
স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে রয়েছে গণমাধ্যম। কাজেই এখন সবার আগে প্রয়োজন গণমাধ্যমের ওপর গণমানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’—শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।
গণমাধ্যমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা। পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুন্নবী, অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য জিমি আমির প্রমুখ।
অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। এর সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থা ও করপোরেট মালিকানার প্রভাবও যুক্ত হয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে দুর্বল করেছে।’
অনেক মালিক গণমাধ্যমকে জনস্বার্থের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং নিজেদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয় বলেও উল্লেখ করেন এই শিক্ষক।
গীতি আরা নাসরীন আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের ঘটনাকে অনেকে বিপ্লব বললেও প্রকৃত অর্থে বিপ্লব তখনই হয়, যখন রাষ্ট্রের কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। মানুষের আত্মত্যাগ সত্ত্বেও সেই কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে রয়েছে গণমাধ্যম।’ তাঁর মতে, রাষ্ট্র, নাগরিক ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা না থাকলে গণতান্ত্রিক সংস্কারও টেকসই হবে না। সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ প্রসঙ্গে মাহমুদা হাবিবা বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক এখনো অনিশ্চিত চাকরি ও অপ্রতুল বেতনে কাজ করছেন। মালিকপক্ষের অযৌক্তিক চাপ মোকাবিলা করতে তাদের আইনি সুরক্ষা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক দল, সরকার ও গণমাধ্যমকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেত্রী। পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, ‘সংস্কারের নামে নতুন করে আলোচনা শুরু করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অথচ জনগণ জানতে চায়, কবে সনদ বাস্তবায়িত হবে এবং কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় গঠনের মতো দীর্ঘদিনের সংস্কারও বাস্তবায়িত হয়নি।’
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুন্নবী বলেন, ‘আজ সর্বাগ্রে প্রয়োজন গণমাধ্যমের ওপর গণমানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আর তার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজন মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন।’

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতেই নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে স্থাপনা ভেঙে
৩৪ মিনিট আগে
বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন হবে ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। বিকেল সাড়ে ২টায় ১২টি থিমেটিক প্রদর্শনী স্টল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
ফ্যাসিবাদের শক্তিকে গোপনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের মাঠপর্যায়ের কিছু সদস্য দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন, এমন তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। লোয়ার লেভেলে, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করার, অবহেলা...
৪ ঘণ্টা আগে
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
৫ ঘণ্টা আগে