Ajker Patrika

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: তিন কারণে ১৫ পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা

  • অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত দখল ও তিন চাকার বাহন যানজটের কারণ
  • ঈদের আগে এসব পয়েন্ট যানজটমুক্ত করতে না পারলে ভোগান্তি বাড়বে
  • শ্রীপুরে উঁচু-নিচু ঢেউখেলানো ৫০০ মিটার ভোগাবে যাত্রীদের
ময়মনসিংহ ও শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: তিন কারণে ১৫ পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা
ময়মনসিংহ শহরে দাপিয়ে বেড়ানো অটোরিকশা। সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কমপক্ষে ১৫টি পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঈদের আগে এসব পয়েন্ট যানজটমুক্ত করতে না পারলে ভোগান্তি বাড়বে ঘরমুখী যাত্রীদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত দখল ও বেপরোয়া গতিতে তিন চাকার অবৈধ বাহন চলাচল। পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তারা কাজ করছে।

এ ছাড়া মহাসড়কের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর অংশে উঁচু-নিচু ঢেউখেলানো ৫০০ মিটার সড়ক ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হবে বলে মনে করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম মহাসড়কের এই অংশে গাড়ির গতি কমে যায়। এতে যানজট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাস মোড়, চুরখাই, বৈলর, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, স্কয়ার মাস্টারবাড়িসহ কমপক্ষে ১৫টি পয়েন্টে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের। রাস্তা ভাঙাচোরাসহ মহাসড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় এবারও যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহনচালকেরা। ঈদের আগে রাস্তার দুপাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি তিন চাকার বাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আনার দাবি দূরপাল্লার পরিবহনচালকদের।

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী শৌখিন পরিবহনের চালক রানা মিয়া বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি যানজট হয় বাইপাস মোড়, ভালুকা এবং স্কয়ার মাস্টারবাড়ি। এসব স্থানের চারপাশে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, এগুলো উচ্ছেদ না করলে এবারও যানজটের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে।’

আরেক চালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘১৫ থেকে ২০ বছর পরিবহনের সঙ্গে জড়িত রয়েছি। অভিজ্ঞতা বলে, এবারও যানজট হবে। এর কারণ হলো মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চালক, অদক্ষ চালক এবং তিন চাকার পরিবহন। প্রতিটি ঈদ ঘিরে রাস্তায় অনুমোদনহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রশাসনকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

তিন চাকার অটোরিকশাচালক মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা মহাসড়ক ব্যবহার করে ময়মনসিংহ থেকে ত্রিশাল, ভালুকায় প্রতিনিয়ত যাতায়াত করি। পেটের তাগিদে তা করতে হচ্ছে। তবে আমাদের কারণে কোনো যানজট হয় না। ঈদে প্রতিটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে, যার কারণে যানজট হয়। কিন্তু দায় চাপানো হয় আমাদের ওপর।’

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহ হওয়ায় এখান থেকে চারদিকে মানুষ যাতায়াত করে। যার কারণে প্রতিবছর রাস্তায় অসংখ্য পরিবহন দেখা যায়। এতে চাপ বাড়ায় দীর্ঘ যানজটে মানুষকে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়াও। এসব বিষয়ে প্রশাসন তৎপর না হলে এবারও ভোগান্তিতে পড়তে হবে ঘরমুখী যাত্রীদের।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের দুপাশে অবৈধ বাজার উচ্ছেদের কথা জানিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবার ময়মনসিংহের সব রাস্তা এখন পর্যন্ত চলাচলের উপযোগী রয়েছে। কোথাও রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি হলে মোবাইল টিম রয়েছে, তারা সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করবে। আশা করা যাচ্ছে, রাস্তার কারণে কোথাও যানজট হবে না। তবে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকায় যানজট হয়।

মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ভোগান্তি কমাতে হলে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রয়াস। তবে যেসব পয়েন্টে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।’

শ্রীপুরে উঁচু-নিচু ঢেউখেলানো মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা

ঢেউখেলানো ৫০০ মিটার: শ্রীপুরে উঁচু-নিচু ঢেউখেলানো ৫০০ মিটার মহাসড়কে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের এই অংশ উঁচু-নিচু হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

গতকাল শনিবার সকালে নয়নপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের এই অংশটুকু উঁচু-নিচু ঢেউখেলানো রয়েছে। রাস্তায় কয়েকটি অংশ সৃষ্টি হয়েছে। উঁচু-নিচু অংশে এসে বিভিন্ন পরিবহনের গতি কমে যাচ্ছে। এই অংশে চলাচলের সময় বিভিন্ন পরিবহনের নিচের অংশের সঙ্গে রাস্তায় ঘর্ষণ হয়। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঈদুর ফিতরের আগে এই অংশ সংস্কার না হলে পরিবহনের বাড়তি চাপে ভোগান্তি সৃষ্টি হবে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ গাজীপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগেই সমস্যার সমাধান হবে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের গাজীপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত