
সকালবেলা এক কাপ গরম চা না হলে যেন দিনটাই শুরু হতে চায় না। যাঁরা চা পান করতে ভালোবাসেন, যেকোনো আবহাওয়াতে চা ছাড়া তাঁদের যেন চলেই না। এমন মানুষও আছেন, কড়া রোদে দাঁড়িয়ে তাঁরা গরম চা পান করেন! আড্ডা হোক বা কাজের ফাঁকে, ক্লান্তি দূর করা চা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি বা ওলং টি—সবই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এগুলো পরিমিত পানে শরীরের অনেক উপকারও হয়। কিন্তু সব ভালো জিনিসেরই একটা সীমা আছে। ভেবে দেখেছেন, অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস আপনার ক্ষতি করছে কি না? কারণ, অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস আপনার অজান্তেই শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।
চা নিঃসন্দেহে একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়। কিন্তু তা সঠিক নিয়মে এবং পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত। যদি আপনার অনিদ্রা, হজমের সমস্যা বা মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে ধীরে ধীরে চায়ের পরিমাণ কমিয়ে আনুন। মনে রাখবেন, পরিমিত পানীয় হিসেবে চা আপনার বন্ধু। কিন্তু এতে অতি আসক্তি হতে পারে শারীরিক সমস্যার কারণ।

চায়ে ট্যানিন নামে একধরনের উপাদান থাকে। এই ট্যানিন খাবার থেকে পাওয়া আয়রনের সঙ্গে মিশে একধরনের জটিল বন্ধন তৈরি করে। এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্র আয়রন শোষণ করতে পারে না। আপনি যদি নিরামিষাশী হন, তবে আপনার ঝুঁকি আরও বেশি। শরীর পর্যাপ্ত আয়রন না পেলে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে। তাই খাওয়ার ঠিক পরপরই চা পান না করে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট বিরতি দেওয়া উচিত।
চায়ের পাতায় প্রাকৃতিকভাবে ক্যাফেইন থাকে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে প্রবেশ করলে বুক ধড়ফড় করা, অস্থিরতা এবং অহেতুক দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। আপনি যদি খেয়াল করেন, চা পানের পর আপনার হাত-পা কাঁপছে বা নার্ভাস লাগছে, তবে বুঝবেন আপনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চা পান করছেন।
শরীরে ঘুমের সংকেত দেয় মেলাটোনিন নামক একটি হরমোন। চায়ের ক্যাফেইন এই হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। ফলে রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়া বা গভীর ঘুম না হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘুমানোর ১২ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
খালি পেটে কড়া চা পানের অভ্যাস অনেকের আছে। চায়ের ট্যানিন পাকস্থলীর টিস্যুতে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। এর ফলে বমি ভাব বা পেটব্যথা হতে পারে। চায়ের সঙ্গে সামান্য দুধ মেশালে বা বিস্কুটজাতীয় কিছু খেলে এই অস্বস্তি কিছুটা কমানো সম্ভব।
চায়ের ক্যাফেইন পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এটি অন্ত্রের পেশি শিথিল করে দেয়। ফলে অ্যাসিড সহজে ওপরের দিকে উঠে আসে এবং বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা তৈরি হয়।
গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত ক্যাফেইন বেশ বিপজ্জনক হতে পারে। এটি গর্ভপাত বা নবজাতকের ওজন কম হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করা একদমই উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ভেষজ চা বা হারবাল টি পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অনেকে চা পান কররে না পারলে মাথাব্যথা বা খিটখিটে মেজাজে ভোগেন। এটি মূলত ক্যাফেইন-নির্ভরতা বা আসক্তির লক্ষণ। তিন দিন টানা চা পান করলে আপনার শরীর এতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কড়া চা পানে অনেকের মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করার মতো সমস্যাও হতে পারে।
চায়ের পলিফেনল ও ক্যাটেকিন লিভারের জন্য ভালো এবং এটি লিভার এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়ায়। কিন্তু দিনে চার কাপের বেশি কড়া চা পান করলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাটেকিন লিভারের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে চাপের মুখে ফেলে দেয়।
সূত্র: হেলথ লাইন, ভিএন এক্সপ্রেস

ফুটবলের দেশ বললেই সবার আগে যে দুটি দেশের নাম আমাদের মনে আসে, তার একটি আর্জেন্টিনা, অন্যটি ব্রাজিল। মজার বিষয় হলো, ফুটবল জনপ্রিয় হলেও এই দুটি দেশের কোনোটিরই জাতীয় খেলা ফুটবল নয়। আর্জেন্টিনার সরকারি জাতীয় খেলার নাম পাতো (Pato)। ঘোড়ার পিঠে চড়ে এ খেলা খেলতে হয়। এটি এমনই এক রোমাঞ্চকর খেলা, যেখানে...
১ দিন আগে
কাগজের নোট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স—কোনোটিই কমবে না। এদিকে শপিং ব্যাগ ভর্তি করার নিখাদ আনন্দটুকু ঠিকই পাওয়া যাবে। বিষয়টি শুনতে অবাস্তব মনে হলেও তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের কাছে এটিই এখন মানসিক শান্তি খোঁজার আধুনিক ট্রেন্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ...
১ দিন আগে
টান টান উত্তেজনা, গ্যালারিজুড়ে হাজারো দর্শকের গর্জন আর মাঠের সবুজ ঘাসে বল দখলের লড়াই। সাত সকালে ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ জমিয়ে তুলতে সঙ্গে রাখুন ঐতিহ্যবাহী ম্যাক্সিকান কফি। মেক্সিকোর শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই কফির নাম ক্যাফে দে ওল্লা। সব উপাদান ঘরে থাকলে তো ভালোই হলো, না থাকলে আপনার ঘরে থাকা...
১ দিন আগে
ফুটবল দল হিসেবে অনেকেরই প্রিয় মেক্সিকো। খুব কম হলেও মেক্সিকান খাবারের চল আছে আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে। সালসা মেক্সিকোর একটি সসজাতীয় খাবার। এটির সঙ্গে মিশিয়ে বিভিন্ন খাবার খাওয়া হয়। দুটি জনপ্রিয় মেক্সিকান খাবার সালসা অ্যান্ড চিপস এবং ম্যাঙ্গো সালসা। মেক্সিকান রান্নায় সালসার ব্যবহার বেশ...
১ দিন আগে