
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া জেলা আদালত ও হাইকোর্টে শেষ হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। তবে আপিলের পর ৭ বছর পার হলেও এখনো আপিল শুনানি শুরু হয়নি। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সাজা কার্যকর না হওয়ায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি শেষে রায় কার্যকর করার দাবি তাঁদের।
মামলাটির আপিল নিষ্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘দণ্ডিতদের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়েছে। গত বছর আসামিপক্ষকে সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। এই মামলায় আপিল সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। আপিল করেছেন দণ্ডিত ব্যক্তিরা। তাঁরা সারসংক্ষেপ জমা দিলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু যত দ্রুত সম্ভব পালন করব।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা চাই দোষী ব্যক্তিরা যেমন সাজা পাবে, তেমনি নিরপরাধ ব্যক্তিরা যেন কোনো অন্যায়ের শিকার না হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সুবিচার সুনিশ্চিত করা। রাষ্ট্র সে কাজটি সুচারুভাবে করবে বলে আমি মনে করি।’
সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলটি গত বছরের ২১ অক্টোবর আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। ওই দিন আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে চার সপ্তাহ সময় দেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে মামলার শুনানি সে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তখনকার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান স্বপন, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর, নজরুলের সহযোগী তাজুল ইসলাম, নজরুলের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম। নিখোঁজের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর শান্তিরচর এলাকা থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় তাঁদের মরদেহ।
ঘটনার পর নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা করেন। পরে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আসামিদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে যান। পরে ২০১৪ সালের ১৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয় নূর হোসেন। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
দুই মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত একসঙ্গে রায় দেন। রায়ে র্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তা এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তাঁর অপরাধজগতের ৯ সহযোগীসহ মোট ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া র্যাবের আরও ৯ সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা আপিল করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি নিষ্পত্তি হয় হাইকোর্টে। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অপর ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল থাকে।
হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম।
হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘জনমতের চাপে বিচারিক প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত এগোলেও আপিল বিভাগে মামলাটি দীর্ঘদিন পড়ে আছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান সরকারের সময়ে এই বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।’

প্রথমে বাবা-মা বিশ্বাসই করতে চান না। এরপর শুরু হয় লুকোচুরি। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিতজন কী বলবে- এই চিন্তায় সন্তানের মাদকাসক্তির বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু তত দিনে মাদক আরও বেশি গ্রাস করে ফেলে সন্তানকে। চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে অনেক...
১৮ মিনিট আগে
সরকার নিজের দলের নেতা-কর্মীদেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তাঁর প্রশ্ন, যে সরকারের কাছে নিজ দলের লোকেরাই নিরাপদ নয়, সেই সরকারের কাছে দেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপত্তা আশা করবে?
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়ে ‘প্রক্সি’ দিলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সফল হননি। দেশে খুন, ধর্ষণ ও মাদকের বিস্তার...
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বাজেট আলোচনায় বাড়তি সময় চেয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া দেননি তিনি। সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’
২ ঘণ্টা আগে