Ajker Patrika

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ৭৮ বাংলাদেশি

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ৭৮ বাংলাদেশি
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে দেশে ফিরেছেন উদ্ধার ৭৮ বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে গত চার দিনে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম চক্রের কবল থেকে উদ্ধার হয়ে দেশে ফিরলেন মোট ২২১ বাংলাদেশি।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ কার্যক্রমে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটিও সহযোগিতা করে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের অন্যতম ভয়াবহ রূপ। বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার প্রতারণায় অংশ নিতে তাদের বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

তিনি জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মাত্র চার দিনে ২২১ জনের দেশে ফেরত আসা প্রমাণ করে, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এ ধরনের প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে চাকরির উদ্দেশ্যে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফেরা অনেক ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রত্যাশিত চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ফেরত আসা এক ভুক্তভোগী জানান, পাঁচ লাখ টাকার বেশি খরচ করে বৈধ ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়ায় গেলেও সেখানে কোনো প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। বিমানবন্দরে এক মাসের ভিজিট ভিসায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে আর প্রয়োজনীয় ভিসা ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে স্থানীয় দালাল ও এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাঁকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেয়।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের টর্চার সেলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। অনেককে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় চক্রের বিদেশি নিয়ন্ত্রকেরা পালিয়ে গেলে তাঁরা মুক্তি পান।

এর আগে গত ১২ জুন ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ জন, ১৫ জুন ৫২ জন এবং বুধবার আরও ৭৮ জন দেশে ফিরেছেন। সব মিলিয়ে চার দিনে দেশে ফেরা বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২১ জনে।

এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম কেন্দ্র থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাঁরাও চাকরির প্রলোভনে বিদেশে গিয়ে একই ধরনের প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার অপারেটর, কলসেন্টার কর্মীসহ বিভিন্ন পদের আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে এসব চক্র কর্মী সংগ্রহ করে। পরে তাঁদের জিম্মি করে সাইবার প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত