Ajker Patrika

বিধি ভেঙে প্রচার চলছে ভার্চুয়াল জগতে

অর্চি হক, ঢাকা 
বিধি ভেঙে প্রচার চলছে ভার্চুয়াল জগতে
প্রতীকী ছবি

নির্বাচনী প্রচারের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার সকালে। এর পর থেকে মাঠে নেই মাইকিং, নেতা-কর্মীদের গণসংযোগ কিংবা জনসমাবেশ। কিন্তু প্রার্থীদের প্রচার যেন থামেনি। অনেক প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন।

গতকাল সকাল থেকে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রচারণা বন্ধের সময় পার হওয়ার পরও একাধিক প্রার্থীর অফিশিয়াল ও অনানুষ্ঠানিক পেজ ও প্রোফাইল থেকে নির্বাচনী পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। কোথাও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, আবার কোথাও প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে আক্রমণাত্মক কনটেন্টও প্রকাশ করা হচ্ছে। ভার্চুয়াল মাধ্যমের এই প্রচার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি আজকের পত্রিকাকে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারও তো নির্বাচনী প্রচারেরই অংশ। অর্থাৎ কোনো প্রার্থী যদি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রতীককে জয়যুক্ত করতে বলেন, নির্বাচনী অনুদান চান, আরপিও অনুযায়ী সেটা নির্বাচনী বিধির লঙ্ঘন।

সময়সীমার পর কার কী পোস্ট

ভোটের তফসিল অনুযায়ী প্রচারের শেষ সময় ছিল গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ছয়টি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এসব পোস্টে সরাসরি ভোট চাওয়া হয়নি, তবে ‘ভোট ফর চেঞ্জ’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ও অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর এক দিনের কার্যক্রমের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১০টি পোস্ট করা হয়েছে। এসব পোস্টে সরাসরি শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তিনটি পোস্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এনসিপি প্রার্থী আতাউল্লাহ ও নারায়ণগঞ্জের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নোয়াখালীর প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়ার জন্য ভোট চাওয়া হয়েছে। এই তিন পোস্টে এই তিন প্রার্থীর বিকাশ ও ব্যাংকের তথ্য দিয়ে সরাসরি অনুদানও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ভোট ফর শাপলা কলি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রচারণার নির্ধারিত সময়সীমার পরও ফেসবুকে ভোট চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেন, পেজটি নাহিদ ইসলাম নিজে পরিচালনা করেন না। তাঁর নির্বাচনী টিম এটা পরিচালনা করে। তারা সময়সীমার নিয়মটা জানত না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল সকালের পর থেকে কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ২৬টি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পোস্ট ছিল শোকবার্তা। একটি পোস্টে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। বাকি ২৩টির বেশির ভাগ পোস্টে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ভোট বিএনপি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পেজ ও প্রোফাইল থেকেও বিভিন্ন প্রচারণার পোস্ট দেখা গেছে। এর মধ্যে কিছু পোস্টে প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ইঙ্গিতমূলক প্রচারও রয়েছে।

আচরণ বিধিমালায় যা বলা হয়েছে

গত বছরের ১০ নভেম্বর জারি করা নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালায় প্রচারণার সময়ের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ (তিন) সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করিতে পারিবেন না এবং ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা সমাপ্ত করিবেন।’

বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সেটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। এর জন্য অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এমনকি প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রচার সহজেই নজরদারিতে আনা গেলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার শনাক্ত ও প্রমাণ করা তুলনামূলক জটিল। ফলে অনেকেই সেই সুযোগ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকে। এটা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা আছে। এ জন্য একটি সেলও রয়েছে। তারা বিষয়গুলো দেখছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত