Ajker Patrika

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলযোগ্য: দুদকের সচিব

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০২
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলযোগ্য: দুদকের সচিব
মো. সাইদুর রহমান খান। ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আমলযোগ্য হওয়ায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ বুধবার দুদকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি দুদকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কারণ ও এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদকের সচিব বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আইন অনুযায়ীই সংস্থাটি অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।

‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে দুদকের অবস্থান

ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে। এর আগে তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় দুদকের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আজকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে বারবার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। জবাবে দুদকের সচিব বলেন, মুখপাত্রের আগের বক্তব্যকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো স্লিপ অব টাং হিসেবে বের হয়ে গেছে। আমরা এটাকে অফিশিয়ালি গ্রহণ করছি না। আইন যেভাবে বলেছে, সেভাবেই আমরা প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করছি।’

এরপর সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে দুদক আদৌ কোনো প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কি না। জবাবে সাইদুর রহমান খান বলেন, এখনো এটা বলার সময় হয়নি। আরও অনুসন্ধান হবে। এ পর্যায়ে এটা বলার কোনো সুযোগ নেই।

যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান

অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে দুদকের সচিব বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই কমিটি পর্যালোচনা করে। এরপর ওই কমিটির মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আসার পর সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর অবশ্যই কোনো মন্তব্য, সুপারিশ বা মতামত থাকে; সেই মতামতের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।’

আসিফ মাহমুদের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান দুদকের সচিব। তাঁর ভাষ্য, ‘এই অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন এসেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথি ও ফাইল চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’

সাংবাদিকেরা জানতে চান, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল কি না। জবাবে সচিব বলেন, প্রতিবেদনটি এ মুহূর্তে তাঁর কাছে নেই। ফলে এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না।

কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নিয়ে দুদকের অবস্থান

অনুসন্ধান চলাকালে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, কমিশনের তিন সদস্য সব বিষয় পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন।

সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের তিনজন কমিশনার রয়েছেন। কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে।’

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের বিষয়ে দুদকের সচিব বলেন, কেউ সংক্ষুব্ধ মনে করলে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন। দুদকও আইন অনুযায়ীই বিষয়টি মোকাবিলা করবে।

ব্রিফিংয়ের শেষে সচিব বলেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত