Ajker Patrika

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার

  • চলতি সপ্তাহের মধ্যে দলগুলো ঐকমত্যে না এলে সরকার নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেবে
  • আদেশ জারির প্রস্তুতি নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ
  • জামায়াতে ইসলামীর আলোচনার আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছে না বিএনপি
তানিম আহমেদ, ঢাকা 
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ১১: ৪৪
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র মতভিন্নতায় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দলগুলোর এমন বিভেদ চলতে থাকলে আগামী দিনে জাতীয় নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়বে সরকারের জন্য। এমনটি যাতে না হয়, সে জন্য দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন প্রধান উপদেষ্টা। চলতি সপ্তাহের মধ্যে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না এলে সরকারকেই নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তখন আদেশ জারির ক্ষেত্রে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত ২৭ অক্টোবর দুটি সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরপরই গণভোট এবং নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) ইস্যুতে বিপরীত অবস্থানে চলে যায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এমন অবস্থায় ৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক হয়। যেখানে দলগুলোকে আলোচনা করে সাত দিনের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে অনুরোধ জানানো হয়। এরই মধ্যে পাঁচ দিন কেটে গেছে, কিন্তু দলগুলোর মধ্যে আলোচনায় বসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আলোচনার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি তাতে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ মতের জন্য অপেক্ষার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির প্রস্তুতিও চলছে সরকারের ভেতরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে এবং আদেশ জারির বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের দ্বিতীয় প্রস্তাবের আলোকে সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৭০ দিনের স্থলে যত দিন লাগে, তত দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা বলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রস্তাব ছাড়া বাকি প্রস্তাবগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিল পাস করবে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দলগুলোকে আলোচনার জন্য সাত দিনের কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সে সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুতিমূলক অনেক বৈঠক হচ্ছে। তারা (উপদেষ্টা পরিষদ) আশা করে, দলগুলো নিজেরা নিজেরা এই পুরো বিষয়গুলো নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসবে। পুরো জাতি এখন নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে আছে।

সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষিত সাত দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত না দিলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সব দল নিয়ে বৈঠক করার চিন্তাভাবনা করছেন প্রধান উপদেষ্টা। কারণ, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বন্ধ পরিকর। সে অনুযায়ী ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সমাধান ধীরগতি হলে তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের বিষয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনায় বসতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গত বৃহস্পতিবার রাতে ফোন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। গতকাল শুক্রবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া (বিএনপির) পাইনি।’ আলোচনায় না বসলে জুলাই সনদ নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের সমাধান কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, ‘আমরা তাদের সাড়ার অপেক্ষায় আছি, দেখা যাক। এ নিয়ে কাল্পনিকভাবে আগাম কিছুই বলতে চাই না।’

আলোচনায় বসার বিষয়ে সরকারের অনুরোধ ও জামায়াতের আমন্ত্রণের বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সেখানে বিএনপি জুলাই সনদ ইস্যুতে আর আলোচনায় বসবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জামায়াত ও এনসিপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, বিএনপি আলোচনায় বসতে চায় না। এনসিপির এক নেতা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তারা তো দেখি এখন গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। এটা তো অসুবিধার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হলেও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ছয় দল এবং এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এনসিপি। সেখানে বাস্তবায়ন ইস্যুতে দলগুলো এক থাকবে বলে জানা গেছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে। তারপরও সরকারের অনুরোধে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা মনে করি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সিদ্ধান্ত সরকারের কাছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ইতালির লিওনার্দো এসপিএ থেকে জঙ্গি বিমান কিনছে বাংলাদেশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইউরোফাইটার টাইফুন: ছবি: এএফপি
ইউরোফাইটার টাইফুন: ছবি: এএফপি

ইতালি থেকে জঙ্গি বিমান ইউরোফাইটার টাইফুন কিনছে বাংলাদেশ। এজন্য দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা আগ্রহপত্র সই হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এই সম্মতিপত্র সই হয় বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।

ইউরোফাইটার টাইফুন (মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট-এমআরসিএ) কিনতে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এরই অংশ হিসেবে আজ লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে আগ্রহপত্র সই করল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এলওআই সই অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল আহসানসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এলওআই সই অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন। ছবি: আইএসপিআর
বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এলওআই সই অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন। ছবি: আইএসপিআর

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সম্মুখসারিতে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অত্যাধুনিক এমআরসিএর অংশ হিসেবে এই এলওআইয়ের লেটার অব ইনটেন্টের আওতায় লিওনার্দো ইউরোফাইটার টাইফুন জঙ্গি বিমান সরবরাহ করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

পূর্বাঞ্চলে ট্রেনের ভাড়া বাড়ল সর্বোচ্চ ২১৪ টাকা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০: ৫৬
কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। ছবি: সংগৃহিত
কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের পথে ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার। পূর্বাঞ্চলের ১১টি রেলসেতুতে অভিন্ন পন্টেজ চার্জ আরোপ করার কারণে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়ার বোঝা বহন করতে হবে। বর্ধিত ভাড়া ২০ ডিসেম্বর কার্যকর হবে। আজ মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন বিভিন্ন ব্রিজে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পন্টেজ চার্জ আরোপ করায় বিভিন্ন রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণত রেললাইনের ওপরে ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের কোনো সেতু বা স্থাপনা থাকলে সেটির জন্য ‘পন্টেজ চার্জ’ আদায় করা হয়। এটি যাত্রীদের ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে এসি বার্থের ভাড়া সর্বোচ্চ বেড়েছে। এই রুটের ভাড়া ২ হাজার ৪৩০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬৪৪ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২১৪ টাকা ভাড়া বেড়েছে। আর সর্বনিম্ন ভাড়া বেড়েছে ঢাকা–সিলেট রুটের শোভন চেয়ারের। এই রুটের শোভন সিটের ভাড়া ছিল ৩৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪১০ টাকা। অর্থাৎ ৩৫ টাকা বেড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ভাড়ার বিষয়ে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা (বিরতিযুক্ত আন্তনগর ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৩৪৬ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৩৮১ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৪০৫ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৪৫০ টাকা। প্রথম শ্রেণির সিটের ভাড়া ৬২১ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮৫ টাকা, এসি চেয়ার ৭৭৭ থেকে বেড়ে ৮৫৭, এসি সিট ৯৩২ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০ এবং এসি বার্থ ১ হাজার ৪৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৯১ টাকা করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা (নন-স্টপ ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৩৪৬ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৩৮১ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৪৫০ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৪৯৫ টাকা। এসি চেয়ার ৮৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪৩ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৩৩ টাকা হয়েছে।

কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: সংগৃহিত
কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: সংগৃহিত

কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার (নন-স্টপ ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৫৩৫ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৫৮৩ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৬৯৫ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৭৫৪ টাকা। এসি চেয়ার ১ হাজার ৩২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৪৩ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ৫৯০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭২৮ এবং এসি বার্থ ২ হাজার ৪৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৪৪ টাকা করা হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট-ঢাকা (বিরতিযুক্ত আন্তনগর ট্রেন) রুটে আগে দূরত্ব ছিল ৩১৯ কিলোমিটার, নতুন দূরত্ব ৩৫০ কিলোমিটার। এই রুটের ট্রেনে শোভন চেয়ারে আগে ভাড়া ছিল ৩৭৫ টাকা, বেড়ে হয়েছে ৪১০ টাকা। প্রথম শ্রেণির সিটের ভাড়া ৫৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৩৩ টাকা, এসি চেয়ার ৭১৯ থেকে বেড়ে ৭৮৮, এসি সিট ৮৬৩ থেকে বেড়ে ৯৪৩ এবং এসি বার্থ ১ হাজার ৩৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৬৫ টাকা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে পন্টেজ চার্জ আরোপের ফলে বর্ধিত ভাড়া এর আগেই কার্যকর করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলে পন্টেজ চার্জ আরোপের মাধ্যমে ভাড়া সমন্বয় করা হলে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যমান ভাড়ায় সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

হজযাত্রীদের প্লেনের টিকিটে ৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

আগামী বছরের হজযাত্রীদের আর বিমান টিকিট কেনার সময় অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক গুনতে হবে না। হজের উদ্দেশে সৌদি আরবে গমনকারী যাত্রীদের টিকিটে আরোপিত আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে সংস্থাটি জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বর্তমানে সৌদি আরবগামী প্রতিটি বিমান টিকিটে পাঁচ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। হজযাত্রীদের সহায়তার অংশ হিসেবে এ খরচ তুলে নেওয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের টিকিটে এই করছাড় প্রথম নয়, এর আগে একাধিকবার দিয়েছে এনবিআর। করোনাভাইরাস মহামারি ও পরবর্তী সময়ে বিমান ভাড়ার ঊর্ধ্বগতির সময়ও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

এনবিআর জানায়, সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির সময়ই ট্রাভেল ট্যাক্স ও আবগারি শুল্ক সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে ধর্মীয় যাত্রীদের জন্য এই শুল্ক ছাড় দেওয়া সরকারের পূর্ববর্তী নীতিরই ধারাবাহিকতা।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, হজযাত্রীদের যাত্রা যেন ব্যয়বহুল না হয়, সে বিবেচনায় শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি রাজস্ব প্রবাহে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু লাখো মানুষের ধর্মীয় পালন সহজ হবে।

তিনি বলেন, বিমান সংস্থাগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হবে যেন শুল্ক প্রত্যাহারের সুবিধাটি পরিষ্কারভাবে টিকিটের ইনভয়েসে প্রতিফলিত হয়। অনেক সময় এজেন্সিগুলো যাত্রীদের ঠিকভাবে তথ্য দেয় না।

তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করতে পারবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, বিমান ভাড়া এখনো তুলনামূলক বেশি। তার ওপর আবগারি শুল্ক যুক্ত থাকলে হজযাত্রার খরচ আরও বাড়ত। সরকার ছাড় দেওয়ায় হজযাত্রীদের ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে, যা অনেক পরিবারকে হজ পালনের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের করনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থির করা দরকার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুরের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। ছবি সংগৃহীত
সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। ছবি সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের আয়কর নথির জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান আজ মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম।

সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ চেয়ে করা আবেদনে দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সরকার বলেন, এনামুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী হিসেবে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৫ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ আছে।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৮ টাকা সন্দেহজনক জমা এবং ৬ কোটি ২৬ লাখ ৮ হাজার ৪৮৭ টাকা সন্দেহজনক উত্তোলনসহ মোট ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫০৫ টাকা মানি লন্ডারিংয়ে সম্পৃক্ত অপরাধে মামলা হয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে এনামুর রহমানের ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি জব্দ করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন; যা ঢাকার কর অঞ্চল-১০-এ রক্ষিত আছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত