দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নৌপরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নির্বিঘ্নে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৭ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়াতে ৩৫টি ড্রেজারসহ ১৬১টি জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নদ-নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সরকারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং বিভাগ ‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (১ম সংশোধিত) (বিশেষ সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নৌরুট ও ফেরি রুট সচল রাখা এবং ফেরি, লঞ্চ ও কার্গো ভেসেলসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ০৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরবর্তী বিশেষ সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৭ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় বিআইডব্লিউটি-এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ৩৫টি ড্রেজার ও ১২৬টি সহায়ক জলযান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৬১টি জলযান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির ড্রেজিং বহরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও সহায়ক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা হলো বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং সক্ষমতা ৩২৬ দশমিক ৬৭ লাখ ঘনমিটার বৃদ্ধি করা। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে নৌপথের গভীরতা বজায় রাখা, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌপথ সচল রাখতে নদীর নাব্যতা রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই সরকার বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, নতুন ড্রেজার ও সহায়ক জলযান যুক্ত হলে দেশের বিভিন্ন নদী ও নৌরুটে খনন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এর ফলে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্নে করার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই এগিয়েছে। ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের জন্য নির্ধারিত আটটির মধ্যে দুটি সংগ্রহ করা হয়েছে ও চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি দুটি দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে।
২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের চারটির মধ্যে চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের ছয়টির মধ্যে চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং দুটি দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া ১২ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার দুটি, ট্রেইলিং সাকশন হপার ড্রেজার একটি, পন্টুন মাউন্টেড গ্র্যাব ড্রেজার একটি ও ১০ ইঞ্চি অ্যাম্ফিবিয়ান টাইপ কাটার সাকশন ড্রেজার নয়টি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এসব ড্রেজারের কয়েকটির সংগ্রহ কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে হপার ড্রেজার ও গ্র্যাব ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
ড্রেজারের পাশাপাশি এসব যন্ত্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ক্রেনবোট, টাগবোট ও অন্যান্য সহায়ক জলযান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩টি ক্রেনবোট ও ১৭টি টাগবোট সংগ্রহ করা হবে। ক্রেনবোটের মধ্যে ২৮ ইঞ্চি, ২৪ ইঞ্চি, ২০ ইঞ্চি, ১৮ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের জলযান রয়েছে।
অন্যদিকে ২৫ টন, ৭ টন ও ১২ টন বোলার্ড পুলের টাগবোট সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০টি স্পিডবোট, একটি কু-হাউজবোট, ১৫টি পাইল ক্যারিং ডাম্ব বার্জ, একটি হাই স্পিড কেবিন ক্রুজার, একটি কেবিন ক্রুজার, একটি ওয়েল ক্লিনিং ভেসেল, চারটি রিভার ক্লিনিং ওয়ার্কবোট, নয়টি অ্যাম্ফিবিয়ান টাইপ কাটার সাকশন ড্রেজারের হাউজবোট, ১২টি ডং বুম অ্যাডাপ্টারের পন্টুন, ১১টি টার্মিনাল পন্টুন ও একটি সহায়ক পন্টুন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব জলযান ও সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার, সিলেট/সুনামগঞ্জ ও পাইকগাছা/জামালপুরে ড্রেজার বেইজ অফিস নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ড্রেজার বেইজের জন্য ডরমিটরি নির্মাণে ৭ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত কক্সবাজার ড্রেজার বেইজে অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণে ১৫ কোটি টাকা ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আরিচা ড্রেজার বেইজে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে স্লিপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই বেইজে প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের ডরমিটরি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।
প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডরমিটরির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া শিমুলিয়া ড্রেজার বেইজে সাময়িকভাবে ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চালু হয়েছে।
অবকাঠামো নির্মাণ ও ড্রেজার-জলযান সংগ্রহের কার্যক্রম তদারকির জন্য পরামর্শক সেবাও নেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার ও জলযান তৈরি ও মনিটরিংয়ের জন্য একটি পরামর্শক সেবা প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ কার্যক্রমের আওতায় চলমান কাজগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
একই ধরনের পরামর্শক সেবার জন্য আরও তিন কোটি টাকার একটি প্যাকেজ রয়েছে। এ ছাড়া ড্রেজার বেইজের অফিস, স্টোর, ডরমিটরি, অফিসার্স কোয়ার্টার ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, ড্রইং ও তদারকির জন্য ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার টাকার পরামর্শক সেবা প্যাকেজ রয়েছে। বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিং কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য আরও ৩০টি সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭টি এক্সকাভেটর, ১২টি ডাম্প ট্রাক ও একটি ট্রেনিং সিমুলেটর। এসব সরঞ্জাম ড্রেজিং-সংশ্লিষ্ট কাজের পাশাপাশি মাটি অপসারণ, পরিবহন ও দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৬১টি প্যাকেজের মধ্যে ৫১টি পণ্য, ছয়টি কার্য ও চারটি সেবা প্যাকেজ রয়েছে।
অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ক্রয় পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন, নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) প্রদান ও চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পণ্য, কার্য ও সেবা প্যাকেজের মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, কয়েকটি চলমান রয়েছে ও অবশিষ্ট প্যাকেজের বিভিন্ন ধাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি কু-হাউজবোট সংগ্রহে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এ প্যাকেজের দরপত্র মূল্যায়ন শেষে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া একটি ২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহে ১৪৯ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ প্যাকেজের দরপত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই ধরনের তিনটি ২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ২৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ও একটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ১২৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও একটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে একই পরিমাণ অর্থ ও দুটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ১২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশোধিত ক্রয় পরিকল্পনার এসব প্যাকেজে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৯১ কোটি ২ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ সম্পন্ন পণ্য কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য ৯৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। অন্যদিকে চলমান কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য ১ হাজার ২৫৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
প্রকল্পের শুরু থেকে ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা, যা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে ১২ কোটি টাকা ও মূলধন খাতে ২০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
গত অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে ৫৫৫ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থছাড় করা হয়। ওই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি ১৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নদীপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের বিভিন্ন নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় অনেক স্থানে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও নৌপথে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়।
আবার নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হলে সড়ক যোগাযোগেও এর প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক ড্রেজার ও সহায়ক জলযানের সংখ্যা বাড়ানো হলে নদী খনন কার্যক্রম আরও পরিকল্পিত ও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট, ফেরিঘাট, বন্দর ও নদীবন্দরগুলোর নাব্যতা রক্ষায় এসব ড্রেজার ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, নৌপথের গভীরতা বজায় রাখা ও মৌসুমি নাব্যতা সংকট মোকাবিলায় বাড়তি সক্ষমতা কাজে আসবে।
এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
জানতে চাইলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি বাসসকে বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন ও নাব্যতা সংরক্ষণ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের একটি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটি-এর আধুনিক ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য দেশের প্রায় ১০০টি নদী খননের মাধ্যমে নৌপথের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু ড্রেজার সংগ্রহই নয়, বরং নিয়মিত খনন, খননকৃত মাটি ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিআইডব্লিউটি-এর নিজস্ব ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের নৌপরিবহন খাত আরও শক্তিশালী হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে সংগৃহীত ড্রেজার ও জলযান যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান বাসসকে বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নৌযোগাযোগ সচল রাখা এবং পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্য সামনে রেখে বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আতাউর রহমান বলেন, আধুনিক ড্রেজার, সহায়ক জলযান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত হলে নদী খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। আমরা প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংগৃহীত ড্রেজার ও সরঞ্জামের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।










