দুর্গাপূজায় ১ হাজার ৮৪১ মণ্ডপে নিরাপত্তা দিচ্ছে এসআরবি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১ হাজার ৮৪১টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি-১০)। নিরাপত্তায় ১৫টি পিকআপ প্যাট্রল, ২৮টি মোটরসাইকেল টহল, সাদা পোশাকের সদস্য, প্রশিক্ষিত কমান্ডো, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও ড্রোন টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানায় এসআরবি-১০। এ সময় ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এসআরবি-১০ জানায়, দুর্গাপূজা ঘিরে ইতিমধ্যে বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা দল মোতায়েনের পাশাপাশি টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের দিন নৌ টহল পরিচালনা করা হবে। সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে গোয়েন্দা শাখা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে এসআরবি-১০। পূজামণ্ডপে আসা নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে জরুরি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সদস্যরা নিয়মিত মণ্ডপ পরিদর্শন করে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন।
যানজট ও জনসমাগম ঘিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ব্যাটালিয়নটি। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মোবাইল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এসআরবি-১০ বলছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের সদস্যরা পেশাদারত্ব ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছেন। সবার সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় দুর্গাপূজা উদ্যাপন সম্ভব বলে মনে করে সংস্থাটি।









