Ajker Patrika

আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন: ভারতের সঙ্গে শিগগির চালু হচ্ছে না ট্রেন

  • বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা আবার চালু করেছে ভারত।
  • তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায়।
  • দুদেশের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হলে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা
আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন: ভারতের সঙ্গে শিগগির চালু হচ্ছে না ট্রেন
চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা প্রায় দুই বছর পর চালু হয়েছে। এতে প্রায় একই সময়ে বন্ধ হওয়া তিনটি আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল আবার শুরুর বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই তিনটি ট্রেন চালুর বিষয়টি মূলত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ফলে পর্যটন ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু হলেও ট্রেনগুলোর চলাচল শিগগির শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস নামের তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করত। ট্রেনগুলোর চলাচল ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা বন্ধ করে ভারত। তবে মেডিকেল ভিসা দিয়েছে। গত রোববার থেকে আবার বাংলাদেশিদের পর্যটন ভিসার আবেদন নিচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলো।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে গত প্রায় দুই বছরে তিন দফায় আন্তদেশীয় ট্রেন পুনরায় চালুর জন্য ভারতের রেলওয়েকে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে এসব চিঠির জবাব দেয়নি ভারতের রেল।

আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে গত সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চপর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিলে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে যেহেতু ভ্রমণ ভিসা চালু হয়েছে, ট্রেন চলাচলের বিষয়টা সুরাহা হয়ে যাবে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা ৩৮তম ইন্টারগভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শিগগির হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ভারতের রেলওয়ে বোর্ডের মধ্যে প্রতিবছর আইজিআরএম হয়। চলতি বছরের মার্চে ৩৮তম সভা বাংলাদেশে হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক আইজিআরএমে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল, ক্রস-বর্ডার কানেকটিভিটি, যৌথ প্রকল্পসহ ২৯টি অ্যাজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুধু পরিবহনসেবার বিষয় নয়, এটি দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব রেল যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে পড়েছে।

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এতে আন্তদেশীয় যোগাযোগের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা এগোতে পারে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মৈত্রী এক্সপ্রেস বন্ধের আগে ঢাকা থেকে যমুনা রেলসেতু হয়ে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতের কলকাতায় যাতায়াত করত। তবে ট্রেনটি ভবিষ্যতে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পাশাপাশি ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। ফলে ট্রেন চালুর আগে বেশ কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার প্রয়োজন হবে।

ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল করত।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পেছনে রাজনৈতিক কারণই প্রধান ভূমিকা রাখছে। তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং যাতায়াতের জন্য এসব ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ। তাই উভয় দেশের মানুষের স্বার্থে যাত্রীবাহী আন্তদেশীয় ট্রেনগুলো দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত