জুলাই আন্দোলনে নয়ন হত্যা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীতে মোটরসাইকেল মেকানিক মো. নয়ন মিয়া হত্যার আলাদা ঘটনাস্থল দেখিয়ে আদালতে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি মামলা করেছেন তাঁর শ্বশুর, অন্যটি তাঁর বাবা। শ্বশুরের করা মামলায় ঘটনাস্থল অসত্য উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থল কাঁঠালবাগান দেখিয়ে মামলা করেন নিহত নয়নের বাবা।
এ দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট চার শতাধিক আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, লালমনিরহাট ও রংপুরের ব্যবসায়ীসহ অনেকে রয়েছেন। মামলাকে কেন্দ্র করে চক্রের বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন আসামি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুলাই শহীদদের তালিকায় ৭৩১ নম্বরে নাম থাকা মো. নয়ন বাংলামোটরে একটি মোটরসাইকেলের ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। থাকতেন হাতিরপুলে। তাঁর গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুরের দাওয়াইরকুঠীতে। বাবার নাম লোকমান হোসেন, গ্রামে কৃষিকাজ করেন। নয়নের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট তাঁরা জানতে পারেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর ওয়ার্কশপের মালিক ও চাচাতো ভাই মানিক খান হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখতে পান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর নয়ন মারা যান।
নয়ন মারা যাওয়ার প্রায় ৯ মাস পর ২০২৫ সালের ৫ জুন তাঁর শ্বশুর এরশাদুল হক এ ঘটনায় ১৬৭ জনকে আসামি করে ঢাকার আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। মামলায় ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয় মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকা। আদালতের নির্দেশে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ইসলাম মল্লিক বলেন, তদন্তে গণ-অভ্যুত্থানে মোহাম্মদপুরে নয়ন নামে কারও নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত নয়নের পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁরা আদালতে জানান, নয়ন মোহাম্মদপুরে মারা যাননি। ঘটনাস্থলের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি বাংলামোটর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন বলে শুনেছেন।
তদন্ত শেষে মামলার ঘটনাস্থলকে অসত্য উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।
এই মামলাকে ঘিরে একটি চক্র মোহাম্মদপুর, লালমনিরহাট ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও অন্য পেশার কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আসামি ‘ম্যানেজ’ করে মামলার হয়রানি থেকে মুক্ত হওয়ার কথা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নয়নের শ্বশুর এরশাদুল হক মন্তব্য করতে রাজি হননি। মামলায় লালমনিরহাটের বিভিন্ন লোককে আসামি করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় তিনি এলাকায় যান না। মেয়ে (নয়নের স্ত্রী) ও নাতনিকে নিয়ে সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকছেন।
এদিকে ওই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার দেড় মাস পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একই ঘটনায় ঢাকার আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা লোকমান হোসেন। ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয় কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগানের আলম হোটেলের সামনে। মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ২৪৮ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে কলাবাগানের ব্যবসায়ী, নারীও রয়েছেন। আদালত ২৩ ফেব্রুয়ারি কলাবাগান থানাকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। কলাবাগান থানার এসআই সামছুল হক সুমনের চলতি মাসে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় আগে মামলা হয়নি। কলাবাগান থানার এসআই আব্দুর রহিম ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নয়ন মিয়ার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেদিন একটি জিডি (নম্বর ৮৯৩) করা হয়।
নয়নের বাবার উপস্থিতিতে আগামী ১ এপ্রিল আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে।
এই মামলাকে কেন্দ্র করেও স্থানীয়ভাবে সচ্ছল, ব্যবসায়ী ও ভিন্নমতের ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ১০-১২ জনের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। মামলার এক আসামি কায়সার বলেন, তাঁর কাছেও টাকা চাওয়া হয়েছিল।
সূত্র জানায়, কয়েকজন ব্যবসায়ী সম্প্রতি বিষয়টি স্থানীয় এমপি ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে জানান। তিনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
নিহত নয়নের বাবা লোকমান হোসেন গ্রামে থাকেন এবং মামলার দেখভাল করছেন নয়নের ওয়ার্কশপের মালিক মানিক খান। মামলার আরজিতে বাদী হিসেবে লোকমান হোসেনের নাম থাকলেও মোবাইল নম্বরটি মানিক খানের। ১৭ মার্চ রাতে মানিক খান বলেন, তাঁদের কিছু না জানিয়েই নয়নের শ্বশুর হয়তো কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলা করেছিলেন। তিনি জুলাই ফাউন্ডেশনের দেওয়া টাকাও নিয়েছেন, নয়নের বাবাকে কিছু দেননি। এখন তাঁরা নয়নের বাবাকে কিছু আর্থিক সহায়তা করার চেষ্টা করছেন। নয়নের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাস্থল যে কাঁঠালবাগান সে বিষয়ে তাঁরা আদালতে সব নথি জমা দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নয়ন বাংলামোটরের কোনো এক স্থানে গুলিবিদ্ধ হন। ওই স্থান কলাবাগান থানাধীন নাকি অন্য কোনো থানায়, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়।
একই ঘটনার পৃথক ঘটনাস্থল দেখিয়ে দুটি মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, একই ফৌজদারি অপরাধে একাধিক মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো একটি মামলা চলতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
৩ ঘণ্টা আগে
সরবরাহে ঘাটতি খুব সামান্য। মজুত নিয়েও আপাতত বড় দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এরপরও সারা দেশের তেলের পাম্পগুলোতে এক মাস ধরে যেন ‘হাহাকার’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, মূলত দুর্বল পরিকল্পনা, তথ্যের ঘাটতি, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাপর্যায়ে কিছু মজুতদারিতে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
কিছুক্ষণ পর ২৫-৩০ জন পুলিশ ওই চায়ের দোকানের সামনে আসে। কিছু পুলিশ সদস্য উচ্চস্বরে বলছিলেন—‘সবাইকে ক্রসফায়ার করে দে’। চায়ের দোকানের শাটার খুলে পুলিশ তাঁদের টেনেহিঁচড়ে বের করে হাতের অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পেটায়...
৫ ঘণ্টা আগে
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সরকার চাইলে সেগুলো সংশোধন করে, সংযোজন করে নতুন আইন করতে পারে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন...
৬ ঘণ্টা আগে