
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রয়োজনীয় স্ট্রাইকিং ফোর্স পেলেও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা পাচ্ছেন না। এ নিয়ে একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দীন আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, তিনি বিচারিক আদালত পরিচালনার জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স চেয়ে সংশ্লিষ্ট একটি বাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন। তবে ক্যাম্প কমান্ডার রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনা ছাড়া তাঁকে কোনো ফোর্স দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁকে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে একজন পুলিশ সদস্য দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান চিঠি দেন। তাঁর দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্ট্রাইকিং ফোর্স চেয়ে গত ৮ জানুয়ারি তিনি সংশ্লিষ্ট একটি বাহিনীর ক্যাম্পের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার বরাবর চিঠি দেন। তবে কমান্ডার তাঁকে ফোন করে জানান, তিনি স্ট্রাইকিং ফোর্স দিতে পারবেন না। এরপর এই ম্যাজিস্ট্রেট দুজন পুলিশ দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারবেন না জানিয়ে প্রয়োজনীয় ফোর্স দিতে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি দেন।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি ক্যাম্পের কর্মকর্তা বিচারক হাসান ইমরানকে ফোন করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দীনের চিঠিতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৮৯-এ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত যে কোনো ফোর্সের কমান্ডার বা ইনচার্জ, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগকৃত ম্যাজিস্ট্রেটের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রদান করতে বাধ্য। তাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রদানে অপারগতা প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনী অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা ভোট গ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন—মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন।
বেশ কয়েকজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের মাত্র একজন বা দুজন করে পুলিশ সদস্য দেওয়া হয়েছে। আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া হয়েছে এক প্লাটুন করে বিজিবি কিংবা সেনাসদস্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিচার করার দায়িত্ব মূলত বিচারকদের। তাঁদের ফোর্স না নিয়ে মূলত দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। কমিশন বলেছে, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা তাঁদের প্রয়োজন হলে বলা মাত্র স্ট্রাইকিং ফোর্স সহযোগিতা করবে এবং সে অনুযায়ী আজ বুধবার ইসি থেকে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।’
ইসির প্রজ্ঞাপন
আজ বিকেলে নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের মূল্যায়ন ও সংবেদনশীলতার নিরিখে নির্বাচনী এলাকাসমূহে মোতায়েনকৃত বাহিনীসমূহ পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রভিত্তিক মোতায়েন, এলাকাভিত্তিক মোবাইল টহল মোতায়েন, চেকপোস্ট এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স অপারেশন পরিচালনা করবে। এ ক্ষেত্রে স্ট্রাইকিং ফোর্সের কার্যক্রমের সঙ্গে নির্বাচনী অনিয়ম বা অপরাধ দমনে ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে কার্যসম্পাদন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে দায়েরকৃত অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বা তাঁদের নিজস্ব মূল্যায়নে পরিচালিতব্য অভিযানের সময় যথাযথ নিরাপত্তা সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
কমিশন কার্যকর সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোট দেবেন ইস্কাটনে অবস্থিত ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়ে। এ ছাড়া অন্যান্য কমিশনার ও ইসি সচিব কে কোথায় ভোট দেবেন তা-ও জানিয়েছে সংস্থাটি।
১ ঘণ্টা আগে
ভোট কেনাবেচার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার রাতে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২ ঘণ্টা আগে
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
৪ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেবেন।
৪ ঘণ্টা আগে