
নারীদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায়, তাঁরা নিজের জন্য বাঁচেন না। সংসার, সন্তান, পরিবারের জন্যই সব করেন, সবটা দিয়ে দেন। অন্যকে ভালো রাখার মধ্য়েই আনন্দ খুঁজে নেন, সমাজও যেন অদৃশ্যভাবে তা-ই শেখায়। কিন্তু যে নিজেকে ভালোবাসে না, নিজের যত্ন নেয় না, সে কি আদৌ কাউকে খুব ভালোবাসতে পারে? সমস্যা তো এখানেই থেমে নেই। আমরা তো বর্তমানে বাঁচি না। হয় অতীত নিয়ে মনঃকষ্টে, নয়তো ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় বাঁচি। তার থেকেও বড় কথা হলো, জীবনে কী চাই, সেটাও আমরা জানি না। বর্তমানে তো আমরা সেই জিনিসগুলোই জীবনে চাই, যেগুলো দেখে আশপাশের মানুষ ঈর্ষান্বিত হবে। যেন অন্যকে ঈর্ষান্বিত করতে পারাটাই জীবনের সার্থকতা।
যে বাধা পথ আগলে
সচরাচর আমরা নানান বাধায় বৃত্তবন্দী হয়ে পড়ি নিজে কেমন জীবন চাচ্ছি সেটা পেতে। তখন মনে হয়, অন্যরা আমাকে টপকে পারিবারিক, সামাজিক, পেশাগত জীবনে দিব্যি এগিয়ে যাচ্ছেন।
আমরা মনে করি, আমাদের অতীত ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই ভাবনা আমাদের মনে অসহায়ত্ব তৈরি করে। আমরা হেরে যাওয়া, প্রত্যাখ্যাত হওয়াকে সাফল্যহীনতা মনে করে ভয় পাই। আমরা না বলতে এবং না শুনতে পারি না। তাই মনে মনে খুব স্থিতি অবস্থা চাইলেও সাফল্য অর্জনের জন্য যেসব হিসাব-নিকাশ করে ঝুঁকি নিতে হয়, সেই সাহস করি না।
তাহলে ইচ্ছেমতো বাঁচার উপায় কী? কীভাবে বাঁচলে নিজের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান অটুট থাকবে?
রবীন্দ্রনাথের একটা চমৎকার কথা আছে,
‘সম্মুখে টানিয়া ধরে পশ্চাতে আমি...’
মনস্তত্ত্ব বলে, মানুষের ভবিষ্যৎ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে তার অতীত আচরণ। অতীতের বিশ্বাস আমাদের ভবিষ্যতে নতুন কিছু পাওয়া ও সম্ভাবনা খোঁজার জায়গা থেকে মাঝেমধ্যে দূরে সরিয়ে রাখে। কিন্তু গবেষণা জানাচ্ছে, আমরা যদি চাই মাত্র ১৫ শতাংশ আচরণে অতীতের ছাপ রেখে নিজেকে বদলে ফেলতে পারি। গতকাল আমি যা করেছি করেছি; কিন্তু আগামীকালের আমাকে বদলানোর দায়িত্বটি শুধু আমার নিজেকেই নিতে হবে। অন্য কেউ পারবে না, যদি আমি সেই রিমোট কন্ট্রোলটি অতীতের ঘটনার হাতে তুলে দিই।
মুক্তির উপায়
আপনি যদি হেরে যাওয়ার ভয় বা প্রত্যাখ্যানের ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন, তাহলে আপনি মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেলেন। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে আপনি বদলে যাওয়ার পথে হাঁটতে পারবেন না। ভয় মনের মধ্যে গেড়ে বসে থাকলে, নিজেকে তিনটি কথা বলুন।
প্রথমত, যেটা পেতে পারি, সেটা হারাতেও পারি। আমি জানি কীভাবে পেতে হয়।
দ্বিতীয়ত, কিছু হারালে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি না; বরং এই হারানোর অভিজ্ঞতা আমাকে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ মোকাবিলায়।
তৃতীয়ত, জীবন একটা যাত্রা। এটি কোনো গন্তব্য নয়। জীবনের পথে চলতে চলতে কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ব, কখনো উঠে দাঁড়াব।

যা করতে পারেন
যদি মমতাময় কেউ না থাকে, নিজেই নিজেকে সে মমতা দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং অপেক্ষা করুন হতাশ না হয়ে।
আপনি জীবনে আনন্দ, সাফল্য পাওয়ার অযোগ্য—এই ভ্রান্ত ধারণা বাদ দিন।
এমন কারও কাছে আর আত্মসমর্পণ করবেন না, যে আপনাকে সম্মান ও যত্ন করে না।
জীবনের যেকোনো ধাপে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, নতুন করে শুরু করা যায়।
নারী দিবসের মুহূর্তটি হোক আপনার নিজের মুহূর্ত। নিজেকে যত্ন করার, নিজেকে সম্মান করার, নিজেকে ভালোবাসার মুহূর্ত।
লেখক: চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, ঢাকা

কয়েক বছর ধরে সৌন্দর্যবিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল কোরিয়ান গ্লাস স্কিন। কোরিয়ান ধারা মেনে তাই রূপসচেতনেরা এমনভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া ও মেকআপ করা শুরু করলেন, যাতে ত্বক কোরিয়ানদের মতোই স্বচ্ছ ও চকচকে হয়ে ওঠে। তবে বিউটি ট্রেন্ডে সম্প্রতি লেগেছে নতুন হাওয়া।
৭ ঘণ্টা আগে
ডিজনিল্যান্ড এমন একটি পার্ক, যা সরাসরি নিয়ে যায় শৈশবের রঙিন স্মৃতির ভিড়ে। ডিজনির গল্পগুলোতে ছিল রাজা রানি, কথা বলতে পারা পশু, পাখি, গাছ। একেবারে রঙিন আর আকাঙ্ক্ষিত একটি জীবন। যেখানে কষ্টের পরের সুখটা সবাই উপভোগ করতে পারত। গল্প পড়া শেষ হতো একটা লাইন দিয়ে—অবশেষে তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
১০ ঘণ্টা আগে
পাহাড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য দেখার সুবর্ণ সময় বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তকাল। সেই পাহাড় যদি হয় তিন পার্বত্য জেলায়, তাহলে তো কথাই নেই। এই সময়গুলোতে পাহাড় তার রূপের ডালি মেলে ধরে। চারপাশে সবুজ আর সবুজ। এবার আমাদের অভিযান ছিল রাঙামাটি জেলার গহিনে সৌন্দর্যের আধার রাইক্ষং ঝরনা। দলে ছিলাম ছয়জন।
১৩ ঘণ্টা আগে
ভোর চারটায় অ্যালার্ম। কানের তালা ফাটানো সেই শব্দে ঘুম ভাঙল আপনার। তাড়াহুড়ো করে তৈরি হয়ে দৌড়াতে হলো পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখতে। এরপর লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে বিখ্যাত সেই ল্যান্ডমার্কের সামনে একটা ছবি তোলা। সবই দেখতে ঠিক হুবহু ইন্টারনেটে দেখা বাকি হাজারটা ছবির মতোই।
১৪ ঘণ্টা আগে