
মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে একটি ফুলের গন্ধ নিলে শরীর ও মনের ভেতরে ঘটে যেতে পারে গভীর পরিবর্তন। বিজ্ঞান বলছে, এই কাজ অনেকটা ধ্যানের মতোই কার্যকর।
ঘ্রাণ বা গন্ধ আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে গভীরভাবে আবেগের সঙ্গে যুক্ত। আমরা যখন কোনো ঘ্রাণ নিই, তখন সেই ঘ্রাণ সরাসরি মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমে পৌঁছে যায়—যেখানে আমাদের আবেগ ও স্মৃতির বসবাস। অন্য ইন্দ্রিয়গুলোর ক্ষেত্রে, যেমন দেখা বা শোনার মতো বিষয়গুলো আগে মস্তিষ্কের একটি ‘রিলে স্টেশন’ পেরিয়ে তবেই আসে। কিন্তু গন্ধ সেই ধাপটি এড়িয়ে সরাসরি আবেগের কেন্দ্রে আঘাত করে। এই কারণেই কোনো গন্ধ হঠাৎ আমাদের শৈশব, কোনো প্রিয় মানুষ বা একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে ফিরিয়ে নিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সচেতনভাবে ৩০ সেকেন্ড ধরে কোনো মনোরম গন্ধ নিলে হৃৎস্পন্দন ধীর হয়, স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয় এবং মেজাজ ভালো হয়ে ওঠে। আপনি যখন গভীরভাবে শ্বাস নেন, তখন শরীরের ‘রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট’ সিস্টেম সক্রিয় হয়—যা চাপ কমায় এবং মনকে স্থির করে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা একে কখনো কখনো ‘ডেটা-ড্রিভেন মেডিটেশন’ বলে থাকেন।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব গন্ধ সবার কাছে একই রকম লাগে না। গন্ধের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া গড়ে ওঠে স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং এমনকি জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। যেমন, কেউ ল্যাভেন্ডারের গন্ধে শান্তি পায়, আবার কারও কাছে সেটি অস্বস্তিকর লাগতে পারে। একই গন্ধ একেকজনের কাছে একেক অভিজ্ঞতা তৈরি করে, যা প্রমাণ করে—আমাদের অনুভূতির জগৎ একান্তই ব্যক্তিগত।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় তথাকথিত ‘স্মেল ওয়াক’-এর মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় মানুষ মূলত একটি নির্দিষ্ট পথে হাঁটতে হাঁটতে আশপাশের গন্ধগুলোকে সচেতনভাবে অনুভব করে। এতে দেখা যায়, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেও প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধ অনুভব করেন এবং তাঁদের বর্ণনাও হয় আলাদা। কেউ একটি গন্ধকে ‘বসন্তের উষ্ণতা’ বলেন, আবার কেউ সেটিকে ‘স্বপ্ন ভাঙার গন্ধ’ হিসেবে অনুভব করেন।
এই অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়—আমরা কেবল চোখ দিয়ে নয়, নাক দিয়েও পৃথিবীকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারি। কিন্তু আধুনিক জীবনে আমরা সেই অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছি। আমরা ফুল দেখি, কিন্তু তার গন্ধ নিই না; আমরা দ্রুত হেঁটে যাই, কিন্তু একটু থেমে অনুভব করি না।
তাই শুরুটা খুব সহজ হতে পারে। আপনার বাসার বারান্দায় একটি টবের গাছ, রাস্তার ধারে একটি ফুল কিংবা ভেজা মাটির গন্ধ—যেকোনো কিছুর সামনে থামুন। গভীরভাবে শ্বাস নিন, অন্তত ৩০ সেকেন্ড সময় দিন। লক্ষ করুন, আপনার শ্বাস কেমন বদলাচ্ছে, কীভাবে ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যাচ্ছে মন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি কোনো জটিল অনুশীলন নয়। এটি কেবল সচেতন হওয়া, নিজের অনুভূতিকে সময় দেওয়া। আর এই ছোট অভ্যাস আপনাকে আবারও বাস্তব পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, যেখানে ডিজিটাল স্ক্রিনের বাইরে জীবনের আসল গন্ধ লুকিয়ে আছে।
হয়তো একটি ফুলের সামনে থেমে থাকার মুহূর্তটিই হতে পারে আপনার দিনের সবচেয়ে গভীর ও সবচেয়ে মানবিক মুহূর্ত।
টাইম ম্যাগাজিন অবলম্বনে

বেলুচিস্তানের রান্নার দর্শন একেবারেই সরল—ভালো মানের উপকরণ থাকলে অতিরিক্ত মসলা বা জটিল কৌশলের প্রয়োজন নেই। এই দর্শনেরই চমৎকার উদাহরণ বেলুচি সাগ গোশত। খাসির মাংস, পালংশাক আর অল্প কয়েকটি গোটা মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই পদে পানি প্রায় ব্যবহারই করা হয় না; বরং মাংস ও শাক নিজেদের রসেই ধীরে ধীরে সেদ্ধ হয়ে
৩ ঘণ্টা আগে
বিরিয়ানি রান্নার ক্ষেত্রে আমরা দমপুখত শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু খাসির মাংসের দমপুখত! হ্যাঁ, সেই খাবারও আছে। বেলুচিস্তানের রন্ধন ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি দমপুখত মাটন। ‘দমপুখত’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। ‘দম’ অর্থ বাষ্প বা নিশ্বাস এবং ‘পুখত’ অর্থ রান্না করা।
৫ ঘণ্টা আগে
কর্টিসল ডিটক্স। ভাবছেন, এটা আবার কী? আর আদৌ কি কোনো হরমোন ডিটক্স করা যায়? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তো বলছেন, যায়। আপনার শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে কর্টিসল তৈরি করছে কি না তা কীভাবে নির্ণয় করবেন এবং এই স্ট্রেস হরমোনের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান কী করে করবেন, জেনে নিন...
২০ ঘণ্টা আগে
ধরুন, ঘড়িতে বাজে রাত ২টা। পুরো দুনিয়া গভীর ঘুমে মগ্ন আর আপনি বিছানায় শুয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছেন; কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করছেন। যাঁরা রাতে ঘুমাতে পারেন না, কিন্তু সকালে ঠিকই অফিস বা ক্লাসের জন্য সময়মতো উঠতে অ্যালার্ম দিতে হয়,
১ দিন আগে