃত ও জটিল হবে। এ অবস্থায় রাজধানী ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা অধিকতর কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোতে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। তবে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর করতে হলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আইন, ২০১৬-এর ধারা ৫ (১) সংশোধন করতে হবে। কারণ বর্তমানে আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ‘করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকিবে।’

বিপিসির তথ্যমতে, জ্বালানি তেল কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ ৮টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের জ্বালানি তেল মজুত ও বিতরণের প্রধান স্থাপনাগুলো চট্টগ্রামেই। এ ছাড়া দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিকেন্দ্রিক ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা এবং বিপিসির ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল পাইপলাইন প্রকল্পের গোড়াও চট্টগ্রামে। আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাসের পয়েন্ট চট্টগ্রাম বন্দর।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘ভোটের সময় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন নেতারা। এখানকার মানুষকে খুশি করার জন্য এসব বলেন নেতারা। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে আমরা তার ছিটেফোঁটাও দেখতে পাই না। জ্বালানি সেক্টরকেন্দ্রিক দুর্নীতি অনিয়মের একটি বড় অভিযোগ সব সময় রয়েছে। বিপিসির প্রধান কার্যালয়কে ঢাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে হয়তো আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও থাকতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত