ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সাকল্যে ১০৫ কিলোমিটারের মতো পথ। বলছি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার গলর বিলের কথা। প্রায় ৭৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিলে রয়েছে প্রচুর লাল শাপলা। এই সংবাদ শোনার পর এক সন্ধ্যায় আমাদের বন্ধু রিয়াদ আশ্রাফের গাড়িতে রওনা দিলাম গলর বিল দেখব বলে।
রাত প্রায় ১২টায় ত্রিশাল বাজার। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে গেলাম আমাদের অন্য এক বন্ধুর বাড়ি, হরিরামপুর গ্রামে। চেলারঘাট সড়ক দিয়ে অল্প কিছুদূর যাওয়ার পরেই দেখি, ভুল রাস্তায় চলেছি আমরা। সেই মধ্যরাতে বেশ একটা উত্তেজনা ভাব ভর করল শরীরে। ফলে ফিরতে হলো ত্রিশাল বাজারের কাছাকাছি এক সিএনজি পাম্পে। গাড়ি রেখে এর আশপাশে থাকা চা-দোকানে আড্ডা জমাই। আহ্, লাল শাপলা! সূর্য ওঠার আগে যেতে না পারলে এর মূল সৌন্দর্য অদেখাই রয়ে যাবে।
সেই ভোররাতে বিলে যাব, তাই ঘুমাতে আর যাওয়াই হলো না। পায়চারি করে রাত পার করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে নিলাম। কিন্তু রাত পারই হতে চাচ্ছে না। কী আর করা। সেই মধ্যরাতে গরম পরোটা আর ডিম ভাজা খাওয়া ছাড়া উপায় কি! গাভির দুধের মালাই চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে ফজরের ওয়াক্ত। নামাজ আদায় করেই মোবাইল ফোনে কল দিলাম বীররামপুর ভাটিপাড়া গ্রামের তরুণ রমজানকে। কল পেয়ে তো সে বিস্মিত।
ত্রিশাল বাজার থেকে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যাই তার কাছে। হাই-হ্যালো পর্ব চুকিয়ে নয়নাভিরাম গ্রামের ভোরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে হাজির হই গলর বিলের খেয়াঘাটে। ডিঙিতে চড়ার আগেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল! চারদিক যেন লালের সমুদ্র! মাঝেমধ্যে হঠাৎ চোখে পড়ে ফুটে থাকা সাদা শাপলার ওপর। এক অপার্থিব সৌন্দর্য বিলজুড়ে ভর করে আছে এই ভোরবেলা। আলো ঠিকমতো ফোটেনি তখনো; কিন্তু শাপলা ফুল ঠিকই ফুটে রয়েছে। উঠে বসলাম খেয়ায়।

পানির ওপর ভেসে থাকা শাপলাগাছ দুদিকে সরিয়ে এগিয়ে চলেছে আমাদের নৌকা। যতই এগিয়ে যাই, ততই মুগ্ধতা ভর করে। এর আগেও লাল শাপলা বিলে গিয়েছি। কিন্তু গলর বিলের শাপলার সৌন্দর্য ভিন্নমাত্রার। লাল শাপলার ফাঁকফোকর গলে মৎস্যশিকারিদের টেঁটা, যুইতা গিয়ে বিঁধেছে মাছের গায়ে। প্রাণ যায়, প্রাণ বাঁচে। জগতের এই লীলাখেলা। এসব নিয়ে ভাবতে গেলে পড়ে যাব এক মহা গোলকধাঁধায়। এর চেয়ে ঢের ভালো লাল শাপলা ভেদ করে এগিয়ে যাওয়া।
যেতে যেতে একটা সময় লোভ আর সংবরণ করতে না পেরে ঝাঁপিয়ে পড়ি গলর বিলে। গলা পর্যন্ত পানি। এর চারপাশে ফুটন্ত লাল শাপলা। এর আদি নিবাস কারও জানা না থাকলেও, লাল শাপলা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয়ে পাওয়া যায়। দেশের বরিশাল, সিলেট, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ জেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাশয়ে ফুটতে দেখা যায় লাল শাপলা। বরিশালের সাতলা এবং সিলেটের ডিবির হাওর বর্তমানে ভ্রমণপিয়াসিদের কাছে রীতিমতো যেন ভাইরাল। খুব শিগগির গলর বিলও লাল শাপলাপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা হতে যাচ্ছে, এটা নিশ্চিত করে বলাই যায়।
গলর বিলে লাল শাপলার দেখা মেলে কার্তিক মাসের প্রায় মাঝামাঝি পর্যন্ত। নয়নাভিরাম গলর বিলে ভাসতে ভাসতে সূর্যের আলো ফুটতে থাকে। পুরো বিলে লাল আভার সঙ্গে ছড়িয়ে থাকে খুবই মৃদু এক সুগন্ধ। তাজা শাপলা নাকের কাছে ধরলেই শুধু সেই গন্ধ পাওয়া যায়। আমরা শাপলার সেই অতিমৃদু সুবাস নিয়ে ডিঙি ছেড়ে ডাঙ্গায় উঠি।
উঠতেই দেখি, বটতলায় গাছপাকা কবরি কলা। খাওয়ার পরে বোঝা যায়, রাজধানীর কলা আর বটতলার কলার স্বাদের পার্থক্য ঠিক কতটুকু। বীররামপুর ভাটিপাড়া গ্রামটাও সৌন্দর্যের দিক থেকে কম যায় না। স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় এখনো সেই গ্রামীণ বিষয়টি আছে। তারা বন্ধুবৎসলও বটে। গ্রামে ঢোকার সময় চোখ আটকাবে লাল শাপলায়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে লাল কাঁকড়ার বিশাল সমাবেশ। ঘাট পর্যন্ত খেতের আল ধরে যেতে যেতে একরাশ মুগ্ধতা ভর করবে। সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালের
গলর বিল ভ্রমণ হতে পারে আপনার কিংবা আপনার পুরো পরিবারের জন্য অনন্য ভালো লাগার স্মৃতি।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করা বিভিন্ন পরিবহনের বাসে চড়ে নেমে যেতে হবে ত্রিশাল বাজার। পরে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে গলর বিল।
ছবি: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

গরমকাল মানেই অতিরিক্ত ঘাম ও রোদের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি। এই সময় অনেকের ত্বক নিস্তেজ, ক্লান্ত ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। শুধু রোদে পুড়ে ত্বক তামাটে বর্ণের হয়ে যাওয়াই নয়, গ্রীষ্মকালে পরিবেশগত কারণে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
১ ঘণ্টা আগে
গরমের ছুটি মানেই যেন একটু স্বস্তির নিশ্বাস। একঘেয়েমি আর গরম আবহাওয়া থেকে বাঁচতে পাহাড় অথবা সবুজে ঘেরা নিরিবিলি কোনো জায়গা হতে পারে আপনার গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের সেরা গন্তব্য। এ জন্য গরমে আরামদায়ক ভ্রমণের জরুরি টিপস জেনে রাখা জরুরি। ছুটিতে শহর থেকে কেউ হয়তো পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা...
৩ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার আত্মবিশ্বাস থাকবে বুর্জ খলিফার চূড়ায়! সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনে হবে আপনিই এই পৃথিবীর রাজা। কিন্তু সাবধান! বাথরুমের ভেজা মেঝেতে পা পিছলে পড়ার প্রবল যোগ রয়েছে। আজ সঙ্গীকে কোনো বড় প্রতিশ্রুতি দিতে যাবেন না।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রতিদিনের ব্যস্ততায় দুজনে পর্যাপ্ত সময় একসঙ্গে কাটাতে পারেন না। ফলে দুজনের দৈনিক রুটিনও আলাদা। এতে সম্পর্কে চাপ পড়া স্বাভাবিক। মনোবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ব্যস্ত শিডিউলেও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা। নিয়মিত সেগুলো করে যাওয়া। বিষয়গুলো খুব কঠিন কিছু নয়...
৫ ঘণ্টা আগে