Ajker Patrika

আগামী মাসেই চালু হতে পারে মৈত্রী-বন্ধন-মিতালী এক্সপ্রেস, ঢাকা–দিল্লি আলোচনা শুরু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আগামী মাসেই চালু হতে পারে মৈত্রী-বন্ধন-মিতালী এক্সপ্রেস, ঢাকা–দিল্লি আলোচনা শুরু
ফাইল ছবি

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল ফের চালুর বিষয়ে চলতি সপ্তাহে আলোচনা শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আজ মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় দুই দেশের রেলওয়ের প্রতিনিধিদের দুই দিনব্যাপী আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠক শুরু হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, আজ মঙ্গলবার থেকে ‘শুরু হতে যাওয়া আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের সেবা পুনরায় চালুর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।’

রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে মৈত্রী বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বৈঠকে মূলত বন্ধ থাকা তিনটি ট্রেনের চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা ও কলকাতার মধ্যে যাত্রী পরিবহন করে। আর মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা ও পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচল করত।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ এ বৈঠকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী থেকে কলকাতার মধ্যে নতুন একটি যাত্রীবাহী রেলপথ চালুর প্রস্তাবও দিতে পারে। এ ছাড়া মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিতে পারে ঢাকা। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্মিত পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে কলকাতার মধ্যে ট্রেনটি চলাচল করতে পারে। বর্তমানে ট্রেনটির রুটে যমুনা সেতু ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই পক্ষ একমত হলে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আগামী মাসের মধ্যেই আবার চলাচল শুরু করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এসব ট্রেনের চলাচল পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী। সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বর্তমান আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করা কিংবা নতুন কোনো আন্তঃদেশীয় রেলপথ চালুর সিদ্ধান্ত নিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

ওই বছরের ১৯ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রথমে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল বাতিল করা হয়েছিল। পরে এই স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়। ভারতীয় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মিতালী এক্সপ্রেস সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এরপর ট্রেনটি আর ফিরতি যাত্রা করেনি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। একই সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর মধ্যে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার প্রত্যর্পণ দাবিও ছিল অন্যতম বিষয়।

দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী রেল চলাচল গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় শুরু হয়। এর আগে টানা নয় মাস পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল এখনো শুরু হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান ঘটে।

সরকার পরিবর্তন হলেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে এমন বেশ কিছু বিষয় এখনো রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততা পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ঢাকা ও নয়াদিল্লি আবারও পারস্পরিক যোগাযোগ ও সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত