Ajker Patrika

মানবতাবিরোধী অপরাধ: চানখাঁরপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায় আজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ১৫
মানবতাবিরোধী অপরাধ: চানখাঁরপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায় আজ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করা হবে।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম মামলা এবং রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। এই মামলায় আসামি আটজন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

পলাতক অন্য আসামিরা হলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

এর পর ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই এই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওই বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বড় ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তাঁর প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হকও সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে। তাঁরা সবাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট ২৬ জন এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনজন। গত বছর ২৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের এই দিন ধার্য করেন।

মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত আট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আরজি জানিয়েছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, চায়নিজ রাইফেল ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। যাঁরা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাঁদের গালাগাল করা হয়, হুমকি দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পাবেন বলে প্রসিকিউশন প্রত্যাশা করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের রায়ের পরদিনই শাকসু নির্বাচন, সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোট বর্জনের চিন্তায় এনসিপি

ছবি প্রকাশে আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তারেক রহমানকে আগে শোকজ করতে হবে—আসিফ মাহমুদের দাবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত