Ajker Patrika

গুছিয়ে উঠছে পরিবেশ ছুটির দিনে ভিড় হয়নি

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা
গুছিয়ে উঠছে পরিবেশ ছুটির দিনে ভিড় হয়নি
অমর একুশে বইমেলায় গতকাল ছিল শিশুপ্রহর। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এ আয়োজন দেখে উচ্ছ্বসিত শিশুরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বইমেলার দ্বিতীয় দিনই পড়েছে শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় দিনের প্রথমদিকে মেলায় ছিল ‘শিশুপ্রহর’। তাই গতকাল সকাল থেকে আসতে শুরু করে শিশুরা। তারা বই কেনার পাশাপাশি পুতুলনাচ দেখেছে, নানাভাবে আনন্দ করেছে।

দ্বিতীয় দিনে বেশ গুছিয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বাইরের রাস্তায় যানবাহন চলাচল না থাকায় স্বস্তিতে হাঁটতে পেরেছে দর্শনার্থীরা। তবে ছুটির দিনের মেলার চেনা ভিড় দেখা যায়নি তেমন।

শিশুপ্রহর শুরু হয় বেলা ১১টা থেকে। এতে থাকে শিশুদের জন্য কিছু বিশেষ আয়োজন। গতকাল শিশুপ্রহরের আকর্ষণীয় বিষয় ছিল কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পুতুলনাচ। বইমেলায় শিশুরা এতে আনন্দ পায়। মঞ্চের সামনে আগেই জায়গা নিয়ে বসে যায় বাচ্চারা। কড়া রোদ থাকলেও পুতুলনাচ দেখার আনন্দে রোদের তেজ কোথায় মিলিয়ে যায়!

বাবার সঙ্গে মুনতাকিম মাহিন এসেছিল বইমেলায়। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সে। মাহিন জানাল, পুতুলনাচ দেখে তবেই বই কিনবে।

মুনতাকিমের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই শুরু হয় পাপেট শো। বাচ্চারা সবাই হইহই করে ওঠে।

মঞ্চে আসে অপু ও দীপু নামের দুই পুতুল। তারা শিশুদের গল্প শোনায়।

কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘কুঁজো বুড়ির গল্প’, ‘বনভ্রমণ’, ‘বল্টু মামা প্রদর্শনীগুলো তারা বইমেলায় প্রদর্শন করবে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, ‘পুতুল নাটকের মাধ্যমে বাচ্চাদের সৃজনশীলতা বাড়বে। আমরা শিশুদের এক কল্পনার জগতে নিয়ে যাব, যেন তাদের মানসপটে নানা ধরনের চিত্র অঙ্কিত হতে পারে। আমরা চাই, বাচ্চারা যা-ই শিখুক, যেন আনন্দ নিয়ে শেখে।’

আজ শনিবারও রয়েছে শিশুপ্রহর। শিশুচত্বরে বেলা ১১টা থেকে এই পুতুলনাচের আয়োজন থাকছে। আজও থাকছে ‘অপু ও দীপুর গল্প’র প্রদর্শনী। বিকেলের দিকেও বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে অনেক শিশুকে মেলায় ঘুরতে দেখা যায়। কেউ মায়ের কাছে পছন্দের বই কেনার বায়না ধরছে, কেউ বই কিনে নিজের হাতে নিয়ে ঘুরছে। ব্যবসায়ী মো. রাসেল সপরিবার এসেছেন মেলায়। তাঁর সঙ্গে আছেন স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে। প্রত্যেকের হাতেই বইয়ের ব্যাগ। রাসেল বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর বইমেলায় আসি। সবাই নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী বই কেনে। বাচ্চারা কমিকস কিনেছে। ইসলামি কিছু বই কিনেছে। এবার মেলায় আর আসা হবে না। রোজার মধ্যে সময় মেলানো কঠিন হয়ে যায়।’

মো. রাসেলের স্কুলপড়ুয়া ছেলে রায়ান ভারিক্কিভাবে বলল, ‘বইমেলা পেছানো ঠিক হয়নি। ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বলেছিল। সেটা যে কেন পাল্টে ফেলল! ২১ ফেব্রুয়ারিতে মেলা থাকলে ভালো হতো।’

দ্বিতীয় দিনে বেশ গুছিয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমির মাঝের রাস্তায় গতকাল কোনো যানবাহনের চলাফেরা ছিল না। যে স্টলগুলোর কাজ বাকি ছিল, সেগুলোও শেষের দিকে। স্টলে স্টলে নতুন বই আসা শুরু হয়েছে। তবে ছুটির দিন হিসেবে আশানুরূপ পাঠক-ক্রেতা গতকাল আসেননি।

অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক বলেন, ‘২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হয়েছে। অনেক পাঠক এখনো মেলার বিষয়ে জানেন না। মেলায় যাঁরা আসেন, তাঁদের মাধ্যমেও মেলার অনেক প্রচার হয়। তাই জমতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।’

মনিরুল হক জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ২৫-৩০টি নতুন বই আসছে।

আলোঘর প্রকাশনার প্রতিনিধি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আজ (গতকাল) শুক্রবার। লোকজনের অবস্থা দেখেছেন? অন্য সময় ছুটির দিনে হাঁটার জায়গা থাকে না। মেলা এখনো গুছিয়ে ওঠা হয়নি। তা ছাড়া রমজান বলেও পাঠক-ক্রেতা এ সময় ঘরের বাইরে আসছে কম।

অবসর প্রকাশনীর মালিক মাসুদ রানা বলেন, ‘মেলার দ্বিতীয় দিন চলছে। আরেকটু সময় লাগবে। নতুন বই আসা শুরু হয়েছে। অনেক পাঠকই নতুন বই কিনতে চান।’

গতকাল মেলায় বেশ কিছু নতুন বই এসেছে। অনন্যা প্রকাশনী এনেছে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আমাদের জীবন’ নামের বই। মুহাম্মদ ইব্রাহীম এই বইয়ে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে লাগিয়ে দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করা যায়, তা বাতলে দিয়েছেন। আবুল আহসান চৌধুরীর সংকলন, সম্পাদনা ও ভূমিকা নিয়ে পাঠক সমাবেশ বের করেছে ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মুখপত্র শিখা’ শিরোনামে ‘শিখা’ পত্রিকার সংকলন। সেখানে বিখ্যাত শিখা পত্রিকার প্রতিলিপি সংকলিত হয়েছে। বাঙালির মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সামাজিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ। ‘শিখা’ ছিল তাদের মুখপত্র।

কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাসের উপন্যাস ‘কচদেবযানী’ এসেছে মেলায়। পুরাণের কাহিনিকে প্রতিপাদ্য করে নারীর প্রতারিত হওয়ার উপাখ্যান রচনা করেছেন হরিশংকর।

আজ মেলার তৃতীয় দিন। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় আজও থাকছে শিশুপ্রহর। বেলা ১১টায় শুরু হয়ে তা চলবে বেলা ১টা এবং মূল মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত