Ajker Patrika

হাত ও পায়ের পাতার একজিমা পমফোলিক্স; প্রাকৃতিক উপায়ে যেভাবে স্বস্তি পাবেন

ফিচার ডেস্ক
হাত ও পায়ের পাতার একজিমা পমফোলিক্স; প্রাকৃতিক উপায়ে যেভাবে স্বস্তি পাবেন

হঠাৎ করেই হাত বা পায়ের পাতায় তীব্র চুলকানি শুরু হলো, আর তারপরই দেখা দিল ছোট ছোট পানির মতো ফোসকা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পমফোলিক্স বা ডিসহাইড্রেটিক একজিমা। এই সমস্যাটি যেমন অস্বস্তিকর, তেমনই যন্ত্রণাদায়ক। আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ডিটারজেন্ট বা রাসায়নিকের ব্যবহার কিংবা অ্যালার্জির কারণে এই রোগটি তীব্র রূপ নিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে জরুরি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমাতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ঘরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান চমৎকার কাজ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক পমফোলিক্সের অস্বস্তি দূর করার কয়েকটি কার্যকরী প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে।

ঠান্ডা সেঁক দিন

পমফোলিক্সের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক হলো এর তীব্র চুলকানি। এই চুলকানি থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পেতে ঠান্ডা সেঁক বা কুল কমপ্রেস দারুণ কার্যকরী। একটি পরিষ্কার নরম সুতি কাপড় বরফ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর কাপড়ের অতিরিক্ত পানি নিংড়ে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে রাখুন। দিনে কয়েকবার এটি করলে ফোস্কার ভেতরের জ্বালাপোড়া শান্ত হয় এবং ফোসকা দ্রুত শুকিয়ে আসে।

ওটমিল গুঁড়োর ব্যবহার

ত্বকের যেকোনো ধরনের চুলকানি ও প্রদাহ কমাতে ওটমিল যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাধারণ ওটমিল ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে পাউডার বানিয়ে নিন। এবার এক গামলা হালকা গরম পানিতে এই ওটমিল পাউডার ভালো করে মিশিয়ে নিন। সেই পানিতে আপনার আক্রান্ত হাত বা পা ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। ওটমিলের প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের সুরক্ষা দেয় এবং চুলকানি কমিয়ে দেয়।

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি পমফোলিক্স নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ছবি: পেক্সেলস
প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি পমফোলিক্স নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ছবি: পেক্সেলস

খাঁটি নারকেল তেল

একজিমায় আক্রান্ত ত্বক খুব দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে, যা চুলকানিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে খাঁটি বা ভার্জিন নারকেল তেল পমফোলিক্সের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। নারকেল তেলের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে এবং ফোস্কা ফেটে গিয়ে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। হাত-পা ধোয়ার পর প্রতিবার সামান্য নারকেল তেল আলতো করে ম্যাসাজ করুন।

তাজা অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরার ঠান্ডা করার ক্ষমতা বা কুলিং ইফেক্ট পমফোলিক্সের ফোসকার কারণে হওয়া চামড়ার ভেতরের গরম ভাব ও জ্বালাপোড়া দ্রুত দূর করে। পাতা থেকে তাজা জেল বের করে সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। তবে বাজার থেকে কেনা সুগন্ধিযুক্ত বা অ্যালকোহল মেশানো অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো ত্বককে আরও খসখসে ও রুক্ষ করে তুলতে পারে।

পাতলা অ্যাপল সিডার ভিনেগার

ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে আপেল সিডার ভিনেগার সাহায্য করতে পারে। সমপরিমাণ পানি এবং অ্যাপল সিডার ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার একটি তুলার বল সেই মিশ্রণে ভিজিয়ে আলতো করে আক্রান্ত ত্বকে লাগান। তবে মনে রাখবেন, ফোসকা যদি ফেটে গিয়ে থাকে বা কাঁচা ঘা তৈরি হয়, তবে ভিনেগার ব্যবহার করবেন না। এতে জ্বালাপোড়া বেড়ে যাবে।

পমফোলিক্স মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা যা বারবার ফিরে আসতে পারে। ছবি: পেক্সেলস
পমফোলিক্স মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা যা বারবার ফিরে আসতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

জেনে রাখা ভালো

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি পমফোলিক্স নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, কোনো অবস্থাতেই ফোসকাগুলো হাত দিয়ে চুলকে ফাটানোর চেষ্টা করবেন না। ফোস্কা ফেটে গেলে ভেতরের চামড়া উন্মুক্ত হয়ে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ঘরের কাজ করার সময় সরাসরি ডিটারজেন্ট, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড বা ক্ষারযুক্ত সাবান হাত দিয়ে ধরবেন না। প্রয়োজনে সুতির আস্তরণযুক্ত রাবারের গ্লাভস ব্যবহার করুন।

পমফোলিক্স মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা যা বারবার ফিরে আসতে পারে। প্রাকৃতিক উপায়ে এর অস্বস্তি কমানো সম্ভব হলেও, যদি লক্ষণগুলো খুব তীব্র হয়, ফোস্কা থেকে পুঁজ বের হয় কিংবা প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র: হেলথলাইন ও কামা আয়ুর্বেদা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত