Ajker Patrika

সংঘাত-প্রতিশোধের রাজনীতি ভুলে সমঝোতার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
সংঘাত-প্রতিশোধের রাজনীতি ভুলে সমঝোতার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, তবে আমি এখন পলিটিক্যাল প্রশ্নের উত্তর দেব না।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে সমঝোতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার রাজনীতির আহ্বান জানান তিনি।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভাতারমার ইক্ষু খামার এলাকায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল জেলায় জাতীয় পর্যায়ের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের ফলে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে আজকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দময় মুহূর্তে আমি পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর অশেষ রহমতে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হতে যাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন পাওয়া গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গাও পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এ জন্য সুগার মিল কর্তৃপক্ষ, ব্যবস্থাপক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি করে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে। এলাকার মানুষকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টি উন্নত ও মানসম্মতভাবে গড়ে তুলতে উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্যদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁদের দক্ষ পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্রুত এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি প্রশ্ন করেন, করতে পারেন। তবে আমি এখন পলিটিক্যাল প্রশ্নের উত্তর দেব না।’

পরে দেশের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি গতকালই সেই আহ্বান জানিয়েছি। আমরা সংঘাত এবং প্রতিশোধের এই ধরনের রাজনীতি দেখতে চাই না। অনেক হয়েছে। এখন একটা সমঝোতার রাজনীতি, গণতন্ত্রের রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতি—গোটা দেশের মানুষের এটাই চাওয়া।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত