
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহারে বিরত থাকার ফলে আমাদের শরীর ও ত্বক পানিশূন্যতায় ভোগে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে শুধু যে তৃষ্ণা পায় তা নয়। এর সঙ্গে ক্লান্তি, তীব্র মাথাব্যথা, ত্বকের রুক্ষতা, পেশিতে টান এবং এমনকি রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই পবিত্র মাসে সুস্থ থাকতে এবং ত্বকের সজীবতা বজায় রাখতে শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট নয়। এ সময় খাদ্যতালিকায় উচ্চ পানিপূর্ণ খাবার রাখা অপরিহার্য। পুষ্টিবিদদের মতে, আমরা আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পানির একটি বড় অংশ বিভিন্ন ফল, সবজি ও তরল খাবার থেকে পেতে পারি।
ইফতারের আয়োজনে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তরমুজ। এই ফলটি হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। এতে ৯১ শতাংশ পানি থাকে এবং এটি অত্যন্ত কম ক্যালরিযুক্ত। তরমুজে থাকা ‘লাইকোপিন’ নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। স্ট্রবেরিতেও ৯১ শতাংশ পানি। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ বাঙ্গিতে ৯০ শতাংশ পানি থাকে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অন্যদিকে কমলায় ৮৭ শতাংশ পানি থাকে। এ ছাড়া গ্রেপফ্রুটে ৯১ শতাংশ পানি থাকে। এটি শরীরে ভিটামিন ‘সি’ ও পটাশিয়ামের জোগান দেয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কিডনিতে পাথর হওয়া রোধে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে শসার কোনো বিকল্প নেই। এই সবজিটিতে ৯৫ শতাংশ পানি উপস্থিত। এতে খুব সামান্য ক্যালরি থাকায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। টমেটোতে ৯৫ শতাংশ পানি থাকে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার ত্বককে ভেতর থেকে সুরক্ষা দেয়। ইফতারে সালাদ হিসেবে লেটুস পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। এই সবজিটিতে ৯৬ শতাংশ পানি। এতে থাকা ফোলেট গর্ভবতী মায়েদের জন্য জরুরি। আর ভিটামিন ‘কে’ হাড়ের সুরক্ষায় কাজ করে।

পানির বিকল্প হিসেবে দুধ অত্যন্ত কার্যকর। এতে পানির পরিমাণ ৮৯ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, কঠোর পরিশ্রম বা রোজা শেষে শরীরকে পুনরায় সতেজ বা রিহাইড্রেট করতে সাধারণ পানির চেয়ে দুধ বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ, এতে থাকা প্রোটিন ও ইলেকট্রোলাইট শরীরের তরল ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে। ইফতারে টক দই খাওয়া খুব উপকারী। এতে ৮৮ শতাংশ পানি। এটি শুধু পানিই জোগায় না, বরং ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের মাধ্যমে হাড়ের যত্ন নেয়। তবে চিনিযুক্ত ফ্লেভারড দইয়ের চেয়ে সাধারণ টক দই বেছে নেওয়া উচিত। কারণ, অতিরিক্ত চিনি হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া সেহরিতে বা ইফতারে নারকেলের পানি (৯৫% পানি) পান করলে শরীরের পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে।
ইফতারে ভাজাপোড়ার বদলে স্যুপ বা চিকেন ব্রথ খেতে পারেন। ৯৮ শতাংশ পানি থাকে। স্যুপ বা চিকেন ব্রথ দিয়ে খাবার শুরু করা শরীরের জন্য অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। এটি শুধু পানিশূন্যতাই দূর করে না, বরং মূল খাবারের আগে স্যুপ খেলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমে। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। আপনি স্যুপে প্রচুর পরিমাণে গাজর, ব্রকলি বা মাশরুম যোগ করে এর পুষ্টিমান আরও বাড়িয়ে তুলতে পারেন।
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পরও ত্বককে সতেজ এবং শরীরকে চনমনে রাখতে এই পানিপূর্ণ খাবারগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনাকে একটি সুস্থ ও আনন্দময় রমজান উপহার দিতে।
সূত্র: হেলথ লাইন

আজ আপনার উদ্যম থাকবে তুঙ্গে। এতটাই যে সাধারণ চা বানাতে গিয়ে উত্তেজনায় কফি, এমনকি তাতে ভুল করে লবণও মিশিয়ে ফেলতে পারেন। অফিসে বস আপনাকে কাজের পাহাড় দেবে, কিন্তু সেই পাহাড় ডিঙিয়ে মনে মনে এভারেস্ট জয়ের প্ল্যান করবেন। সহকর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না। কারণ, আজ আপনার লজিক ‘আইনস্টাইন’কেও হার...
২ ঘণ্টা আগে
ছোলা, মুড়ি আর আলুর চপ দিয়ে রোজ ইফতার করতে একঘেয়ে লাগলে বাজার থেকে অ্যাভোকাডো নিয়ে আসুন। এরপর তৈরি করুন স্যান্ডউইচ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৪ ঘণ্টা আগে
রমজান শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, এটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এবং আত্মিক নবায়নের এক অনন্য মাস। বছরের এই ৩০ দিন আমাদের রুটিন বদলে যায়, মন নরম হয় এবং আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। যদি আপনি দীর্ঘস্থায়ী কোনো ভালো অভ্যাস গড়তে চান, তবে রমজানই হলো তার শ্রেষ্ঠ সময়। একে বলা যেতে পারে আত্মার জন্য
১৮ ঘণ্টা আগে
রমজানের এই পবিত্র মাসে সুস্থ থাকতে সঠিক পানীয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মধ্যে অনেকে আছেন, যাঁরা সারা দিনে ঘন ঘন চা পান করেন। তাঁদের রমজান মাসজুড়ে অনেক বড় একটা সময় চা পান না করেই কাটাতে হয়। শুধু তাই নয়, অনেকে আছেন খুব বেশি চা পান না করলেও দিনে দুবার অন্তত তাঁদের আয়েশ করে দুই কাপ চা পান করতে হয়। তাঁদের...
২০ ঘণ্টা আগে