
বর্তমান বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রার দর্শন আগের প্রজন্মগুলোর চেয়ে অনেকটাই আলাদা। শুধু ক্যারিয়ার বা আয়ের সুযোগ নয়, তরুণেরা এখন শহরের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য, হাঁটার সুবিধা, মানসিক আনন্দ, নতুন বন্ধু তৈরির সুযোগ, নাইট লাইফ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অবশ্যই সাধ্যের মধ্যে জীবনযাত্রার খরচকে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জীবনধারা বিষয়ক সাময়িকী ‘টাইম আউট’ বিশ্বজুড়ে ১৫০টি শহরের চার হাজার তরুণ-তরুণীর ওপর একটি বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা করেছে। এরপর চলতি বছরের জন্য জেন-জি প্রজন্মের বসবাসের উল্লেখযোগ্য ২০টি শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে সাময়িকীটি।

জরিপ অনুযায়ী, জেন-জি প্রজন্মের জন্য বিশ্বের এক নম্বর শহরের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে জাপানের রাজধানী টোকিও। দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ এবং অসাধারণ নাইট লাইফের কারণে এটি তরুণদের তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। টোকিওতে বসবাসকারী এই প্রজন্মের শতভাগ তরুণ জানিয়েছেন, শহরের দৈনন্দিন জীবন তাঁদের আনন্দ দেয়। শহরের গণপরিবহনব্যবস্থার সুবিন্যাস, নিরাপদ পদচারণ এবং ওয়েলকাম ইউথের মতো বিশেষ সরকারি নানা উদ্যোগের কারণে তরুণেরা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ফ্রিতে শিল্প-সংস্কৃতির প্রদর্শনীগুলোতে প্রবেশ করতে পারেন। অবশ্য নাইট লাইফের মান চমৎকার হলেও মাত্র ৩৩ শতাংশ তরুণ এটিকে সাশ্রয়ী বলে মনে করেন।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানটি দখল করেছে পর্তুগালের ঐতিহাসিক শহর পোর্তো। জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের মতে, এটি শুধু সুন্দর বা ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শহরই নয়, এটি সামাজিক মেলবন্ধন এবং কম খরচে থাকার জন্য অনন্য। এখানে শতভাগ তরুণই শহরের চমৎকার সামাজিক পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এ ছাড়া খুব সহজে কম খরচে পানভোজন এবং শিল্প-সংস্কৃতি উপভোগের সুযোগ থাকায় ৯৩ শতাংশ তরুণ এটিকে সাশ্রয়ী শহর হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন জয় করেছে সংস্কৃতিপ্রেমীদের মন। এখানকার ৯৭ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, শহরের থিয়েটার, লাইভ মিউজিক, কমেডি ও আর্ট ট্রুপের কারণে তাঁদের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা অনন্য। এ ছাড়া খাবার ও রেস্তোরাঁ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মেলবোর্ন তরুণদের থেকে শতভাগ ইতিবাচক রেটিং পেয়েছে।

লন্ডনকে পেছনে ফেলে তালিকার চার নম্বরে উঠে এসেছে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরা। এখানকার বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর, পদব্রজে চলাচলের সুবিধা এবং বিশ্ববিখ্যাত এডিনবরা ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালের মতো আয়োজন এটিকে তরুণদের প্রিয় করে তুলেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় এডিনবরায় তাঁরা অনেক বেশি সুখী ও নিরাপদ বোধ করেন।
তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের প্রাণবন্ত শহর সাংহাই। এই শহরে তরুণদের জন্য নতুন বন্ধু তৈরি করা এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা সবচেয়ে সহজ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ৭৬ শতাংশ তরুণ একে নতুন বন্ধু বানানোর আদর্শ জায়গা বলেছেন। তা ছাড়া মেট্রো স্টেশনের কাছে তরুণদের জন্য কম খরচে আড়াই লাখের বেশি আবাসন ব্যবস্থা এবং কফি বা সিনেমায় শতভাগ সাশ্রয়ী পরিবেশ সাংহাইকে তরুণদের প্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
এই জরিপ থেকে র্যাঙ্কিংয়ে উঠে আসা ২০টি শহরের ঠিক অর্ধেক অর্থাৎ ১০টি শহরই ইউরোপে অবস্থিত। ৬ থেকে ১০ নম্বরে যথাক্রমে রয়েছে নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), কোপেনহেগেন (ডেনমার্ক), বার্লিন (জার্মানি), ভ্যালেন্সিয়া (স্পেন) এবং ব্যাংকক (থাইল্যান্ড)। ভ্যালেন্সিয়ার ৯৩ শতাংশ তরুণ নিজেদের সুখী দাবি করেছেন আর ব্যাংককের সমৃদ্ধ স্ট্রিট ফুড ও নাইট লাইফ তরুণদের মন জয় করেছে। তালিকার বাকি জায়গাগুলোতে রয়েছে নাপোলি (ইতালি), কেপ টাউন (দক্ষিণ আফ্রিকা), ক্রাকভ (পোল্যান্ড), সিউল (দক্ষিণ কোরিয়া), প্যারিস (ফ্রান্স), এথেন্স (গ্রিস), মেক্সিকো সিটি (মেক্সিকো), রিও ডি জেনিরো (ব্রাজিল), ভ্যাঙ্কুভার (কানাডা) ও ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া)। এই গবেষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে, আধুনিক তরুণেরা শুধু অন্ধের মতো ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটছেন না। তাঁরা এমন এক নগরায়ণ চান, যেখানে তাঁরা কাজ, সংস্কৃতি, মানসিক সুস্থতা ও বিনোদনের মাঝে সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন।
সূত্র: ইউরো নিউজ, টাইম আউট

আজ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬। আজ আকাশের তারাগুলো নাকি বেশ ব্যস্ত। কেউ আপনার পকেটের দিকে তাকাচ্ছে, কেউ প্রেমের দিকে, আবার কেউ আপনার মেজাজের দিকে! গ্রহ-নক্ষত্রের গোপন বৈঠক শেষে ১২ রাশির জন্য আজকের বার্তা—জীবনটা একটু আমের মতো মিষ্টি, আবার একটু কাঁঠালের মতো কাঁটাওয়ালা।
৩ ঘণ্টা আগে
মুভি স্টাররা কী করেন, কী খান, কী পরেন—এসব নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। সোনম কাপুরের জীবনযাপন এখন বেশ আলোচনায় আছে। ফলে এই বলিউড অভিনেত্রী ও স্টাইল আইকনের খাবারদাবার নিয়ে ভক্তদের জানার ইচ্ছা স্বাভাবিক। ফ্যাশনেবল সব পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে খাবার টেবিলেও তো নজর রাখতে হয় তাঁকে! তাঁর খাবার সুষম...
৬ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীতে ভ্রমণপিয়াসিদের আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্য অ্যান্টার্কটিকা। এর হিমশীতল সৌন্দর্য দেখার ইচ্ছা ছিল। বরফ, নীরবতা আর অসীম এক আদিম প্রান্তরের এই চির হিম মহাদেশকে বাংলাদেশ থেকে স্পর্শ করা প্রায় অলৌকিকই মনে হতো।
১২ ঘণ্টা আগে
সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বেশির ভাগই জলকেন্দ্রিক। তারই একটি রাতারগুল জলাবন। অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখার জন্য উপস্থিত হই সেখানে। প্রথম গন্তব্য সিলেট।
১৪ ঘণ্টা আগে