Ajker Patrika

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৫১
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের ১৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

গুমের জন্য মৃত্যুদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে সরকার। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আইন গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে।

আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা; চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নতুন আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিল

অন্যদিকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬ ও ওষুধের মূল্যনির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়ার বিধান থাকলেও তা না মানায় বাতিল করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়া এই তালিকা করার বৈধতা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গত ২৯ জুন জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। এই উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্যনির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং সেসব ঔষধের সরকারি মূল্যনির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতো বহাল থাকবে। অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঔষধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যেন জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত