Ajker Patrika

সংসদ অধিবেশন শুরু কাল: অগ্রাধিকার পাবে নতুন ৬ বিল ও কমিটি গঠন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংসদ অধিবেশন শুরু কাল: অগ্রাধিকার পাবে নতুন ৬ বিল ও কমিটি গঠন
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জাতীয় সংসদের বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিলসহ ছয়টি নতুন আইন প্রণয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আজ বুধবার সংসদ ভবনে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী দল থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। তিনি জানান, অধিবেশনটি প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের হতে পারে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তৃতীয় অধিবেশনে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত বিল অন্যতম।

প্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে চিফ হুইপ বলেন, রাজপথে আন্দোলন বা অস্থিরতা তৈরি না করে বিরোধী দলের উচিত সংসদে এসে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের কথা বলবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে। ১৭ বছরের নির্যাতন ও আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করার সুযোগ কারও তৈরি করা উচিত নয়।’

সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী এতে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াতে ইসলামী থেকে ৫ জন এবং অন্য ছোট দলগুলো থেকে ১ জন করে প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। বিরোধী দল নাম জমা দিলে তাদের প্রতিনিধিদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, ‘জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দল যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।’

ভারতের সংবিধান বিগত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধিত হওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংস্কার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’

দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যা মাত্র ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা কোনো সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে হলেও অন্তত দুই বছর সময় লাগে।’

বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও চুক্তির কড়া সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, ‘দায়মুক্তির আইন প্রণয়ন করে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের অর্থের ওপর বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ বিশেষ করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।

দেশের স্বার্থে এ ধরনের ক্ষতিকর অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত