Ajker Patrika

জুলাই চেতনাকে ধারণ করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব: আইনমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ১৩
জুলাই চেতনাকে ধারণ করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ফাইল ছবি

জুলাই চেতনাকে ধারণ করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদকে সামনে রেখে, জুলাই সনদকে বৃত্তায়ন করে, জুলাই সনদকে ধারণ করে, জুলাই চেতনাকে ধারণ করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব।’

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় দুপুর দেড়টার দিকে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে আলোচনা হয়েছিল, সেই আলোচনাকে ধারণ করেই জুলাই সনদ দেওয়া হয়েছে। সেটাকে সামনে রেখেই আমরা করছি। এই দুইটার মধ্যে কোনো পার্থক্য এবং বিভেদের জায়গা আমি দেখি না।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুরো সংবিধানই পর্যালোচনা করতে হবে। কারণ, হারমোনিয়াস ইন্টারপ্রিটেশনটা রাখতে হবে, একটার সঙ্গে আরেকটার গাঁথুনি রাখতে হবে। শুধুমাত্র ইমোশন দিয়ে, জুলাই সনদকে বাইপাস করে আমি আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ বা অন্য কিছু চাপিয়ে দেব সেটা আমরা করব না, করতে পারি না।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই সনদকে সামনে রেখে, জুলাইয়ের চেতনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য। জুলাই সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য। আমরা একটি সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আসব এই সংসদে। যে প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশের একটি বাস্তবায়ন হবে। আজকে একটি মাহেন্দ্রক্ষণের যাত্রা শুরু করলাম। এই যাত্রা সমাপ্ত করব জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে।’

জুলাই সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত ৪৭ ধারা কি হুবহু সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সনদকে সাংবিধানিক আইনের পরিভাষায় নিয়ে আসব।

সনদে থাকা বিএনপির আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই সনদেই ওটা ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যেকোনো জায়গায় যদি বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে এবং সেই দ্বিমতের আলোকে যদি তার নির্বাচনী ইশতেহার অন্তর্ভুক্ত করা থাকে, তাহলে সেইটা প্রিভেইল করবে। সেটাও কিন্তু জুলাই সনদেরই অংশ।’

বিরোধী দল কমিটিতে নাম না দিলে সংশোধন কতটুকু বাস্তবসম্মত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের সুপারিশ নেওয়ার জন্য যা যা করণীয় সব করব। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, বিরোধী দলের সুপারিশ কিন্তু জুলাই সনদের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত আছে। কারণ জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছে ৩৩টি রাজনৈতিক দল, তার মধ্যে বিরোধী দলের সমস্ত সুপারিশ ওখানে আছে।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত কিছু প্রস্তাবে বিরোধী দল একমত হলেও বিএনপির আপত্তি ছিল সেক্ষেত্রে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কোনটা মানা উচিত তা জুলাই সনদে দেওয়া আছে। জুলাই সনদে বিএনপি একটা বলেছে কাঠামোগত, আমরা সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। তাহলে আমরা কোনটা মানব? আমরা এর আগেও উত্তর দিয়েছি—ওইটার উত্তরও জুলাই সনদেই দেওয়া আছে।’

পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় বিরোধী দল ছিল না, তার প্রেক্ষিতে দেশে কী পরিস্থিতি হয়েছিল তা সবাই দেখেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদে অঙ্গীকারনামা আছে, কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীতে বিরোধী দল এরকম কোনো অঙ্গীকারনামায় সাইন করেনি। জুলাই সনদ কমপ্লিট কোড অব পলিটিক্যাল গাইডলাইন সংস্কারের প্রস্তাব। এ ক্ষেত্রে আমরা ওই আলোকে যাচ্ছি কি না, তারা বাইরে থেকে এটাকে পর্যবেক্ষণ করবে। তারা যদি মনে করে যে, আমরা জুলাই সনদের ব্যত্যয় ঘটিয়েছি, অবশ্যই তারা সেটার সমালোচনা করার অধিকার রাখে এবং যৌক্তিক যেকোনো সমালোচনায় আমরা একমোডেট করার চেষ্টা করব।’

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই কমিটির প্রথম যাত্রায় আমরা কিছু দিকনির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছি—কীভাবে আমরা আগামী সংবিধান সংশোধনের দিকে এগিয়ে যাব। তার মধ্যে একটি হলো, এই কমিটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করবে। কমিটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনকারী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলব। একই সঙ্গে সনদ তৈরিতে যারা কাজ করেছেন তাদের সঙ্গেও কমিটি আলোচনা করবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। কথা বলার পরে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংস্কার প্রস্তাবগুলো যেভাবে এসেছে এটা সংবিধান সংশোধনের দিকে আমরা নিয়ে যাব। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন আগামী এক বা দুই বছরের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য করতে চাই, তারা যেন এর সুফল ভোগ করে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দল আসবে, এটা আমি আশা করি। তাদের প্রায় সবাই নতুন সংসদ সদস্য, সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সময় লাগতে পারে, তাদের জন্য দরজা সব সময় খোলা আছে।’

চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানও বহুবার সংশোধন হয়েছে, সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হয় এটাই নিয়ম। আর সংশোধন ও সংস্কার দুটোর মাঝে মূলত কোনো পার্থক্য নেই। আমরা যা-ই পরিবর্তন করি সেটাই সংস্কার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত