Ajker Patrika

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন: আপিল শুনানি শুরু হয়নি সাত বছরেও

  • এক যুগেও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া।
  • রায় কার্যকরের অপেক্ষায় স্বজনেরা।
  • দণ্ডিতদের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়।
এস এম নূর মোহাম্মদ, ঢাকা  সাবিত আল হাসান, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন: আপিল শুনানি শুরু হয়নি সাত বছরেও
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবিতে নিহতদের স্বজনেরা মানববন্ধন করেন। ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া জেলা আদালত ও হাইকোর্টে শেষ হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। তবে আপিলের পর ৭ বছর পার হলেও এখনো আপিল শুনানি শুরু হয়নি। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সাজা কার্যকর না হওয়ায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি শেষে রায় কার্যকর করার দাবি তাঁদের।

মামলাটির আপিল নিষ্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘দণ্ডিতদের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়েছে। গত বছর আসামিপক্ষকে সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। এই মামলায় আপিল সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। আপিল করেছেন দণ্ডিত ব্যক্তিরা। তাঁরা সারসংক্ষেপ জমা দিলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু যত দ্রুত সম্ভব পালন করব।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা চাই দোষী ব্যক্তিরা যেমন সাজা পাবে, তেমনি নিরপরাধ ব্যক্তিরা যেন কোনো অন্যায়ের শিকার না হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সুবিচার সুনিশ্চিত করা। রাষ্ট্র সে কাজটি সুচারুভাবে করবে বলে আমি মনে করি।’

সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলটি গত বছরের ২১ অক্টোবর আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। ওই দিন আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে চার সপ্তাহ সময় দেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে মামলার শুনানি সে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তখনকার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান স্বপন, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর, নজরুলের সহযোগী তাজুল ইসলাম, নজরুলের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম। নিখোঁজের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর শান্তিরচর এলাকা থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় তাঁদের মরদেহ।

ঘটনার পর নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা করেন। পরে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আসামিদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে যান। পরে ২০১৪ সালের ১৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয় নূর হোসেন। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

দুই মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত একসঙ্গে রায় দেন। রায়ে র‍্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তা এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তাঁর অপরাধজগতের ৯ সহযোগীসহ মোট ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া র‍্যাবের আরও ৯ সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা আপিল করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি নিষ্পত্তি হয় হাইকোর্টে। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অপর ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল থাকে।

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম।

হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘জনমতের চাপে বিচারিক প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত এগোলেও আপিল বিভাগে মামলাটি দীর্ঘদিন পড়ে আছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান সরকারের সময়ে এই বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক ও বন্ধু পুলিশ হেফাজতে

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনার আড়ালে ঢাকাকে কী বার্তা দিল দিল্লি

হোয়াইট হাউসের ডিনারে হামলা: মেধাবী প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক অ্যালেন কেন অস্ত্র তুলে নিলেন

গুরুকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস, শিষ্য রকি প্রকাশ্যে খুন: বগুড়ায় সন্ত্রাসী চক্রের দ্বন্দ্ব ভয়ংকর

ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে গুলি: আটক যুবক সম্পর্কে যা জানা গেল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত