Ajker Patrika

খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ০৯
খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ছবি: ফাইল ছবি

কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে সরকারি চাল ও ধানের মজুতে অনিয়ম এবং ২ কোটি ১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামে মামলাটি করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান এবং কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হামিদুল হক।

দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে না পাওয়া ধানের বিষয় রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকে অভিযান চালায়। এ সময় খামাল কার্ড, গুদাম রেজিস্ট্রার, সেন্ট্রাল লেজার ও গুদাম লেজারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে নথিভুক্ত মজুতের তুলনায় ৪২ দশমিক ২০৫ টন চাল কম পাওয়া যায়। প্রতি টন চালের মূল্য ৫৮ হাজার ৩১৮ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা।

খলিলগঞ্জ ব্লকের টিএফএস-৭ নম্বর গুদামে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭১১ টন ধান সংগ্রহের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪০ টন ধানের বিল পরিশোধের তথ্য ছিল। যাচাইয়ে ১৯০ টন ধান গুদামে পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট ৫০ টনের সন্ধান মেলেনি। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য মেসার্স এলাহী অটো রাইস মিলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ওই মিল পরিদর্শন করলে মালিক মো. মুকুল সরকার জানান, তাঁর মিলে কোনো ধান পাঠানো হয়নি।

একই গুদামের নথিতে থাকা আরও ৪৭১ টন ধানের বাস্তব মজুত বা সংগ্রহের পক্ষে সমর্থনকারী তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি টন ধানের মূল্য ৩৪ হাজার টাকা হিসাবে এসব ধানের মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

এজাহার অনুযায়ী, চাল ও ধানের মজুদসংক্রান্ত এসব অসংগতির কারণে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, শিশু নিকেতন ব্লকের এসএফ-৩ নম্বর গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন স্থানে নথি বহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়। এ চালের সংগ্রহ, ওজন, মান, মজুত ও পরিবহন সংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য হিসাবে এর দাম ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। গত ১২ জানুয়ারি চালগুলো জব্দ করে জিম্মায় দেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহসংক্রান্ত রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি ও ব্যবহার করে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০ (খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত