Ajker Patrika

১৫০ হাজির লাগেজ চুরির অভিযোগ: সত্যতা পায়নি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
১৫০ হাজির লাগেজ চুরির অভিযোগ: সত্যতা পায়নি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হজ ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় চুরি বা অবৈধ হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

বুধবার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন বিমান বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহ্‌নূর আহমাদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪১৯ জন হাজিকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ হজ ফ্লাইট ‘BG-3104’ ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মোস্তফা কামাল পলাশ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিমান বাংলাদেশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইটটি রাত ২টা ৫২ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রথম ব্যাগ ডেলিভারি দেওয়া হয়। রাত ৩টা ৫১ মিনিটের মধ্যে মোট ৮৩৬টি লাগেজ যাত্রীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশের দাবি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ২১টি ব্যাগ আগেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। তবে ঢাকায় লাগেজ কাটা বা চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তদন্তে আরও জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা ১৫০ জন নয়, বরং মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী ব্যাগ ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। এসব ব্যাগে জমজমের পানি, শ্যাম্পু, লোশন ও খেজুর ছিল বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। কোনো যাত্রী মূল্যবান জিনিস হারানোর লিখিত অভিযোগ দেননি। একজন যাত্রী মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করলেও তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, সৌদি আরবের বিধি অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা সঠিকভাবে সিল না করা তরল সামগ্রী বহন করা নিষিদ্ধ। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব সামগ্রী ধরা পড়লে সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে লাগেজ খুলে বা কেটে নিষিদ্ধ সামগ্রী জব্দ করতে পারে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বহন করাও নিরুৎসাহিত করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার রেকর্ড, আন্তর্জাতিক বিধিমালা এবং সৌদি আরবের সিভিল অ্যাভিয়েশন জেনারেল অথোরিটির (জিএসিএ) নির্দেশনা পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঢাকায় ফ্লাইটটির যাত্রীদের লাগেজ কাটাকাটি, চুরি বা মিসহ্যান্ডলিংয়ের কোনো প্রমাণ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘১৫০ হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি’ হওয়ার দাবি সঠিক নয়।

এ বিষয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে বিমান থেকে নামানোর পর ইউএলডি থেকে বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত লাগেজে কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ হয়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, কিছু ব্যাগ জেদ্দা থেকেই কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ঢাকায় এসেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত