
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র সড়কে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। অন্তর্বর্তী সরকার সড়কে এই যান নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলেও মালিক-চালকদের আন্দোলনে তা সফল হয়নি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন পরিবহন খাতের বিশ্লেষকেরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো হবে নতুন সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অগোছালো কাঠামো সংস্কার করা এবং শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও হবে নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতে প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়ন হলেও সেবার মান, শৃঙ্খলা ও টেকসই অর্থায়নের জায়গাগুলো দুর্বল রয়ে গেছে। ফলে নতুন উন্নয়নের চেয়ে নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে সড়ক, রেল ও নৌ খাতের কাঠামোগত সংস্কার।
অবকাঠামো ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, সড়ক, রেল ও নৌ—এই তিন খাত আলাদা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় নীতিগত সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এতে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়, দায়বদ্ধতা স্পষ্ট থাকে না। তাঁর মতে, উন্নয়নকে রাজনৈতিক প্রদর্শনীর বদলে জনসেবামুখী করতে না পারলে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে।
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব প্রধান সড়কে এমনকি জাতীয় মহাসড়কেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা চলাচল ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নতুন সরকার এসব যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন।
বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও রাজধানীর যানজট কমেনি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলার অভাব, মেয়াদোত্তীর্ণ বাস, রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নে ব্যর্থতা রয়েছে।
পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের চাপের কারণে আগের সরকারগুলো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোও কঠিন কাজ। আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ হয়নি বিগত সরকারের আমলে।
পরিবহন খাত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক মনে করেন, সড়ক খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনের বাস্তবায়ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক কৌশল দরকার। এরই মধ্যে বিনিয়োগ করা সব প্রকল্প বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি বদলানো জরুরি। এটি করতে হবে নতুন সরকারকে।
মেট্রোরেলসহ বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, ব্যয় বৃদ্ধি ও শর্তাবলি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বিষয় চিহ্নিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া, পুনর্মূল্যায়ন করা কিংবা কাঠামোগত পরিবর্তন আনার ভার পড়বে নতুন সরকারের ওপর।
অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, সফট লোনের নামে প্রকল্প ব্যয় দুই গুণ, তিন গুণ হলে তা প্রকৃত অর্থে সাশ্রয়ী নয়। দীর্ঘ মেয়াদে ভর্তুকি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। উন্নয়ন হতে হবে প্রতিযোগিতামূলক, সাশ্রয়ী ও টেকসই। প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া উচ্চমূল্যে প্রকল্প অনুমোদন, জি-টু-জি চুক্তির আড়ালে ব্যয় বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা—এসব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সূত্র বলেছে, রেলওয়ের আধুনিকায়নে বিনিয়োগ বাড়লেও পরিচালন দক্ষতা, লোকসান কমানো, সময়নিষ্ঠতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। রেলে পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি বাড়ানো, পুরোনো কোচ ও ইঞ্জিন দ্রুত প্রতিস্থাপন এবং রেলের জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন রেলের সাবেক কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিলেই রেলে যাত্রীসেবার মান উন্নত করা সম্ভব।
নৌপথে নাব্যতাসংকট, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও কার্গো চলাচল, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং নৌপথে শৃঙ্খলার অভাব বড় সমস্যা। নৌপথকে কার্যকর ও নিরাপদ করতে প্রশাসনিক কঠোরতা এবং ধারাবাহিক তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্রকল্প ঘোষণার চেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে নতুন সরকারের মূল পরীক্ষা। পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা স্বার্থগোষ্ঠী এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে না পারলে সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
শামসুল হক আরও বলেন, জনগণ উন্নয়নের বাহ্যিক চমক নয়, কার্যকর ও সেবাধর্মী পরিবহনব্যবস্থা চায়। নতুন সরকারকে উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। সফল হলে পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে। ব্যর্থ হলে অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর তার প্রভাব পড়বে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে পা রাখবেন জাতীয় সংসদে।
১ ঘণ্টা আগে
সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই গণভোটের বিষয়বস্তু ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর স্বীকৃত সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব। ১২ ফেব্রুয়ারি যাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে (৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ) রায় দিয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ৯টি আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা। রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লা, লালমনিরহাট, নারায়ণগঞ্জ ও গাইবান্ধা থেকে এমন দাবি উঠেছে। রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত দুই প্রার্থী ভোট পুনরায় গণনার দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেলে হবে মন্ত্রিসভার শপথ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
৪ ঘণ্টা আগে