
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক পদে নিয়োজিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ পদে থেকে নির্বাচন করার সুযোগ রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনে এসব বিধানসহ একগুচ্ছ সংশোধনী আনতে সরকারকে প্রস্তাব পাঠানোর কথা ভাবছে ইসি। আগামীকাল মঙ্গলবার কমিশন সভায় চূড়ান্ত মতামত এলে এই সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাবে ইসি। এর মধ্যে সংসদ নির্বাচনের
মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের ক্ষমতা ইসির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও থাকবে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন এবং আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সাজা বাড়ানোর সুপারিশও থাকতে পারে। তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে আইন সংশোধন করতে হবে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার আমাদের কমিশন সভায় সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করা হবে। আশা করি, তার পরের দু-চার দিনের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তা পাঠাতে পারব।’
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকেরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে কিছু বলা নেই। এ কারণে অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অংশ নিতেও দেখা গেছে।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে হলে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে—এমন বিধান যুক্ত করতে চাইছে কমিশন। আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরে দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বারণ ছিল না। এখন তাঁরা মনে করছেন, দ্বৈত নাগরিক হলে প্রার্থী হতে না পারার বিধান ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে থাকা উচিত।
সূত্র বলেছে, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করবে ইসি। এ জন্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা-সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ধারা ২৩(১), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ধারা ১৯(ঙ), স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ধারা ৯(ঙ), উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ৮(ঙ) এবং জেলা পরিষদ আইনের ধারা ৬(ঙ)-এ সংশোধনী প্রয়োজন হবে। এতে ‘প্রজাতন্ত্রের পরিষদের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে কোনো লাভজনক পদে বা কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন’ শব্দগুলো যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এই সংশোধনী হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭ লাখ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা বর্তমান আইনে নির্বাচন করতে পারতেন। এখন আমাদের প্রস্তাব হবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এটা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্যতার বিধানে দেওয়ারও সুপারিশ করা হবে।’
নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান যুক্ত করতে ইসিতে চিঠি দিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর দেওয়া ওই চিঠিতে অবশ্য আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে বিষয়টি ইসি ও আদালতের ওপরে ছেড়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল রোববার বলেন, ‘নির্বাচন কে করবে না করবে, এটা আদালতের বিষয়, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। কী আইন আছে দেখে, সে অনুযায়ী তাঁরা নির্ধারণ করবেন।’
জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হবে না। কাজেই কোন দলের প্রার্থী তা দেখার সুযোগ কম থাকবে। যোগ্যতা অনুযায়ী যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, ইসি পরিবর্তনের যেসব সুপারিশ করবে, সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে সুবিধা-অসুবিধাগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরবে। এ ক্ষেত্রে সেগুলো সরকারের কাছে যুক্তিসংগত মনে হলে তা গ্রহণ করবে, না হলে বাদ যাবে।

৩০ মে ১৯৮১। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। সারাটা দিন ধকল গেছে সবার ওপর দিয়ে। সেনানিবাসের ভেতর সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছে। শহরের কোথাও থেকে কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। কি হতে যাচ্ছে সে আলোচনাতে মশগুল সাধারণ মানুষ। সারাটা দিনই বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করে বেড়াতে...
১ ঘণ্টা আগে
পুলিশের ইউনিফর্ম পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় ‘অসদাচরণ’ প্রমাণিত...
২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে