Ajker Patrika

২০২৯ সালে মাতারবাড়ী বন্দরে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
২০২৯ সালে মাতারবাড়ী বন্দরে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য
রাজধানীতে ‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নতুন এই বন্দর। ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুবিধা থাকায় পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ রোববার বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ অতিরিক্ত সক্ষমতার চাহিদা মোকাবিলায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুবিধা থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নীতি, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সাফল্য নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। শুধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসমর্থন বা আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। নিরাপদ জাহাজ, আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য খালাসে সময় কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিধিবিধান কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, দেশের নাবিকেরা বাংলাদেশের মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ। তাঁদের প্রশিক্ষণ, সনদায়ন, কল্যাণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহনের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মেসবাহ-উল-আজিম বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বন্দর, নৌবাণিজ্য, মৎস্যসম্পদ, অফশোর সম্পদ ও ব্লু ইকোনমির বিকাশ নিরাপদ ও স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথ অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় নৌপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বিত বহু মাধ্যমভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়েছে। আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে এ শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া তেল ও বাংকার দূষণজনিত ক্ষতিপূরণ এবং জাহাজের ধ্বংসাবশেষ অপসারণসংক্রান্ত তিনটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালনে জাতীয় আইন, বিধিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার গ্রিনভয়েজ ২০৫০ কর্মসূচির সহায়তায় জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কম কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানি ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, বন্দরের কার্যক্রমে বিদ্যুতায়ন এবং পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সরকারি কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, জাহাজমালিক, নাবিক ও সামুদ্রিক খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত