
শত শত বছর ধরে প্রাচীন রোমের ব্যস্ত বাজার, মধ্যপ্রাচ্যের জনাকীর্ণ বাণিজ্যপথ, এশিয়ার রঙিন নাইট মার্কেট কিংবা লাতিন আমেরিকার প্রাণচঞ্চল রাস্তা—সবখানেই স্ট্রিট ফুড মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু এই কিছুদিন আগেও আধুনিক পর্যটকদের কাছে স্বাস্থ্যগত কারণে স্ট্রিট ফুড ছিল উপেক্ষিত। পর্যটন সংস্কৃতির ধারণা বদলের কল্যাণে এটি এখন কোনো শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং স্থানীয় উপাদানে তৈরি এসব খাবার শুধু স্থানীয়দের নয়, ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছেও একটি জনপদকে জানার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এর কারণ সম্ভবত প্রতিটি অঞ্চলের স্ট্রিট ফুডের পেছনে লুকিয়ে আছে একেকটি গল্প—কখনো অভিবাসীদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়া নতুন স্বাদ, কখনো শত বছরের পুরোনো পারিবারিক রেসিপি, আবার কখনো কোনো অঞ্চলের কৃষি, জলবায়ু ও খাদ্য সংস্কৃতির প্রতিফলন। তাই একটি শহরের পথের ধারের খাবার চেখে দেখা মানে শুধু নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া নয়; বরং সেই শহরের মানুষের জীবন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা। বিশ্বায়নের এই যুগেও স্ট্রিট ফুড তার নিজস্ব বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য ধরে রেখে পৃথিবীর খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম প্রাণবন্ত অধ্যায় হয়ে আছে।

বিশ্বের সর্বাধিক ভ্রমণ করা ১০০টি শহরের প্রায় ৬ হাজার ৮৯৭টি স্ট্রিট ফুড ভেন্ডর বা বিক্রেতার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বসেরা স্ট্রিট ফুডের শহরের তালিকা। তালিকাটি তৈরি করেছে লাগেজ স্টোরেজ নেটওয়ার্ক-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান র্যাডিক্যাল স্টোরেজ। খাবারের গুণমান, ফোর স্টার বা তার বেশি রেটিং, বৈচিত্র্য, নিরামিষ বা ভেগান অপশন, সাশ্রয়ী মূল্য এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে দোকানের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকায় এশিয়াকে পেছনে ফেলে শীর্ষ স্থান দখল করেছে ইউরোপ।
প্যারিস—ভালোবাসার শহর, শিল্পের রাজধানী এবং রসনাবিলাসীদের স্বপ্নভূমি। আইফেল টাওয়ার, সেন নদী কিংবা লুভরের মতো বিশ্বখ্যাত স্থাপনার পাশাপাশি এই শহরের আরেকটি বড় আকর্ষণ এর প্রাণবন্ত স্ট্রিট ফুড সংস্কৃতি। সরু গলি, ব্যস্ত চত্বর আর খোলা আকাশের নিচে ছোট ছোট খাবারের স্টলে মেলে ফরাসি ঐতিহ্য ও বহু সাংস্কৃতিক স্বাদের অনন্য মেলবন্ধন। গরম-গরম ক্রেপ, মচমচে ব্যাগেট স্যান্ডউইচ, সুগন্ধি পেস্ট্রি কিংবা নানা দেশের প্রভাব মেশানো মুখরোচক খাবার—সব মিলিয়ে প্যারিসের পথঘাট যেন এক চলমান খাদ্যোৎসব। এসব খাবারের প্রতিটি কামড় শহরটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনবোধের নতুন গল্প শোনায়।

ফলে খুব সহজে বিশ্বের সেরা স্ট্রিট ফুড সিটির খেতাব জিতেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। ১০ পয়েন্টের মধ্যে ৭ দশমিক ২ স্কোর করে সবাইকে চমকে দিয়েছে এই শহরটি। ফ্যাশন ও অভিজাত ক্যাফে কালচারের জন্য পরিচিত হলেও প্যারিসে প্রায় ৪০১টি পথ খাবারের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ বিক্রেতার রেটিং ফোর স্টারের ওপর। ক্রয়সাঁ, ম্যাকারঁ কিংবা ব্যাগলেটের মতো ক্ল্যাসিক ফরাসি খাবারের পাশাপাশি এখানে ৩৭টি ভিন্ন দেশের খাবারের বৈচিত্র্য মেলে।
তালিকার শীর্ষ ১০টির মধ্যে ৩টি শহরই গ্রিসের। ৬ দশমিক ৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এথেন্স। শহরটিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে আছে ৪ দশমিক ২১টি দোকান। ফলে খাবারের দাম বেশ সাশ্রয়ী। এ ছাড়া তৃতীয় স্থানে আছে থেসালোনিকি এবং ছয় নম্বরে আছে রোডস। সাশ্রয়ী বা বাজেট-ফ্রেন্ডলি স্ট্রিট ফুডের তালিকায় এথেন্সের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ খাবারই পকেটবান্ধব ও পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।
খাবারের বৈচিত্র্যের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন। মাল্টিকালচারাল এই শহরে প্রায় ৩৯টি ভিন্ন ক্যাটাগরির স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। ভারতীয় কারি থেকে শুরু করে ক্যারিবীয় বারবিকিউ—সবই মেলে লন্ডনে। অন্যদিকে নিরামিষাশী বা ভেগান পর্যটকদের জন্য স্বর্গরাজ্য স্কটল্যান্ডের এডিনবরা। সেখানে ৫২ দশমিক ১ শতাংশ দোকানেই মিলবে প্ল্যান্ট-বেসড বা নিরামিষ খাবার। এর পরেই রয়েছে ইতালির ফ্লোরেন্স।
যদি কেবল দোকানের মোট সংখ্যার হিসাব করা হয়, তবে তালিকায় এগিয়ে আছে জাপান। টোকিওতে সর্বোচ্চ ৪১৪টি স্ট্রিট ফুড স্টল রয়েছে। ওসাকা শহরে বিক্রেতার সংখ্যা ১৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১-এ পৌঁছেছে। ভিয়েতনামের হ্যানয় ও হো চি মিন সিটিতেও দোকানের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে সার্বিক মান, মানসম্মত স্বাদ ও অর্গানাইজড ক্যাটাগরিতে ইউরোপীয় শহরগুলো এগিয়ে থাকায় এশিয়ান শহরগুলোর র্যাংকিং কিছুটা পিছিয়েছে। তালিকায় ভিয়েতনামের হ্যানয় ৮ নম্বর স্থানে রয়েছে।
সূত্র: আফ্রিকা নিউজ, র্যাডিক্যাল স্টোরেজ

মিশেলিন স্টার। রন্ধনশিল্পে ‘মিশেলিন স্টার’ পাওয়া মানে অস্কার পাওয়া। কিন্তু এই রাজকীয় আভিজাত্যের পেছনের কাহিনি জানলে যে কেউ হেসে ফেলবেন। আবার একে ঘিরে আছে রহস্যময় কিছু বিষয়, যা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সবার কাছে রহস্যঘেরা। কিন্তু সব মিলিয়ে মিশেলিন স্টার পাওয়া রেস্তোরাঁ ও শেফদের জন্য সর্বোচ্চ...
৩ ঘণ্টা আগে
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন চারদিকে শুধু আশি ও নব্বইয়ের দশকের ছোঁয়া। রেট্রো ফিল্টার, ভিনটেজ আউটফিট কিংবা সেকালের পপ কালচারের ফটো ট্রেন্ডে মেতেছেন সব বয়সের মানুষ। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন...
১১ ঘণ্টা আগে
ঘরে ঢুকতেই যদি নাকে আসে বেলি ফুলের মিষ্টি সুবাস, কোথাও ধূপের পরিচিত গন্ধ, আবার কোথাও ভেসে আসে ল্যাভেন্ডার কিংবা ভ্যানিলার নরম ঘ্রাণ; তাহলে সেই ঘর শুধু দেখা নয়, অনুভব করা যায়। ঘরের সাজ যেমন মানুষের রুচির পরিচয় দেয়, তেমনি ঘরের গন্ধও তৈরি করে আলাদা এক আবহ।
১২ ঘণ্টা আগে
সোজা, সিল্কি ও মসৃণ চুলের আশায় অনেকে পারলারের শরণাপন্ন হন রিবন্ডিং করতে। তবে কেমিক্যাল ও তীব্র তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে করা এই কৃত্রিম সোজা ভাব ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং। রিবন্ডিং করার প্রাথমিক তিন দিন চুল না ভেজানোর নিষেধাজ্ঞা কাটার পর অনেকে ভাবেন, যত্ন নেওয়ার ঝামেলা শেষ।
১৩ ঘণ্টা আগে