ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের গত ১৫ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাঠামোগত দুর্বলতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে সরকার। ৩ হাজার ২৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্র আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ছোট ছোট লাইসেন্স, বহুস্তরীয় অনুমোদনব্যবস্থা ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে টেলিযোগাযোগ খাতে একটি জটিল এবং অকার্যকর বাজারকাঠামো তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা নিশ্চিত হয়নি।
নীতিনির্ধারণে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলানো যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে শ্বেতপত্রে। মূল্যকেন্দ্রিক স্পেকট্রাম নীতি, অবকাঠামো শেয়ারিংয়ে দেরি ও ইন্টারনেটবিষয়ক কঠোর নিয়মের কারণে ফাইভ-জিসহ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।
শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আমদানিপ্রক্রিয়া, অনুমোদন, কর—প্রতিটি ধাপেই অদক্ষতার কারণে ডেটাসেবার প্রকৃত খরচ বেড়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের ওপর। শহরের তুলনায় সেখানে সেবার মান কম হলেও খরচ তুলনামূলক বেশি।
অভিযোগব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে গ্রাহক অসন্তোষ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ এই ব্যবস্থাগত দুর্বলতার বোঝা সরাসরি বহন করছে।
শ্বেতপত্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব স্পষ্ট না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং জবাবদিহি দুর্বল হচ্ছে।
টাস্কফোর্স সুপারিশ করেছে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন, একটি স্বাধীন আপিলব্যবস্থা, গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণের জন্য আলাদা ইউনিট, প্রকাশ্য কর্মদক্ষতা সূচকসহ শক্তিশালী প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার।
শ্বেতপত্রে করনীতিরও সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বর্তমান করকাঠামো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র যদি সবার জন্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে চায়, তবে করনীতিকে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গত ১৫ বছরে টেলিযোগাযোগ খাতে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রণয়ন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই শ্বেতপত্র টেলিযোগাযোগ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক ড. মুছাবের উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, অধ্যাপক ড. লুতফা আক্তার, টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এখলাস উদ্দিন আহমেদ, প্রযুক্তিবিদ ফিদা হক ও এজাহার উদ্দিন অনিক।
এই টাস্কফোর্সকে কার্যক্রম শুরুর তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়। অবশেষে আট মাস পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেল।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সমীক্ষা এবং অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে ভিন্ন ৪৬টি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদিত তালিকার বাইরে গিয়ে স্থাপন করা হয়েছে ৯টি কূপ (ডাগ ওয়েল)।
১১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট ও পরিবেশগত বিরূপ অভিঘাতের মুখে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার জন্য জাতিসংঘের কাছে যৌথভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ...
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু চিকিৎসা, খাল খনন এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দেশের প্রায় সব খাত ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল।
১৩ ঘণ্টা আগে