Ajker Patrika

পূজার ছুটিতে ঝরনার কাছে

বিটন চৌধুরী
পূজার ছুটিতে ঝরনার কাছে

সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে শত ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে জলরাশি। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। চারদিকে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, বুনো ঝোপ, নামহীন রঙিন বুনো ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মুহূর্তে নিয়ে যাবে কল্পনার রাজ্যে। বলছি খাগড়াছড়ির কথা।

খাগড়াছড়ি শুধু পাহাড়ি শহরই নয়, এখানে আছে আশ্চর্য রিসাং ঝরনা। মারমা ভাষার শব্দ ‘রিসাং’ অর্থ উঁচু জায়গা থেকে জলরাশি গড়িয়ে পড়া। ত্রিপুরা ভাষায় রিসাং ঝরনার নাম তেরাং তৈকালাই। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে এই ঝরনার দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। আর খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়ক ধরে এক কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই পাওয়া যাবে রিসাং ঝরনার দেখা।

পাহাড়ি সড়ক ধরে রিসাং ঝরনার দিকে এগোতে গেলে চোখে পড়বে সবুজের সমারোহ। পাহাড়ের ঢালে দেখা পাওয়া যাবে জুমের খেতে সোনালি রঙের পাকা ধান। কোথাও কোথাও জুমের ধান ঘরে তোলার দৃশ্যও দেখা যাবে এ সময়। মাথার ওপর দূষণমুক্ত গাঢ় নীল আকাশ। সেই নীলের বুকে তুলার মতো ভেসে থাকা শুভ্র মেঘ। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রকৃতির এই রূপ পর্যটকদের বারবার থামিয়ে ছবি তুলতে বাধ্য করবে।

রিসাংয়ের খানিক দূরে আছে আরও একটি ঝরনা। তবে এর এখনো কোনো নাম নেই। ছড়া আর ঘন জঙ্গল পেরিয়ে যেতে হয় সেখানে। রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের ভালো লাগবে এ পথ।

পূজার দীর্ঘ ছুটিতে পাহাড়, ঝরনা, নীল আকাশ আর মেঘের মিতালিতে সাজানো রাজ্য খাগড়াছড়ি হতে পারে দারুণ গন্তব্য। হেমন্তের শুরুতে পূজার আমেজে নির্মল আকাশ ও স্নিগ্ধ পরিবেশে রিসাং ঝরনা দেখতে যাওয়া হয়ে উঠতে পারে উপভোগ্য। সঙ্গে আছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও খাদ্য উপভোগের দারুণ সুযোগ।

pahar-1

সতর্কতা

ঝরনার নিচে থাকা পাথরে শেওলা থাকে বলে এগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল; বিশেষ করে পানির স্রোত বেশি থাকলে পাথুরে ঢালে ওঠানামা কিংবা পানির ওপর দিয়ে গড়িয়ে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

খাগড়াছড়ি থেকে রিসাং

খাগড়াছড়ি শহর থেকে রিসাং ঝরনায় যাওয়ার জন্য পিকআপ, চাঁদের গাড়ি, সাফারি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্র ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া দু-একজন হলে বাস টার্মিনাল থেকে বাইকেও যাওয়া যায়। ঝরনা গেট পর্যন্ত যাওয়া-আসা পিকআপ ও জিপ ভাড়া দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। এরপর হেঁটে অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে ভেতরের পথে যেতে হয়। যাওয়া-আসা মোটরসাইকেল ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। তবে সব জায়গায় দরদাম করে যেতে হবে।

WhatsApp-Image-2026-10-08-at-1.44

কোথায় থাকবেন

খাগড়াছড়ি শহরে রাতে থাকার জন্য মোটেল, হোটেল, রিসোর্ট রয়েছে। ভাড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

কোথায় খাবেন

পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পাহাড়ের খাবারের স্বাদ নিতে অনেকেই ভোলেন না। আবার ভোজনরসিকেরা পাহাড়ে আসেন পাহাড়ি খাবারের স্বাদ চেখে দেখার জন্য। খাগড়াছড়ি শহরে মিলবে পাহাড়ি খাবারের রেস্তোরাঁ। শহরের পানখাইয়া পাড়ার সিস্টেম রেস্তোরাঁ ও হেরিটেজ ডাইং বেশ বিখ্যাত। মহাজনপাড়া এলাকায় ব্যাম্বু শুট রেস্তোরাঁ ও কল্যাণী রেস্তোরাঁতেও খেতে পারেন। এ ছাড়া শহরের শাপলা চত্বর এলাকাতেও বিভিন্ন রেস্তোরাঁ পেয়ে যাবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত