বলিউডে চোখ রাখলে দেখা যায়, ৪০ বা ৫০ পেরিয়েও অনেক অভিনেত্রীর ত্বক থাকে একদম টান টান ও উজ্জ্বল। অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, এ বয়সেও কীভাবে তাঁরা তারুণ্যের দ্যুতি ধরে রাখেন! এর মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কোলাজেন নামের একটি প্রোটিনের ভেতর।
কোলাজেন আসলে আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক প্রোটিন, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে এবং চামড়া ঝুলে পড়া রোধ করে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেন উৎপাদনের হার কমে যায়। এ ছাড়া, দূষণ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবেও এটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অকালেই চেহারায় বলিরেখা ও বয়সের চাপ পড়ে। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু ফল যুক্ত করে খুব সহজে শরীরে কোলাজেনের মাত্রা বাড়ানো যায়।
‘কোলাজেন ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, আর্দ্রতা ধরে রাখে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং বলিরেখা কমিয়ে বয়সের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে। ফলের ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেন উৎপাদনে সরাসরি সাহায্য করে। এটি ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার পাশাপাশি হাড় ও জয়েন্টের উপকার করে এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে ত্বকের ক্ষতি রোধ করে।’
ডা. তাহরিয়াত আহমেদ শরীফ, সহকারী রেজিস্ট্রার, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকার কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল
জেনে নিন কোন কোন ফল খেলে ত্বকের লাবণ্য বাড়ে—
আমলকী
ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ আমলকী ভিটামিন ‘সি’র ভান্ডার হিসেবে সুপরিচিত। এটি শরীরের টক্সিন বের করে ত্বকের গভীর স্তরে কোলাজেন তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায়। নিয়মিত আমলকী খেলে ত্বক ও চুল উভয়ই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকে।
আনারস
আনারসে ব্রোমেলেন নামক উপাদান থাকে, যা ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে। এটি কোলাজেনকে সিন্থেসাইজ করতে সাহায্য করে, যাতে ত্বক দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে। নিয়মিত আনারস খেলে ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়।
স্ট্রবেরি ও বেরি
স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করে এবং ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালস থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখে।
বেদানা
বেদানা কেবল রক্তই বাড়ায় না, এতে থাকা এলাজিক অ্যাসিড কোলাজেন ভেঙে যেতে বাধা দেয়। এটি ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে একধরনের গোলাপি আভা তৈরি করে। বয়সের ছাপ লুকাতে বেদানা খুবই কার্যকরী।

কমলা ও মাল্টা
সাইট্রাস জাতীয় এই ফলগুলো ভিটামিন ‘সি’র গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা সরাসরি কোলাজেন সংশ্লেষণে অংশ নেয়। এটি ত্বকের টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করে। প্রতিদিন একটি কমলা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ভেতর থেকে বৃদ্ধি পায়।
আঙুর
আঙুরের খোসায় থাকা রেসভেরাট্রল এক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কোলাজেন নষ্টকারী এনজাইমগুলোকে রুখে দেয়। এটি সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক রক্ষা করে অকাল বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে। লাল বা কালো আঙুর ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখতে বিশেষ উপকারী।
পেয়ারা
পেয়ারা কোলাজেন বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও জিংক থাকে। জিংক কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে এবং ত্বকের ছোটখাটো ক্ষতি সারিয়ে তোলে। পেয়ারা খেলে ত্বকের টেক্সচার উন্নত ও টান টান হয়।
লেবু
প্রতিদিন সকালে লেবুপানি পান করলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ পৌঁছায়, যা কোলাজেন ভেঙে যেতে বাধা দেয়। এটি ত্বকের পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে এবং ব্রণ বা ফুসকুড়ি হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

কিউয়ি
কিউয়িতে কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন ‘সি’ এবং প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি ত্বকের কোলাজেন আঁশকে মজবুত করে এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে তারুণ্য দীর্ঘস্থায়ী করে। যাঁরা ঝুলে যাওয়া চামড়া টান টান করতে চান তাঁদের জন্য কিউয়ি আদর্শ।
পেঁপে
পেঁপেতে থাকা প্যাপাইন এনজাইম ত্বকের মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে। এটি ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’তে ভরপুর, যা কোলাজেন বুস্টার হিসেবে কাজ করে ত্বক সজীব রাখে। নিয়মিত পেঁপে খেলে অকাল বলিরেখা হওয়ার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে যায়।
সতর্কতা
ড. তাহরিয়াত আহমেদ শরীফ বলেন, ‘কিছু বিষয়ে সতর্ক না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত কোলাজেনসমৃদ্ধ খাবার খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। কোনো ফলে অ্যালার্জি আছে কি না, তাও দেখে নিতে হবে।’ তিনি আরও জানান, কেবল ফল খেলেই চলবে না; কোলাজেন ধরে রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাও সমান জরুরি। কারণ অতিরিক্ত চিনি কোলাজেনের গঠন নষ্ট করে দেয়।
যে মৌসুমে কোলাজেনসমৃদ্ধ ফলগুলো হাতের কাছে পাবেন, সেগুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এমন নয় যে, সব সময় বেশি দামে বিদেশি ফল খেতে হবে। দেশীয় মৌসুমি ফলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত সেগুলো খাওয়ার চেষ্টা করুন।

মানুষের আচরণ তাঁকে অন্যের সামনে তুলে ধরে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অতি সাধারণ কিছু আচরণগত পরিবর্তন কীভাবে অন্যের চোখে আমাদের গুরুত্ব এবং ব্যক্তিত্বকে আমূল বদলে দিতে পারে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। অনেকে এই বিষয়গুলোকে বাহ্যিক বা অগভীর মনে করতে পারেন। কিন্তু সত্য এটাই, আমাদের অবচেতন সংকেতগুলো যদি ভুল
৪ ঘণ্টা আগে
ব্যর্থতা বা আলসেমিকে ঢাকার জন্য আমরা অজান্তেই অসংখ্য অজুহাত তৈরি করি। আপনি আপনার লক্ষ্য ছুঁতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করে অজুহাতগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, নাকি সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। অজুহাত চিনে নেওয়াটাই হলো সেগুলো কাটিয়ে ওঠার প্রথম ধাপ। আপনি অজুহাতগুলোকে মেনে নেবেন, নাকি সেগুলোকে পাশ কাটিয়
৬ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের ইতিহাসে ট্রেন এক আলাদা আবেগের নাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্লেন, বাস কিংবা ক্রুজ জনপ্রিয় হলেও ট্রেন ভ্রমণের আবেদন কখনোই ফিকে হয়নি। বিশেষ করে প্রকৃতির মাঝ দিয়ে ধীরগতির যাত্রা, জানালার পাশে বসে দৃশ্য উপভোগ আর ট্রেনের ছন্দময় শব্দ অনেকের কাছে নিখাদ আনন্দ। পাহাড়, বন, হিমবাহ কিংবা ঐতিহাসিক শহরের ভেতর
৮ ঘণ্টা আগে
ছোটবেলা থেকে আমরা শিখেছি, হার না মানাই হলো বীরত্ব। লড়াই করে টিকে থাকাই হলো বুদ্ধিমত্তা। কিন্তু জীবন যখন বিশ বা ত্রিশের কোঠা পেরিয়ে আরও সামনে যায়, তখন সংজ্ঞাটুকু পাল্টে যায়। সত্যিকারের বুদ্ধিমান মানুষেরা একসময় বুঝতে পারেন, প্রতিটি যুদ্ধ জেতার জন্য নয়, কিছু জয় আসলে পরাজয়ের চেয়েও গ্লানিকর।
১০ ঘণ্টা আগে